পরিবার আর আত্মীয় স্বজনদের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে রাজধানী ঢাকা ছাড়ছেন অনেকে। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে সারা দেশে। তবে সকাল থেকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখো মানুষজন। ফলে ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের যাত্রায় বিঘ্ন ঘটছে।
বুধবার (২৭ মে) সাত সকালে রাজধানীতে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। হঠাৎ নামা বৃষ্টিতে চরম বিপাকে পড়েন তারা। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজধানী ছাড়ার সময় বৃষ্টিতে নাজেহাল অবস্থা। অনেকেই পিকআপে করে বৃষ্টিতে ভিজেই রাজধানী ছাড়ছেন।
গাজীপুরের দেড় হাজার পোশাক কারখানাসহ প্রায় আড়াইহাজার কারখানায় একযোগে ঈদের ছুটি ঘোষণা করা হয়। এতে দুপুরের পর থেকে ঘরমুখো লাখো মানুষ একসঙ্গে স্টেশনগুলোতে ভিড় করে। মানুষের সঙ্গে মহাসড়কে বাড়ে যানবাহনের চাপ। ফলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ভোগড়া বাইপাস থেকে চন্দ্রা হয়ে কালিয়াকৈর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকায় যানজট তৈরি হয়। ঢাকা থেকে রওয়ানা হয়ে চন্দ্রা পার হতে ৬-৭ ঘণ্টা লেগে যায়। বৃষ্টিতে দুর্ভোগ বাড়ে বহুগুণ। অনেক যাত্রীকেই দেখা যায় কাঙ্ক্ষিত গাড়ি না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক ও পিকআপে করে গন্তব্যে যেতে।
এদিকে আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসময় ঢাকার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।
এছাড়াও আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, আজ বুধবার রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একইসঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। তবে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
এদিকে ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, যশোর, কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল ও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া দেশের অন্যত্র পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।