চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে জামায়াত প্রার্থী ড. কেরামত আলীর নির্বাচনী অফিসে হামলা ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তাছাড়া বরগুনার পাথরঘাটায় দাঁড়িপাল্লার প্রচারণায় বাধা ও নারী হেনস্তার অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন এবং সীতাকু-ে সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কাছে দাঁড়িপাল্লার প্রচারণা করায় বিএনপি কর্মীদের দ্বারা নারী কর্মীদের হেনস্তার অভিযোগ করেছে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের নেতৃবৃন্দ।

শিবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংবাদদাতা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবগঞ্জের নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের হরিনগর ময়েজ মোড়ে দাঁড়িপাল্লার নির্বাচনী অফিসে গত বুধবার রাতে সন্ত্রাসী দ্বারা বোমা হামলা ও ব্যানার পোড়ানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ড. কেরামত আলী বলেন, আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, ক্রমাগত হামলা, ভাঙচুর, সন্ত্রাস ও বোমাবাজি করে জনগণকে ভয় দেখানো যাবে না। জনগণ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অচিরেই প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। জনগণের অন্তরে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে যে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে তা কোন ধরনের ভয়-ভীতি, হামলা করে রোখা যাবে না।

তিনি আরো বলেন, জনতার রায়কে যারা মানতে না পেরে এ ধরনের হীন সন্ত্রাসী কার্যক্রম বেছে নিয়েছেন, ১২ তারিখ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে জনগণ তার জবাব দিবে ।

পাথরঘাটা (বরগুনা) সংবাদদাতা : দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে প্রচারণায় বাধা প্রদান ও নারী হেনস্থার অভিযোগে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা বিভাগ।

গত মঙ্গলবার পাথরঘাটায় আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি ইরানী আক্তার।

লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, বরগুনা-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. সুলতান আহমদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে এবং গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে নারী ভোটারদের মাঝে দাওয়াত পৌঁছাতে গিয়ে বিএনপি ও ধানের শীষের সমর্থকরা জামায়াতের নারী কর্মীদের বিভিন্নভাবে বাধা দিচ্ছে, হেনস্তা করছে এবং ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।

তিনি বলেন, গত ২২ জানুয়ারি পাথরঘাটা উপজেলার নাপাড়া এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারণাকালে বিএনপি সমর্থকরা জামায়াতের নারী কর্মীদের পথরোধ করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং ধর্ষনের হুমকি দেয়। এতে কয়েকজন নারী কর্মী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ করা হয়।

সাংবাদিক সম্মেলনে আরও বলা হয়, একই দিন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বরইতলায় উঠান বৈঠকের দাওয়াত দিতে গেলে বিএনপি কর্মী সালাম শরীফ জামায়াতের এক নারী কর্মীকে গালিগালাজ ও হুমকি দেন। পরদিন তার নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি ওই নারী কর্মীর বাড়িতে হামলার চেষ্টা চালিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলেও অভিযোগ করা হয়।

এছাড়া ২৬ জানুয়ারি নাপাড়া ও পাথরঘাটা পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় প্রচারণাকালে জামায়াতের নারী কর্মীদের বাধা দেওয়া, গালিগালাজ এবং ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়। সাংবাদিক সম্মেলনে এসব ঘটনার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলেও দাবি করা হয়।

ইরানী আক্তার বলেন, “নারীরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ মত প্রকাশ ও ভোটারদের কাছে দাওয়াত পৌঁছানোর অধিকার রাখে। কিন্তু আমাদের মা-বোনদের যেভাবে হুমকি ও হেনস্তা করা হচ্ছে, তা গণতন্ত্র ও নারীর নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক।”

তিনি এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেশবাসীর কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানান তিনি।

সাংবাদিক সম্মেলন শেষে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

‎ সীতাকু- (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : ‎সীতাকু-ে নির্বাচনী প্রচারণাকালে বিএনপি কর্মীদরে দ্বারা মাহিলা কর্মীদের ধারাবাহিক হেনস্তার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীরা। এক সপ্তাহে পাঁচটি পৃথক ঘটনায় হেনস্তার শিকার হওয়ার অভিযোগে গত বুধবার বিকেলে সীতাকু- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার ফখরুল ইসলামের কাছে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।

‎লিখিত অভিযোগে নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে।

‎উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের নির্বাচনী পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ তাহেরের স্বাক্ষরিত অভিযোগপত্রে একের পর এক হেনস্তার ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। অভিযোগ উপস্থাপনের সময় সহকারী রিটার্নিং অফিসারের সামনে ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে নারী কর্মীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নারী কর্মীদের জন্য একটি নিরাপত্তাহীন পরিবেশ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর ফলে তারা চরম আতঙ্কে ভুগছেন এবং স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনায় মারাত্মক বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

‎অভিযোগে প্রতিটি ঘটনার দ্রুত তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট এলাকায় নারী কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা কামনা করা হয়েছে।

‎এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং অফিসার ফখরুল ইসলাম বলেন, প্রশাসন শতভাগ নিরপেক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করবে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।