প্রলুব্ধ ইশতিহার

শেখ হাফিজুর রহমান

অনিবার্য আত্মার আয়নায় অর্থহীন ওম খুঁজি

ঘুমের অতলান্তে

কুড়াই স্বপনীল অক্টোপাসের পুষ্পিত তনু

তারপর...

চোখের মণি ফুঁড়ে বেরিয়ে আসে নগ্ন আলো

দেখি মৃত্তিকার উদ্যানে বীভৎস মৃত্যুর মিছিল

রক্তেভেজা রাজপথের ললাট ছুঁয়ে নামে নিষিদ্ধ আঁধার।

ঋণ খেলাপির কুৎসিত মুখোশ দেখে দেখে

বুকের গহীনে জ্বলে পুড়ে অঙ্গার অবিশ্বাসের মেদ

প্রলুব্ধ ইশতিহারে জন্ম হয় অনাঘ্রাত ভূত-ভবিষ্যৎ

তাই দুঃস্বপ্নে কেটে যায় রাত।

আর নষ্ট জন্মের কাছে নতজানু হয়ে

ভিক্ষা চাই শানিত আগুন।

অর্থবহ না হোক

ইসতিয়াক আহমেদ হৃদয়

একটি পরিপূর্ণ শব্দ পেলে আমি ও স্বপ্নবান হবো।

অর্থবহ না হোক ; জীবন তো অদৃশ্য পাপের ঘোড়া।

পলাতক পাখির মতো একদিন ধরা দিতে হয়

শিকারীর ফাঁদে। বুকের ভেতর ধপ করে জ্বলে উঠে

সন্ধ্যার নীল আলো ; ধারকর্জ ধ্রুপদী জীবনপাত—

অনেক গল্প মরে যায় অভাবের অন্ধকার পেটে ।

তুমি মোনালিসার নিষ্পলক পোর্টেটে ধ্রুপদী ছন্দ।

আমি সক্রেটিসের হেমলকে খুঁজে নেওয়া সহজ মীমাংসা।

একটা পরিপূর্ণ শব্দ পেলে আমিও গড়ে তুলবো

স্বাস্থ্যবান জীবন!

একাকিত্ব

আলেয়া আরমিন আলো

এখন দিনগুলো বড়ো বেশি দীর্ঘ

দীর্ঘতম প্রতিটি রাত

সুদীর্ঘ অবসর!

একাকিত্বে ধূসররঙা আকাশ দেখি;

দেখি ভিন্ন ভিন্ন অবয়বে

মানুষের ব্যস্ত শহর!

নগরের বুকে ধোঁয়াটে সন্ধ্যা নামে

নিয়ন আলোয় ধীরে হাঁটে

নৈঃশব্দ্যহীন রাত্রিপ্রহর।

নিরাশ দুচোখে স্বপ্নেরা ঝুলে থাকে

স্মৃতির সুঁইসূতোতে

হৃদয় এঁফোড়ওঁফোড়।

ফেলানি

রেজা কারিম

ফেলানির কথা মনে থাকে যেন

কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে থাকা চাঁদ

শাহাদাতের অমিয় সুধা করেছে সে পান।

চাঁদের কলঙ্ক আছে কিন্তু ফেলানির নেই

আমাদের নেই, এদেশের নেই।

কলঙ্ক আছে তাদের, যারা মানুষের মুখোশ পরে ধোঁকা দেয়।

যাদের কোনো মায়াবতী মা নেই; নেই কোনো সুহাসিনী বোন

মার চোখে ছুঁড়ে দেয় বুলেট এসিড, বোনের মুখে ঢেলে দেয় বিষ।

কুলাঙ্গার তকমা নিয়ে যারা কামায় সুনাম

ভাইয়ের বুক ছিঁড়ে খায় কলিজার নানরুটি

তাদের শতভাগ কলঙ্ক পুরোটাই ত্রুটি।

ফেলানির কোনো কলঙ্ক নেই

শুক্লপক্ষে যার ভ্রমণবাহন আলোকিত তিথিতে চলে

পূর্ণিমার সাগরে অবগাহন হয়নিতো তার

নিমজ্জিত সে প্রতিবেশী সন্ত্রাসে।

প্রতিদিন, সপ্তাহে, মাসে, বছরে

কত প্রাণ ওরা কেড়ে নেয়, অকারণে অকাতরে

ওদের মানুষের বড় অভাব।

মনে থাকে যেন আমাদের শহিদদের কথা

যত ভাবে পান করা যায় শাহাদাতের কাওসার

সব রকমেই আমরা, আমাদের ভাইয়েরা,

বোনেরা প্রস্তুত থাকি।

আমাদের কাফেলা মিছিলে শ্লোগান দিতে দিতে

পার হয় সিরাতুল মুস্তাকিম।

মনে থাকে যেন ফেলানির কথা

আমার বোন সে

কাঁটাতারের বেড়ায় ঝুলে আমাদের বলে গেল

শকুনের বেষ্টনীতে ভালো থাকা কঠিন

ঘুমের ভান ধরলেও মৃত মনে করে ঠোকর দিতে পারে শরীরে।

হায়েনার মতো ক্ষুধাতুর দৃষ্টি

পত্রিকার পাতা ভরে ফেলে লাশে

গুনতে গুনতে তার সংখ্যা এক আকাশ তারা হয়ে যায়।

মনে রেখো সব, মনে রাখা ভালো

অগণন ফেলানির উর্বর এ ভূমি

মরে গেলে সার হয়, মরুর বুকেও ভাসে সবুজ কানন।

হারিয়ে যাওয়া

তাসফিয়া আলম

হারিয়ে যাবার বড় সাধ জাগে,

দিগন্ত যেথায় মিশে।

মহাসাগরের উত্তাল ঢেউ-

ভাঙ্গে তীরে এসে।

মহাকাশের নক্ষত্র হতে দূরে,

যেথায় চোখের আড়াল।

সাধ জাগে আজ হারিয়ে যাবার,

সব দূরে ঠেলে দিয়ে হয়ে কাঙাল।

স্মৃতি আজ বিস্মৃতির অতল

তবু উঁকি দেয় মনে,

হারিয়ে যাওয়ার বেলায় কেন-

পিছুটানে বারে বারে ?

সাধ্য হয়নি আর হারিয়ে যাওয়ার;

সন্ধ্যারাগে সব পাখি যেমন নীড়ে ফিরে,

তেমনি আমিও ফিরে আসি অপরাগ হয়ে ,

ব্যস্ত হয়ে পড়ি জীবনের বাস্তবতার ভিড়ে।

অবদমিত ইচ্ছে

ফিরোজ শাহীন আলাল

কখনও অব্যক্ত প্রতিবাদ-

ঠিকরে উঠে অবদমিত ভাষায়

গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার

উত্তাপ আগুনের স্ফুলিঙ্গ দাউদাউ প্রজ্বলিত

পদদলিত আগুয়ান- অবদমিত ইচ্ছের পাপড়ি

ডানা মেলে ফিনিক্স পাখির মতোন

নির্লিপ্ত স্বপ্নডানা আকাশ ছুঁয়ে নীলিমা নীলে!

অবদমিত মেঘের খুনসুটি সূর্য আলো ছায়া

তীর্যক আলোয় বিমোহিত গোধূলি লগ্নে

স্বপ্নের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে আকাক্সক্ষার চোরাবালি

মরুগিরি প্রান্তর পেরিয়ে—

প্রজাপতি বর্ণীল ডানা পেখম মেলুক!