সড়ক নিরাপত্তা জোরদার এবং সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ‘রোড ক্র্যাশের তথ্য সংগ্রহ, সংশোধন ও পরিশোধন প্রক্রিয়ার মানোন্নয়ন’ শীর্ষক একটি প্রশিক্ষণ কর্মশালা আয়োজন করেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিআইজিআরএস) কর্মসূচির আওতায় এবং ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের সহায়তায় বৃহস্পতিবার নগরীর দামপাড়ায় সিএমপি সদর দপ্তরে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

সিএমপির রোড সেফটি সেলের সদস্যদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত এ কর্মশালার উদ্বোধন করেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার সঠিক ও নির্ভুল তথ্য সংগ্রহ এবং তা যথাযথভাবে রিপোর্ট করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে পুলিশ সদস্যরা ভবিষ্যতে আরও নির্ভুলভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম হবেন। এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হবে, যা সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কর্মশালায় বিআইজিআরএস চট্টগ্রামের সার্ভেইল্যান্স কোঅর্ডিনেটর এবং বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ মূল প্রশিক্ষক হিসেবে বিভিন্ন সেশন পরিচালনা করেন। তিনি রোড ক্র্যাশের তথ্য সংগ্রহ পদ্ধতি, অ্যাকসিডেন্ট রিপোর্ট ফর্ম (এআরএফ) সঠিকভাবে পূরণ, তথ্য সংশোধন ও পরিশোধনের কৌশল বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে এআরএফ ফরম কাগজ-কলমে ও অনলাইনে লিপিবদ্ধ করার পদ্ধতি তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি সংগৃহীত তথ্যের সঠিকতা যাচাই, ত্রুটি শনাক্তকরণ এবং সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়। কর্মশালার শেষ পর্যায়ে পূর্বে বিভিন্ন থানায় পূরণ করা এআরএফ ফরম বিশ্লেষণ করে সাধারণ ভুলগুলো চিহ্নিত করা হয়। ব্যবহারিক অনুশীলনের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যরা এসব ভুল শনাক্ত ও সংশোধনের অনুশীলন করেন।

কর্মশালায় সিএমপির রোড সেফটি সেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ কমিশনার নুরুল ইসলাম সিদ্দিকসহ পুলিশ পরিদর্শক, সহকারী পুলিশ পরিদর্শক, সার্জেন্ট এবং নগরীর ১৬টি থানার অপারেটররা অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও বিআইজিআরএস চট্টগ্রামের এনফোর্সমেন্ট কোঅর্ডিনেটর কাজী হেলাল উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা সংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনায় আধুনিকতা ও নির্ভুলতা বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, যা সামগ্রিকভাবে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।