বহুল প্রতীক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল। ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়েছে। নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন। ভোটাররা সঠিকভাবে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ভোটের দিন ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগে ও পরে কিছু বিষয় জানা জরুরি। ভোট দিতে কী কী তথ্যের প্রয়োজন, ভোট দেওয়ার নিয়ম, ব্যালটপেপার ভাঁজ করতে হয় কি করে এবং নির্দিষ্ট ব্যালট বাক্সে ফেলার বিষয়ে জেনে নিলে ভোট প্রদানে কোনো জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে না। এসকল বিষয়ে সার্বিক দিক আলোচনা করা হয়েছে আ প্রতিবেদনে।
আগামীকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। ভোট দিতে যাওয়ার আগেই জেনে নিতে হবে সঠিক ভোটকেন্দ্র কোনটি ও ভোটার তালিকার ক্রমিক নম্বর। এ দুটি বিষয় জানা থাকলে সময় যেমন বাঁচবে তেমনি ঝামেলাতেও পড়তে হবে না।
যেভাবে জানা যাবে ভোটকেন্দ্র ও ভোটার নম্বর
ভোটাররা চারটি সহজ উপায়ে নিজেদের ভোটকেন্দ্র, কেন্দ্রের ঠিকানা ও ভোটার নম্বর জানতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপ ব্যবহার করে এসব তথ্য সহজেই জেনে নেওয়া যাবে। অ্যাপটি গুগল প্লে স্টোর ও অ্যাপল অ্যাপ স্টোর থেকে ইন্সটল করা যাবে।
এছাড়া ১০৫ নম্বরে কল করে ভোটকেন্দ্র, ভোটার নম্বর এবং ক্রমিক নম্বর জেনে নেওয়া যাবে। এ জন্য ১০৫ নম্বরে কল করার পর অপারেটরের সঙ্গে কথা বলতে ৯ চাপতে হবে। এ পদ্ধতিতে তথ্য জানতে ভোটারের এনআইডি নম্বর ও জন্মতারিখ প্রয়োজন হবে। এসব তথ্য দিয়ে সহজেই জেনে নেওয়া যাবে ভোটকেন্দ্রসহ বাকি তথ্য।
অ্যাপ ও হটলাইন ছাড়াও এসএমএসের মাধ্যমে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানা যাবে। সেজন্য মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে ‘পিসি এনআইডি’ (PC NID) লিখে ১০৫ নম্বরে পাঠাতে হবে। ফিরতি এসএমএসে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানিয়ে দেওয়া হবে।
এসব ছাড়াও নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট, উপজেলা বা জেলা নির্বাচন অফিস থেকেও এ তথ্য পাওয়া যাবে। ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটার তালিকা থেকেও এই তথ্য সংগ্রহ করা যাবে।
সনাতন পদ্ধতিতে ভোট
এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা হচ্ছে না। এবারের ভোট হবে সম্পূর্ণ সনাতন পদ্ধতিতে, অর্থাৎ কাগজের ব্যালট ও ব্যালট বাক্সে। ‘Smart Election Management BD’ অ্যাপসহ ডিজিটাল প্ল্যাটফরমগুলো কেবল তথ্য আদান-প্রদান ও প্রশাসনিক সহায়তার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, ভোট প্রদানের জন্য নয়।
ভোটের দিন করণীয়
ভোটারদের নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে হবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ চলবে। ভোট দিতে যাওয়ার সময় এনআইডি কার্ড সঙ্গে রাখা সুবিধাজনক হলেও তা বাধ্যতামূলক এনআইডিকার্ড থাকলে নাম ও ছবি ভোটার তালিকায় থাকলে এবং পোলিং অফিসার আপনার পরিচয় নিশ্চিত করতে পারলে সহজেই ভোট দিতে পারবেন। নয়। ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার সময় অবশ্যই মনে রাখতে হবে, কোনো রকম দাহ্য পদার্থ বা অস্ত্র নিয়ে ভোটারদের কেন্দ্রে প্রবেশ করা সম্পূর্ণ নিষেধ।
ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া
ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের পর পোলিং অফিসার প্রথমে ভোটারের নাম ও ক্রমিক নম্বর মিলিয়ে দেখবেন। সবকিছু ঠিক থাকলে ভোটারের বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলে বা অন্য কোনো আঙুলে অমোচনীয় কালির দাগ দেবেন। এরপর প্রিসাইডিং অফিসার বা পোলিং অফিসার ভোটারকে দুটি ব্যালট পেপার দেবেন একটি সংসদ নির্বাচন, অন্যটি গণভোট। ব্যালট পেপারের পেছনে অবশ্যই অফিশিয়াল সিল এবং প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর আছে কি না দেখে নিতে হবে।
ব্যালট পেপার নেওয়ার প্রক্রিয়া শেষে ভোট প্রদানের জন্য নির্ধারিত গোপন কক্ষে যেতে হবে। ভোটের গোপনীয়তা রক্ষা এবং ভোটটি যেন বাতিল না হয়, সে জন্য ব্যালট ভাঁজ করা প্রত্যেক ভোটারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকের ওপর রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে স্পষ্ট করে সিল দিতে হবে। গণভোটে হ্যাঁ/না ভোট আলাদা ব্যালটে সিল দিতে হবে। সিল দেওয়ার পর ব্যালট পেপার এমনভাবে ভাঁজ করতে হবে যেন সিলের কালি অন্য কোনো প্রতীকের ওপর না লাগে। সাধারণত লম্বালম্বিভাবে ভাঁজ করা নিরাপদ। ভাঁজ করা ব্যালট পেপারটি উন্মুক্তস্থানে রাখা সংশ্লিষ্ট স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ফেলে ভোট দিতে হবে। ভোট প্রদান প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করতে হবে।
কারা ভোট দিতে পারবেন
নির্বাচনের দিন যেসব বাংলাদেশি নাগরিকের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি এবং যাদের নাম নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় রয়েছে, কেবল তারাই ভোট দিতে পারবেন। ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি মূলত জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) উল্লেখিত জন্মতারিখের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।
ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই প্রতিটি কেন্দ্রে গণনা শুরু হবে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা প্রার্থীদের এজেন্ট, পর্যবেক্ষক এবং অনুমোদিত গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে ভোট গণনা করবেন। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হওয়ায় গণনা শেষ করতে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা বেশি সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছে ইসি।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দেশব্যাপী ২৯৯ সংসদীয় আসনে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে মোট ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। নির্বাচনে মোট প্রার্থী ২ হাজার ৩৪ জন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৫ জন। ভোট কেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৭৯টি।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ রাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ রাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন। নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২৩২ জন।