সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, কর্মকর্তাদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’

অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার চিন্তা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহের অর্ধেক ক্লাশ অনলাইনে নেওয়ার প্রস্তাব

ইরানে চালানো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগ্রাসনের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এজন্য জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, কর্মকর্তাদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ এবং অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে সরকার। কাল বৃহস্পতিবার এ প্রস্তাব যাচ্ছে মন্ত্রীপরিষদে। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি সূত্র জানিয়েছে, জ্বালানি সাশ্রয়ে কমপক্ষে আটটি পদক্ষেপ আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়তি একদিন যোগ করা অথবা কর্মকর্তাদের সপ্তাহে দুদিন ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ দেওয়া। এছাড়া অফিসের কাজ দ্রুত শুরু করা অথবা কাজের মোট সময় কমিয়ে আনার প্রস্তাবও রয়েছে। বিদ্যুৎ খরচ কমাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহের অর্ধেক ক্লাশ অনলাইনে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শিগগিরই সারা দেশের স্কুলগুলোতে সশরীরের পাশাপাশি অনলাইনেও ক্লাশের ব্যাপারে করছে চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।

কর্মকর্তারা জানান, জ্বালানি সাশ্রয়ে কমপক্ষে আটটি পদক্ষেপ আলোচনায় রয়েছে। এর মধ্যে সাপ্তাহিক ছুটিতে বাড়তি একদিন যোগ করা অথবা কর্মকর্তাদের সপ্তাহে দুদিন ঘরে বসে কাজ করার সুযোগ দেওয়া। এছাড়া অফিসের কাজ দ্রুত শুরু করা অথবা কাজের মোট সময় কমিয়ে আনার প্রস্তাবও রয়েছে। বিদ্যুৎ খরচ কমাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সপ্তাহের অর্ধেক ক্লাশ অনলাইনে নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। তারা আরও জানান, তবে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রিসভায় ঠিক করা হবে কোন পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা হবে।

এদিকে গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেন, আগামী মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হবে। শিক্ষামন্ত্রী জানান, এখন থেকে সপ্তাহে ৬ দিন ক্লাশ খোলা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। আর দেশের মেট্রোপলিটন এলাকায় অনলাইন ক্লাশের বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সারাদেশে স্কুলগুলোতে অনলাইন ও অফলাইন দুভাবেই ক্লাস নেওয়ার পরিকল্পনা করছে সরকার। পাশাপাশি সপ্তাহে ছয় দিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হতে পারে। যেখানে তিনদিন অনলাইন ও তিনদিন ক্লাস হবে অফলাইনে।

শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন কাঠামোগত সীমাবদ্ধতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার দীর্ঘসূত্রতা, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষার্থীদের ক্লাশ ও পরীক্ষা শেষ করলেও শিক্ষা বোর্ডগুলো এই দুটি পাবলিক পরীক্ষা সেই বছরের ডিসেম্বরে না নিয়ে পরবর্তী বছরের এপ্রিল ও জুনে নিয়ে থাকে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে, যা জাতীয় পর্যায়ে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রী নানান নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মধ্যে এখন থেকে দেশের স্কুলগুলো পাঁচ দিনের পরিবর্তে সপ্তাহে ছয় দিন খোলা রেখে অন্তত অনলাইন ও অফলাইনে ক্লাস চালু রাখার চিন্তা রয়েছে। বিশেষ করে মেট্রোপলিটন এলাকাগুলোতে অনলাইনভিত্তিক ক্লাস চালুর ব্যাপারে পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষক, বোর্ড কর্মকর্তা এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে সপ্তাহে ছয় দিনই ক্লাসের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তিনদিন অনলাইন ও তিনদিন হবে অফলাইনে। তারা বলছেন, যদি কোনো সমস্যা সামনে আসে সংশোধন করা হবে। শিক্ষকরা স্কুলে এসে ক্লাস নেবেন। জোড়-বিজোড় দিন ভাগ করে হবে অনলাইন ও অফলাইন ক্লাস।