কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার উপকূলে দেড় টন ওজনের একটি মৃত তিমি ভেসে ওঠার ঘটনায় স্থানীয়রা চরম উদ্বেগে রয়েছে। কয়েক দিন আগে সৈকতে ভেসে আসা তিমিটি বালুচরে পুঁতে রাখা হলেও জোয়ারের পানিতে বালু সরায় এর কিছু অংশ আবার দৃশ্যমান হয়েছে। পচনজনিত তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের এলাকায় অস্বস্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার রাতে দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়নের পশ্চিম উপকূলে মৃত তিমিটি ভেসে আসে। খবর ছড়িয়ে পড়লে কৌতূহলবশত স্থানীয়রা সৈকতে ভিড় করেন। অনেকেই ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন। পরদিন রোববার রাতে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে খননযন্ত্র ব্যবহার করে তিমিটি পুনরায় পুঁতে ফেলা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, তিমিটির ওজন প্রায় দেড় টন।

দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ জানান, জোয়ারের তীব্র স্রোতে বালু সরায় সোমবার থেকে তিমির কিছু অংশ পুনরায় দৃশ্যমান হয়। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) আরও বড় অংশ ভেসে ওঠে। এরই মধ্যে পচে যাওয়া তিমি থেকে অসহনীয় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, দ্রুত তিমিটি পুনরায় পুঁতে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, উপকূলে এত বড় তিমি ভেসে আসা বিরল ঘটনা।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কুতুবদিয়া উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, তিমিটি কী কারণে মারা গেছে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা প্রয়োজন। কারণ নির্ধারণ করা গেলে সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টিও স্পষ্ট হবে।

তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, শুক্রবার (১৩ মার্চ) সন্ধ্যা পর্যন্ত বন বিভাগ, মৎস্য বিভাগ, পরিবেশ অধিদপ্তর বা উপজেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যাননি। কুতুবদিয়ার সদ্য পদোন্নতি পাওয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অন্যত্র বদলি হয়ে গেছেন এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ছুটিতে রয়েছেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, কুতুবদিয়ার সৈকতে একটি মৃত তিমি ভেসে আসার তথ্য তারা পেয়েছেন। তবে তিমিটির মৃত্যুর কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি জানান, দুর্গম এলাকা হওয়ায় সেখানে তাদের স্থায়ী কোনো কর্মকর্তা নেই। তবু বিষয়টি সমন্বয়ের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় মৎস্যজীবীরা বলছেন, পচন ধরলে তিমির দেহ থেকে তীব্র দুর্গন্ধের পাশাপাশি জীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।

কুতুবদিয়া উপজেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীন বলেন, দ্রুত তিমিটি কেটে টুকরো করে গভীরভাবে পুঁতে ফেলতে না পারলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

প্রসঙ্গত, প্রায় দুই বছর আগে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে তিন মেট্রিক টন ওজনের দুটি মৃত তিমি ভেসে আসে। তখন জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে খননযন্ত্র দিয়ে তা পুঁতে ফেলা হয়। কুতুবদিয়ার মতো দ্বীপাঞ্চলে ভারী যন্ত্রপাতি নেওয়া কঠিন হওয়ায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় জটিলতা তৈরি হয়েছে।