ইরান-ইসরাইল সংঘাতের তীব্রতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততায় মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধের হুঁশিয়ারি দেওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এমন প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য জ্বালানি তেল সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির সুযোগে সীমান্তপথে তেল পাচার রোধে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিজিবি জানায়, দেশের বিভিন্ন স্থলসীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং সন্দেহভাজন পরিবহনে তল্লাশি কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে যেসব রুট দিয়ে অতীতে ডিজেল ও পেট্রল পাচারের চেষ্টা হয়েছে, সেসব পয়েন্টে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার এ সময়ে সীমান্ত সুরক্ষা ও বাজার তদারকি সমন্বিতভাবে জোরদার করা না হলে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হতে পারে। তাই আগাম সতর্কতাই এখন সবচেয়ে বড় কৌশল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা তৈরি হলেই কিছু অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও অধিক মুনাফার আশায় জ্বালানি মজুত কিংবা পাচারের অপচেষ্টা চালায়। চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সেই ঝুঁকি আরও বেড়েছে। বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ করিডর হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়। এ পথ বন্ধ হয়ে গেলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ফলে বাংলাদেশেও আমদানি ব্যয় ও বাজারদর বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের। এ পরিস্থিতিতে সরকার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে সীমান্তে কঠোর নজরদারি বজায় রেখে অভ্যন্তরীণ বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যে কোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।