আজ ১৯ জানুয়ারি সোমবার মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৬ সালের এমনি এক শীতার্ত দিনে তিনি বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় বাগবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। মাতা-পিতা তখন আদর করে নাম রাখেন কমল। দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, অসাধারণ দেশপ্রেমিক, অসম সাহসী ও সহজ-সরল ব্যক্তিত্বের প্রতীক হিসেবে জিয়াউর রহমান ইতিহাসে অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। তার জন্মদিন পালন উপলক্ষে বিএনপি ও অঙ্গ দলসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি নিয়েছে। এছাড়া তার কর্মময় জীবনের ওপর সংবাদমাধ্যম বিশেষ ক্রোড়পত্র ও অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এবছর এমন একটি দিনে তার জন্মদিন পালন করা হচ্ছে যখন তার সহধর্মিনী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আর জীবিত নেই। গেল মাসের ৩০ তারিখ তিনি মারা গেলে পরের দিন স্বামীর পাশেই তাকে দাফন করা হয়।
সূত্র মতে, ১৯৭১ সালে চট্টগ্রাম কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ‘আমি মেজর জিয়া বলছি’ কন্ঠটি এখনো কোটি মানুষের হৃদয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করছে। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার পরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তার ঘোষণা যেমন মুক্তিযুদ্ধে জাপিয়ে পড়তে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছিল, তেমনি ৭৫ সালে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব যখন হুমকির মুখে, তখন সিপাহী-জনতার যে অভ্যুত্থান হয় তারই ধারাবাহিকতায় তিনি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে আসীন হন। তিনি একদলীয় বাকশালের পরিবর্তে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। বাকশাল প্রতিষ্ঠার পর মাত্র চারটি দৈনিক পত্রিকা রেখে অন্য সব পত্রিকা বন্ধ করে দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। হরণ করা হয়েছিল সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্রের সঙ্গে সংবাদপত্রের স্বাধীনতাও ফিরিয়ে দেন। পররাষ্ট্র নীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন করে জিয়াউর রহমান চীনসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের সূচনা করেন। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ৭টি দেশকে নিয়ে ‘সার্ক’ গঠনের উদ্যোগ জিয়াউর রহমানেরই। ওআইসিকে শক্তিশালী করার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহর সংহতি জোরদার করার জন্য তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বিএনপি সময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বৃহৎ রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এ পর্যন্ত পাঁচবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী একাধিকবার দেশের প্রধান বিরোধী দল ছিল। বিতর্কিত নির্বাচনের পর জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য রওশন এরশাদকে বিরোধী দলীয় নেতা করে গেজেট প্রকাশ করা হলেও দেশে মূলত বিরোধী দল বিএনপিই। কারণ জাতীয় পার্টি সরকারের অংশীদার হয়েছে। ১৯৮১ সালে এক সামরিক অভ্যুত্থানে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে মর্মান্তিকভাবে নিহত হন।
কর্মসূচি : জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ১৯ ও ২০ জানুয়ারি দুই দিনের কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। কর্মসূচিতে ১৯ জানুয়ারি বেলা ১১টায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপস্থিতিতে জিয়া উদ্যানে জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন করবে দলটি। এছাড়া জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ওই দিন সংগঠনটি একটি মেডিকেল ক্যাম্প আয়োজন করবে। এরপর ২০ জানুয়ারি বেলা ১১টায় কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারে আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে। এদিন জেলা উপজেলাসহ দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হবে । জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশের দলীয় কার্যালয়গুলোতে দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই সঙ্গে বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দেশের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা পর্যায়ের ইউনিটগুলোতে যার যার মতো করে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল হবে। দিবসটি উপলক্ষে এরইমধ্যে পোস্টার বানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ১৯ জানুয়ারি বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করা হবে বলে জানান দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বাণী : মহাসচিবের জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া বাণীতে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বাণী দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীর। বাণীতে তিনি বলেন, মাতৃভূমির মুক্তির জন্য নেতৃত্বহীন জাতির দিশারী হয়ে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেন। ক্ষমতায় এসেই মানুষের হারানো অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন, নিশ্চিত করেন মানুষের বাক ও ব্যক্তি স্বাধীনতা। উৎপাদনের রাজনীতি প্রবর্তন করে তিনি দেশকে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধশালী করে গড়ে তুলতে সক্ষম হন। এই মহান রাষ্ট্রনায়কের জন্মবার্ষিকীতে স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, ন্যায়-বিচার এবং মৌলিক ও মানবাধিকার সুরক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জন্য দেশবাসীসহ সকলের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব।