বগুড়ার আদমদীঘিতে নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত হওয়ার প্রায় ২২ ঘণ্টা পর উত্তরবঙ্গের সাথে সারা দেশের রেল যোগাযোগ পুনরায় স্বাভাবিক হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত শেষে ট্রেন চলাচল শুরু হয়।
এই দীর্ঘ সময়ে ৯ জোড়া ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়ায় ঈদে ঘরমুখো হাজার হাজার যাত্রী চরম ভোগান্তির শিকার হন।
বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চল সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার ফলে নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটের সাথে সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।
পঞ্চগড়-ঢাকা, নীলফামারী-খুলনা এবং রাজশাহী-নীলফামারী রুটের বরেন্দ্র ও তিতুমীর এক্সপ্রেসসহ অন্তত ১৮টি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটে।
শান্তাহার জংশনের অদূরে বাগবাড়ি এলাকায় ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় বিশাল সংখ্যক যাত্রী আটকা পড়েন। বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে যাত্রীদের প্রায় তিন কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে বা ছোট যানবাহনে করে পারাপার হতে হয়।
রেল কর্তৃপক্ষের সহায়তায় এক পাশের যাত্রীদের অন্য পাশের ট্রেনে তুলে দেওয়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মেকানিক্যাল, ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যাল ও অপারেটিং বিভাগের প্রধানদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ দুর্ঘটনার পেছনে ‘হিউম্যান ফেইলিয়র’ বা মানুষের দায়িত্বহীনতাকে দায়ী করেছেন।
তিনি জানান, ‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে কারও অবহেলার কারণে এই দুর্ঘটনা। তবে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে আসল দোষী চিহ্নিত হবে এবং কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আজ সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লাইন চলাচলের উপযোগী বা ‘ফিট’ ঘোষণা করা হয়। রেল কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের ছয়টি বগি बुरीভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ‘গ্রাউন্ডেড’ হয়ে পড়েছিল।
সেগুলো লাইন থেকে সরিয়ে মেরামত করা ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং, যার ফলে লাইন সচল করতে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়েছে।