৬৮ পাবনা-১ সাঁথিয়া আসনটিতে জামায়াত বিএনপি জোট থাকায় দীর্ঘদিন বিএনপির কোন প্রার্থী ছিলোনা। এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী এমপি এবং মন্ত্রী ছিলেন ৪ দলীয় জোটের সময়।সেই সুবাদে নিজামীর আচার-আচরণে, কাজকর্মে মুগ্ধ হয়ে বিএনপির অনেকেই জামায়াতের রাজনীতির সাথে মিশে গেছেন। বিএনপি নেতাকর্মীদের জামায়াতের রাজনীতির সাথে মিশে যাওয়ার আরো একটা বড় কারণ হচ্ছে ভিপি শামসুর রহমানের ব্যাপক চাঁদাবাজি, জমি দখল, বাসস্ট্যান্ড দখল, টেম্পু স্ট্যান্ড দখল, দলীয় কোন্দল এবং দীর্ঘদিন কমিটি বিহীন থাকাকেই মনে করছে এলাকাবাসী। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আওয়ামীলীগের দখলেই ছিলো এ আসন। আওয়ামীলীগ নেতা মেয়র বাতেনের সাথে মিশে আরাম-আয়েশেই চলছে শামসুর রহমান সাড়ে ১৫ বছর, কিন্তু নেতাকর্মীদের কোন খোঁজ খবর নিতেন না তিনি।

এই আসনটিতে ১টি উপজেলা মিলে মোট ১০টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা রয়েছে। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩,৪০,৯৩১ জন। নারী ভোটার রয়েছে ১, ৬৬,৪৯৪ জন, পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১,৭৪,৪৩৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ১ জন।

সাঁথিয়া আসনের ১০ টি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভা ঘুরে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে এবং অধিকতর জরিপে দেখা যায়, সাঁথিয়া আসনে মোট ৩,৪০,৯৩১ ভোট। ৭০% ভোট কাস্ট হলে ভোটের সংখ্যা হয় ২,৩৮,৬৫১ টা। ধানের শীষের প্রার্থী ভিপি শামসুর রহমান পাবে ৮০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৯০ হাজার ভোট। ডক্টর ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান মোমেন পাবে ১ লাখ ৪৮ হাজার থেকে ১ লাখ ৫৮ হাজার ভোট। কিছুটা কোম বেশি হতে পারে তবে ৫০ থেকে ৬০ হাজার ভোটের ব্যবধানেই জয়ী হবে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ডক্টর ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান মোমেন এমনটাই জানিয়েছেন সাঁথিয়াবাসী।

এতো বড় ভোটের ব্যবধান কেন হবে সাঁথিয়াবাসীর বিভিন্ন স্তরের লোকজনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর থেকে সাঁথিয়া উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপক চাঁদাবাজি, ভুমি দখল, মাদক বিক্রিসহ বিভিন্ন অপকর্মে ভিপি শামসুর রহমান এবং তার ভাই ও তার গুন্ডা বাহিনী সরাসরি জরিত। এখন পর্যন্ত দলীয় কোন্দলও ঠিকমতো মিটাতে পারেনি ভিপি শামসুর রহমান।সাঁথিয়া উপজেলা একক আসনের সরাসরি বিরোধিতা করেন শামসুর রহমান ও তার অনুসারীরা। শামসুর রহমান যেহুতু একক আসনের সরাসরি বিরোধিতা করেছে তাই সে এমপি হলে তো আবার বেড়ার সাথে সংযুক্ত করবে এই আসন।তাই সাঁথিয়ার মানুষ তাকে ভোট দিবেনা।

আবু সাইয়িদের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে এবং শামসুর রহমানের ব্যাপক চাঁদাবাজি এবং ভুমি দখলের কারণে ৬৮ পাবনা -১ সাঁথিয়া আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডক্টর ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান মোমেনের সাথে ন্যায় এবং ইনসাফের পথে কাজ করার জন্য জামায়াতে যোগ দিয়েছেন প্রায় ৫০ হাজার বিএনপি, আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী।

