# দুর্ঘটনা বেড়েছে ৮.৯৫%
এবারের ঈদে ১৫ দিনের যাত্রায় সারাদেশে ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৮৮ জন আহত হয়েছে; যা গত বছরের রোজার ঈদের তুলনায় ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ বেশি বলে জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। গতকাল সোমবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য তুলে ধরেন সংগঠনের মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গতবার একই সময়ে ৩১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত ও ৮২৬ জন আহত হয়েছিল। তার মানে প্রাণহানি বেড়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ; আর আহত ২১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে।
মোজাম্মেল হক বলেন, এবার সড়ক-মহাসড়কে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত এবং এক হাজার ৪৬ জন আহত হয়েছে। একই সময়ে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত এবং ২২৩ জন আহত হয়েছে। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছে। সংবাদমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণ করে যাত্রী কল্যাণ সমিতির সড়ক দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়।
সংগঠনটি বলছে, চলমান ইরান-ইসরাইল যুদ্ধে গত ১৫ দিনে হতাহতের সঙ্গে তুলনা করলে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি।
প্রতিবেদন বলা হয়েছে, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। ঈদযাত্রায় ১২৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৫ জন নিহত ও ১১৪ জন আহত হয়েছে; যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৬ দশমিক ১২ শতাংশ, নিহতের নিরিখে ৩৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ এবং আহতের নিরিখে ১০ দশমিক ৮৯ শতাংশ প্রায়।
দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ করে যাত্রী কল্যাণ সমিতি দেখতে পেয়েছে, মোট যানবাহনের ২৭ দশমিক ১৬ শতাংশ মোটরসাইকেল, ১৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ ট্রাক-কভার্ডভ্যান, ১৬ দশমিক ২২ শতাংশ বাস, ১৫ দশমিক ২৮ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, ৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ কার-মাইক্রো, ৭ দশমিক ৭৩ শতাংশ নছিমন-করিমন এবং ৭ দশমিক ৩৫ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিল। দুর্ঘটনার ৩৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ পথচারীকে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ২২ দশমিক ২৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ার ঘটনায়, দশমিক ৫৭ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনে, দশমিক ৫৭ শতাংশ চাকায় ওড়না পেচিয়ে এবং ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ দুর্ঘটনার কারণ জানা সম্ভব হয়নি বলে ভাষ্য যাত্রী কল্যাণ সমিতির।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে সংগঠিত হয়েছে। বাকি দুর্ঘটনা আঞ্চলিক মহাসড়ক, রেল ও নৌপথে সংঘটিত হয়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদ ব্যবস্থাপনা সভায় লাখো যাত্রীদের পক্ষে কথা বলার মত যাত্রী ও নাগরিক সমাজের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। এবারের ঈদে বাস মালিক সমিতি এবং শ্রমিক ফেডারেশনের প্রভাবের কারনে ভাড়া নৈরাজ্য ও সড়ক দুর্ঘটনা, পরিবহনের বিশৃঙ্খলা অতীতের দুটি ঈদের তুলনায় বেড়েছে। সরকারের মনিটরিং ব্যবস্থা ছিল বাস মালিক সমিতি নিয়ন্ত্রিত।
তথ্য বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনার কিছু কারণ খুঁজে পেয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। এর মধ্যে রয়েছে, সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশার অবাধ চলাচল, মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং না থাকা, সড়কবাতি না থাকা, রেলক্রসিংয়ে হঠাৎ বাস উঠে আসা, সড়কে বিভাজক না থাকা, অন্ধবাঁকে গাছপালার কারণে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, অদক্ষ চালক, ফিটনেসহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন, বেপরোয়া যানবাহন চালানো এবং চালকেরর অতিরিক্ত সময় ধরে যানবাহন চালানো।
দুর্ঘটনার প্রতিরোধে সড়কে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, ভাড়া আদায়ে স্মার্ট পদ্ধতি চালু করা, মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিকশা আমদানি ও নিবন্ধন বন্ধ করা, জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতের বেলায় অবাধে চলাচলের জন্য আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা, দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ, ডিজিটাল পদ্ধতিতে যানবাহনের ফিটনেস প্রদান, গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে সার্ভিস লেইনের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি।