স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি সেবাকে অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ বাড়লেও তৃণমূল পর্যায়ে এর পূর্ণাঙ্গ সুফল এখনো মিলছে না। জরিপে অংশ নেয়া নারীদের ক্ষেত্রে মাত্র ৩১ দশমিক ৯ শতাংশ সরকারি সেবার পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করতে পারছেন।

বিপরীতে ৫৪ দশমিক ৩ শতাংশ নারীর নথিপত্র জমা দিতে এবং ৫১ দশমিক ৮ শতাংশের নথিপত্র সংগ্রহ করতে এখনো সরকারি দপ্তরে সশরীরে যেতে হয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল দক্ষতার ঘাটতি। ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ নারী এটিকে ই-সেবা ব্যবহারের প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

স্থানীয় পর্যায়ে ই-গভর্ন্যান্সের বর্তমান চিত্র নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘ই-গভর্ন্যান্স অ্যাট দ্য লোকাল গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউশনস: কারেন্ট স্টেট অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’ শীর্ষক সংলাপে গবেষণাটির প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

গবেষণায় উঠে আসে, নাগরিকদের সেবা দেয়ার দায়িত্বে থাকা সরকারি দপ্তরগুলোর ই-গভর্ন্যান্স প্রস্তুতির গড় স্কোরও ১০০-এর মধ্যে মাত্র ৩৮ দশমিক ৯। ফলে নাগরিকের সক্ষমতা ও সরকারি দপ্তরের প্রযুক্তিগত প্রস্তুতিÑদুই দিকের ঘাটতিই ডিজিটাল সরকারি সেবার বিস্তারে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সিপিডির রিসার্চ ফেলো তামিম আহমেদ ও গবেষণা সহকারী সাবিনা শারমিনের উপস্থাপনায় ‘এস্টাবলিশিং ইফেক্টিভ অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবল ই-গভর্ন্যান্স টু স্ট্রেনদেন লোকাল গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউশনস বাই ফুলফিলিং দ্য নিডস অব ইউথ, জেন্ডার অ্যান্ড মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে আসে। এতে ইউএসএআইডি, সুইজারল্যান্ড, কানাডা ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় পরিচালিত গবেষণায় ২ হাজার ৬১১ নাগরিক এবং ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের ২৬৭টি সরকারি দপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন, নাগরিকতা সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের ডেপুটি টিম লিডার ক্যাথরিনা কোনিগ, আই-সোশ্যালের চেয়ারম্যান ড. অনন্য রায়হান, সাবেক বেসিস সভাপতি সৈয়দ আলমাস কবীর, পাবলিক ফাইন্যান্স ম্যানেজমেন্টের এমআইএস বিশেষজ্ঞ আমিনুল মহাইমেন, এটুআইয়ের জ্যেষ্ঠ পরামর্শক ফজলুল জাহেদ পাভেল, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের জনপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ নূর উল্লাহ এবং সাভার উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

তৃণমূল পর্যায়ের সরকারি ই-সেবার বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে ২ হাজার ৬১১ নাগরিকের ওপর পরিচালিত ডিমান্ড সাইড জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে ১ হাজার ৩৮২ তরুণ ও ৯৫৭ নারী অংশ নেন। পাশাপাশি সরকারি সেবা প্রদানের সক্ষমতা ও ডিজিটাল প্রস্তুতি মূল্যায়নে ২৬৭টি সরকারি দপ্তরের ওপর সাপ্লাই সাইড জরিপ চালানো হয়। এতে নারী, তরুণদের পাশাপাশি আদিবাসী, চর ও হাওড অঞ্চলের বাসিন্দা, বস্তিবাসী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের মতো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতাও বিবেচনায় নেয়া হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, তরুণদের ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ পুরো সেবা অনলাইনে সম্পন্ন করতে পারছেন। তবে ৫৭ দশমিক ৬ শতাংশ নারী ও ৫২ দশমিক ৯ শতাংশ তরুণ ডিজিটাল দক্ষতার অভাবকে ই-সেবা ব্যবহারের প্রধান বাধা বলেছেন। আনুষ্ঠানিক ডিজিটাল লিটারেসি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন মাত্র ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ নারী ও ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ তরুণ। ধীরগতির ইন্টারনেটকেও বড় সমস্যা বলেছেন ৪৭ দশমিক ৩ শতাংশ নারী ও ৫২ দশমিক ৬ শতাংশ তরুণ। সরকারি দপ্তরগুলোর প্রস্তুতিও দুর্বল। ২৬৭টি দপ্তরের ই-গভর্ন্যান্স প্রস্তুতি সূচকে অবকাঠামোগত প্রস্তুতির স্কোর মাত্র ২৪ দশমিক ১ এবং অপারেশনাল প্রস্তুতির স্কোর ৪৪ দশমিক ৪। ইউনিয়ন কৃষি অফিসগুলোর ৪৪ শতাংশে কম্পিউটার নষ্ট এবং ৫৩ শতাংশ ইউনিয়ন পরিষদে ইন্টারনেট মাঝেমধ্যে অনির্ভরযোগ্য বলে জানানো হয়েছে।

গবেষণায় উঠে আসে আঞ্চলিক বৈষম্যও প্রকট। ইউনিয়ন পর্যায়ে ময়মনসিংহের প্রস্তুতি স্কোর ৫৭ দশমিক ৩ হলেও রংপুরে তা মাত্র ৮ দশমিক ৮। উপজেলা পর্যায়ে রাজশাহীর স্কোর ৭২ দশমিক ৬, বিপরীতে রংপুরের ১২ দশমিক ৩।

ই-সেবায় নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। ৬৬ দশমিক ৮ শতাংশ নারী ব্যক্তিগত তথ্য দেয়ার ক্ষেত্রে পুরোপুরি নিরাপদ বোধ করেন না। তথ্যফাঁস বা হ্যাকিংয়ের আশঙ্কা করেছেন ৭৩ দশমিক ২ শতাংশ। আবার ৮৩ দশমিক ৩ শতাংশ নারী কখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি।

অনুষ্ঠানে সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘অনলাইন সেবা সফল করতে হলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, সংখ্যালঘু, নি¤œ আয়ের পরিবার ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষসহ সবাইকে ।