বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান আজ বৃহস্পতিবার থেকে নির্বাচনী প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করছেন। এই সফরের সূচনা হবে ঢাকা-১৫ আসনে একটি জনসভার মাধ্যমে। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে চার দিনের বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোকারম হোসাইন, শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুর রহমান, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন প্রমুখ। প্রথম দফার সফরে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা এবং ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ আসনসমূহে জনসভা ও গণসংযোগ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ব্রিফিংএ জামায়াতের আমীরের দেশব্যাপী নির্বাচনী সফরের আনুষ্ঠানিক পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। এডভোকেট জুবায়ের বলেন, এই সফরের সূচনা হবে ঢাকা-১৫ আসন থেকে এবং পরবর্তী চার দিনের একটি বিস্তারিত সময়সূচী প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা এবং ঢাকার একাধিক আসনে জনসভার আয়োজন অন্তর্ভুক্ত। নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের জন্য নির্বাচন কমিশন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়াও, অবশিষ্ট আসনসমূহে প্রার্থী চূড়ান্তকরণের প্রক্রিয়া, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে দলের অবস্থান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক 'হাবুট'-এর প্রচারণামূলক সামগ্রী অপসারণ সংক্রান্ত একটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। দলটি আশা করছে যে প্রশাসন শীর্ষ নেতার সফরের সময় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
নির্বাচনী সফরের বিস্তারিত সময়সূচি
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আমীরে জামায়াতের দেশব্যাপী সফরের প্রথম চার দিনের কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই কর্মসূচি ঢাকা থেকে শুরু হয়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা প্রদক্ষিণ করে পুনরায় ঢাকায় এসে সমাপ্ত হবে।
২২ তারিখ (ঢাকা): ঢাকা-১৫ আসনে দিনব্যাপী গণসংযোগ ও জনসভার মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। বেলা ২:৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিতব্য এই জনসভায় আমীরে জামায়াত এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন। একই দিনে সারাদেশে দলের অন্যান্য প্রার্থীরাও আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন।
২৩ তারিখ (উত্তরবঙ্গ সফর - প্রথম দিন): আমীরে জামায়াত ঢাকা থেকে উত্তরবঙ্গের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন।
পঞ্চগড়: সকাল ১১টায় জনসভার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে।দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও: পঞ্চগড়ের পর এই দুই জেলায় জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।
রংপুর: সন্ধ্যায় রংপুরে জনসভার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শেষ হবে এবং তিনি সেখানে রাত্রিযাপন করবেন। এই জেলা শহরগুলোর পাশাপাশি যাত্রাপথে গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও শহরগুলোতেও তিনি জনগণের সাথে মতবিনিময় করবেন।
২৪ তারিখ (উত্তরবঙ্গ সফর - দ্বিতীয় দিন):
সফরের শুরুতে তিনি "২৪ এর বিপ্লবের সিপাসালার" হিসেবে উল্লিখিত শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে যাবেন, তার কবর জিয়ারত করবেন এবং পরিবারের সাথে মতবিনিময় করবেন। এরপর গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে সকাল ১০টায়, বগুড়া শহরে দুপুর ১২-১টায়, বগুড়া শেরপুরে, সিরাজগঞ্জ জেলা শহরে এবং উল্লাপাড়ায় বিকাল ৩টায় জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। দিনের সফর শেষে সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে তিনি পাবনায় পৌঁছাবেন।
২৫ তারিখ (ঢাকা): আমীরে জামায়াত ঢাকা মহানগরের ৫, ৬ এবং ৭ নম্বর আসনে তিনটি জনসভায় অংশগ্রহণ করবেন। সভাগুলো যথাক্রমে দুপুর ১২টা, বিকাল ৩টা এবং সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।
পরবর্তী সফরের কর্মসূচি স্থানীয় সংগঠনগুলোর সাথে আলোচনার পর শীঘ্রই ঘোষণা করা হবে।
নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ ও গৃহীত পদক্ষেপ
দলের শীর্ষ নেতার দেশব্যাপী সফর এবং গুরুত্বপূর্ণ জনসভাগুলো উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষকে অবহিতকরণ: নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের বিভিন্ন বিভাগে চিঠি দিয়ে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্থানীয় পর্যায়ে যোগাযোগ: স্থানীয় রিটার্নিং অফিসার এবং স্থানীয় প্রশাসনকেও সফরের বিষয়ে অবহিত করে নিরাপত্তা ও সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
প্রত্যাশা: দলটি আশা করছে যে, প্রশাসন আমীরে জামায়াত ও অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সফরের গুরুত্ব অনুধাবন করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
প্রেস ব্রিফিংয়ে নির্বাচনী সফর ছাড়াও আরও কয়েকটি প্রাসঙ্গিক বিষয় আলোচনা করা হয়।
অবশিষ্ট আসনের প্রার্থী চূড়ান্তকরণ
কিছু আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এখনও চলমান। এই আসনগুলোর বিষয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিটির বৈঠক চলছে এবং আলোচনা শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন
দলটি মনে করে, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন হয় এমন কোনো কাজ কারোই করা উচিত নয়। সম্প্রতি ঘটা একটি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টিগোচর করা হয়েছে। দলটি আশা করে যে, সংশ্লিষ্ট দল এবং নির্বাচন কমিশন বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। তারা সকল দলকে নির্বাচনী আচরণবিধির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে।