ই-করপোরেট কর রিটার্ন প্রবর্তন ও ভ্যাট আদায়ে জাতীয় মোবাইল অ্যাপ প্রবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একইসঙ্গে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা, সারচার্জ ধাপে ধাপে বাদ দেওয়া, আমানতের সুদে উৎসে কর হ্রাস, অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিয়মিত করপোরেট করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ এবং তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রে উৎসে কর কর্তনের হার (টিডিএস) কমিয়ে আগের মতো ৫ শতাংশ নির্ধারণ করার প্রস্তাব দিয়েছে সংগঠনটি।
গতকাল বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট প্রণয়নে প্রাক-বাজেট আলোচনায় সংগঠনটির পক্ষে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়। সংগঠনটির পক্ষে প্রস্তাব তুলে ধরেন ডিসিসিআইয়ের সেক্রেটারি জেনারেল (ভারপ্রাপ্ত) ড. একেএম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী।
সংগঠনটির পক্ষে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ৫ লাখ টাকা, সারচার্জ ধাপে ধাপে বাদ দেওয়া, আমানতের সুদে উৎসে কর হ্রাস করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
ডিসিসিআই বলছে, ই-করপোরেট কর রিটার্ন ব্যবস্থা চালু করে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহজ, স্বচ্ছ ও নিরাপদভাবে অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়া হোক।
এতে একটি সম্পূর্ণ সমন্বিত ডিজিটাল প্রক্রিয়া থাকবে, যা অন্যান্য করসেবার সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ায় অতিরিক্ত কাগজপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজন হবে না। প্রস্তাবিত প্ল্যাটফর্মে আপিল ও কর ফেরত (রিফান্ড) প্রক্রিয়াও বিইএফটিএনের মাধ্যমে ব্যাংক হিসাব স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হবে, ফলে সময় ও ব্যয় কমবে।
অটোমেটেড কর রিটার্ন পদ্ধতি বাস্তবায়নের ফলে করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য সময় এবং খরচ কমবে। এছাড়া, নিয়মিতভাবে এটি যাচাইকরণের ফলে ভুলের সম্ভাবনা কমে যাবে এবং রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে।
ডিসিসিআইয়ের প্রাক-বাজেট প্রস্তাবনায় বলা হয়, অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির নিয়মিত করপোরেট করহার সাড়ে ২৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা যেতে পারে। বিশেষ করে যারা ব্যাংকিং মাধ্যমে লেনদেন ও অন্যান্য কমপ্লায়েন্স পরিপালন করে তাদের জন্য এই হার কমিয়ে আনা উচিত।
এক্ষেত্রে ব্যয়ের শর্তটি শিথিল রেখে শুধু আয়ের শর্তটি পরিপালন করা উচিত। তবে অবশ্যই কোম্পানির সব ধরনের রাজস্ব বা প্রাপ্তি ব্যাংক ট্রান্সফার বা ডিজিটাল পেমেন্টের মাধ্যমে গ্রহণের শর্তআরোপ পরিপালন করতে হবে।
উৎসে কর নিয়ে ঢাকা চেম্বারের প্রস্তাবনায় বলা হয়, আয়কর আইনের ধারা ১০৬ এর অধীন শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি অনুমোদিত সিকিউরিটিজের সুদ হতে উৎসে কর কর্তনের হার (টিডিএস) আগের মতো ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা যেতে পারে। একইসঙ্গে এটি উৎসে করের আওতা থেকে সম্পূর্ণ আওতামুক্ত করা উচিত।
সংগঠনটি আরও জানায়, যদি উৎস কর্তিত কর নির্ধারিত চূড়ান্ত কর দায় অপেক্ষা অধিক হয়, তাহলে করদাতার ইচ্ছানুযায়ী পরবর্তী করবর্ষে ক্যারি ফরোয়ার্ড করে সমন্বয় করা অথবা বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে (সর্বোচ্চ ৯০ দিন) রিফান্ড গ্রহণ করা যাবে। তবে একই অর্থের ক্ষেত্রে উভয় সুবিধা গ্রহণযোগ্য হবে না।
ঢাকা চেম্বার মনে করে, শর্ত সাপেক্ষে অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করপোরেট করহার কমানো হলে এবং সিকিউরিটিজ সুদে উৎসে কর কমানো ও অতিরিক্ত কর্তিত করের রিফান্ড বা সমন্বয় সুবিধা দেওয়া হলে দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা বাড়বে। বর্তমানে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির সংখ্যা ৩৫০টি।
উপরের সিদ্ধান্ত দুটি বাস্তবায়িত হলে অ-তালিকাভুক্ত আরও অনেকগুলো কোম্পানি তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী হবে।