জানা যায়, আওয়ামী লীগের একসময়ের সংসদ সদস্য, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদ ২১ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন। আবু সাইয়িদের উপর ক্ষুব্ধ হয়ে এবং ভিপি শামসুর রহমানে চাঁদাবাজি, ভুমি দখল থেকে বাঁচতে প্রায় ৫০ হাজার বিএনপি, আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ৬৮ পাবনা -১ সাঁথিয়া আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী ডক্টর ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান মোমেনের সাথে কাজ করার জন্য জামায়াতে যোগ দিয়েছেন।

বিএনপি এবং আওয়ামীলীগ থেকে জামায়াতে যোগদান করা নেতাকর্মীরা হলেন, ৯ ফেব্রুয়ারী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ওবায়দুল হক ও তার ভাই সাঁথিয়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর রেজাউল হক তাদের অনুসারীদের সাথে নিয়ে জামায়াতে যোগদান করেন। ৬ ফেব্রুয়ারী নাগডেমরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ হাফিজুর রহমান হাফিজ প্রায় ১০ হাজার নেতাকর্মী নিয়ে জামায়াতে যোগদান করেন।

৩১ জানুয়ারি শনিবার জামায়াতে যোগ দেন সাঁথিয়া নাগডেমরা ইউনিয়নের পাথাইল হাট গ্রামের বিএনপি নেতা সোহেল রানা ও তার দলবল।৩০ জানুয়ারী শুক্রবার উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নে নির্বাচনী প্রচারণায় জামায়াতে যোগ দেন, আওয়ামীলীগের সাঁথিয়া উপজেলার সহদপ্তর সম্পাদক আঃ হামিদ মেম্বর ও তার সহযোগীরা,নন্দনপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা ইদ্রিস আলী, আওয়ামীলীগ নেতা ফরিদ উদ্দিন, নন্দনপুর ইউনিয়নের শ্রী সুনীল কুমার সরকার, বিএনপি নেতা আঃ ছাত্তার, বিএনপি নেতা সবুজ আলী,বিএনপি নেতা শাহাদাত আলীসহ তাদের সহযোগীর।

২২ জানুয়ারি কাশিনাথপুর ইউনিয়নের হুইখালি গ্রামের এক সময়ের বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা মীর জাহিদ ও রফিকুল ইসলাম প্রায় ২ হাজার নেতাকর্মীসহ জামায়াতে যোগদান করেন।

২৮ জানুয়ারি কাশিনাথপুর ইউনিয়নের বিএনপি নেতা মোঃ আরিফুল ইসলাম তার দলবলসহ জামায়াতে যোগ দেন।

আওয়ামীলীগ থেকে জামায়াতে যোগদান করা নেতাকর্মীরা বলেন, আবু সাইয়িদ যে দলেই যাবে সেই দলেরই ক্ষতি করবে। আমরা সাবেক ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু এবং আওয়ামী লীগের একসময়ের সংসদ সদস্য, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী আবু সাইয়িদের সাথে রাজনীতি করে নিজেরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি এবং দেশেরও ক্ষতি হয়েছে। আমরা সাঁথিয়া ও দেশের উন্নয়নের জন্য যোগ্য প্রার্থী ডক্টর ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান মোমেনের সাথে কাজ করার জন্য জামায়াতে যোগ দিয়েছি।আমরা চাইনা যে শামসুর রহমানের মতো একজন চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু আমাদের ভোটে নির্বাচিত হোক।

বিএনপি থেকে জামায়াতে যোগদান করা নেতাকর্মীরা বলেন, আমরা ৭১ এবং ২৪ কে বুকে লালন করি। ফ্যাসিস্টের দোসর এবং সন্ত্রাস বিরোধী আইনে চার্জশিট ভুক্ত আসামী আবু সাইয়িদ বিএনপিতে যোগদান করায় আমরা হতাশ। যে দলে ফ্যাসিস্টের দোসর থাকবে সেই দলে আমারা থাকতে পারিনা।আমরা ন্যায় এবং ইনসাফের পথে দেশ গড়তেই জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছি।এই আবু সাইয়িদ এক সময় করমজা থেকে হাড় তুলে শহীদ নিজামীর উপর দায় চাপিয়েছিলো। যুদ্ধাপরাধীর নাটক সাজানোর কারিগর এই আবু সাইয়িদ। বিএনপি এখন শহীদ জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে চলছেনা।বিএনপি এখন চলছে ভারতের প্রেসক্রিপশনে।