তৃতীয় দিনের মতো সচিবালয়ে তার কার্যালয়ে অফিস করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল রোববার সকাল ৯টা ৫ মিনিটে তিনি অফিসে আসেন। সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর অফিসে নির্দিষ্ট সময়ে পৌঁছে সবাইকে অবাক করে দেন তারেক রহমান। সেই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে সবাইকে অফিসে উপস্থিত থাকার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগেও তিনি ৯টার কিছু পরে সচিবালয়ে নিজ দফতরে প্রবেশ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, গুলশানের বাসা থেকে প্রধানমন্ত্রী রওনা হয়ে সকাল ৯টা ৫মিনিটে সচিবালয়ে পৌঁছান। অফিসে এতো সকালে প্রধানমন্ত্রীকে অফিসে দেখে অনেকে অভিভূত হয়েছেন। তিনি বলেন, একজন সাংবাদিক সকাল ৯টা ২০ মিনিটে তার ফেসবুকে স্ট্যাটাস বলেন প্রধানমন্ত্রীর অফিসে আসার ছবি তোলার জন্য অপেক্ষা করছি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী যে ১৫ মিনিট আগেই সচিবালয়ে প্রবেশ করেছেন, সেটা উনি (ওই সাংবাদিক) জানেন না।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, সচিবালয়ে অফিসে এসে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী-উপদেষ্টারা কারা কারা অফিসে এসেছেন তার খোঁজ-খবর নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন যাতে নির্দিষ্ট সময়ে সকলে অফিসে উপস্থিত হন।

দেশের ১৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরদিন ১৮ ফেব্রুয়ারি সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা এবং শেরে বাংলা নগরে বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করে সচিবালয়ে প্রথম অফিস করেন তিনি। ১৯ ফেব্রুয়ারিও সচিবালয়ে দাপ্তরিক কাজ করেন তিনি। মাঝে শুক্রবার সরকারি ছুটি কাটান। সর্বশেষ শনিবার ছুটির দিনেও তেজগাঁও কার্যালয়ে অফিস করেন তারেক রহমান। মূলত প্রশাসনিক কাজে গতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ছুটির দিনে শনিবারেও দাপ্তরিক কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে গতকাল সাক্ষাৎ করেছেন সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়াহ। সকালে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে রাষ্ট্রদূতের এই সাক্ষাৎ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহন করায় রাষ্ট্রদূত তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সাক্ষাতে দুই দেশে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছেন, বাংলাদেশ-সৌদি আরব বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে নতুন উচ্চতায় উন্নীত হবে। সাক্ষাতের সময়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

অন্যদিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালুর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেন। বৈঠক শেষে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী থার্ড টার্মিনাল দ্রুত চালুর বিষয়ে আন্তরিক এবং এ নিয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী চেষ্টা করছেন যেন সামনে টার্মিনালটি চালু করা যায়। এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

থার্ড টার্মিনাল কবে নাগাদ চালু হতে পারে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, নির্দিষ্ট সময়সীমা এখনই বলা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, এখন আলোচনা হবে, প্রয়োজন হলে তদন্ত হবে। কীভাবে দ্রুত চালু করা যায়, সে বিষয়েই কাজ চলছে। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময় বলা যাচ্ছে না।

মন্ত্রী আরও জানান, থার্ড টার্মিনাল নিয়ে বেশ কিছু সুপারিশ রয়েছে। কিছু অংশে কাঠামোগত পরিবর্তন প্রয়োজন হতে পারে, পাশাপাশি নেটওয়ার্কসংক্রান্ত কিছু সমস্যাও ছিল। প্রকল্পের ৯৯ শতাংশের বেশি কাজ সম্পন্ন হলেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি।

কেন এত অগ্রগতি সত্ত্বেও টার্মিনাল চালু হয়নি এমন প্রশ্নের জবাবে আফরোজা খানম বলেন, বিষয়টি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার। তবে বর্তমান সরকার দ্রুত চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে এবং প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিকসহ অন্যান্য মন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন।