দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুন থেকে বাসটি কেন হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় তলিয়ে গেল, তা নিয়ে জনমনে এখন হাজারো প্রশ্ন। ২৬ জনের প্রাণ কেড়ে নেওয়া এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে বাসটির ব্রেক পুরোপুরি অকেজো হয়ে পড়েছিল।

দুর্ঘটনার পর গুঞ্জন উঠেছিল যে কোনো হেল্পার গাড়িটি ফেরিতে ওঠানোর চেষ্টা করছিল।

তবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী দুর্ঘটনার মাত্র দুই মিনিট আগে বাস থেকে নামা যাত্রী আবুল কালাম জানান, চালক নিজেই স্টিয়ারিংয়ে ছিলেন। এমনকি চালকের কোমরে ড্রাইভিং লাইসেন্সও ঝুলতে দেখেছেন তিনি।

পরবর্তীতে উদ্ধারকারী দল বাসটির চালক আরমান খানের (৩১) মরদেহ উদ্ধার করে নিশ্চিত করেছে যে তিনিই শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত বাসটি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছিলেন।

ঘাট সংশ্লিষ্ট মেকানিক ও অন্যান্য বাস চালকদের মতে, দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল ‘এয়ার প্রেশার’ বা ব্রেকের হাওয়া কমে যাওয়া।

টাটা কোম্পানির টিসি মডেলের বাসগুলোতে সাধারণত ইঞ্জিন বন্ধ থাকলে ব্রেকের প্রয়োজনীয় চাপ থাকে না।

অভিজ্ঞ চালকদের মতে, বাসটি দীর্ঘক্ষণ বন্ধ থাকার পর চালক সম্ভবত স্টার্ট দিয়েই পর্যাপ্ত সময় অপেক্ষা না করে গাড়িটি টান দিয়েছিলেন।

মিটারে ব্রেকের হাওয়া পর্যাপ্ত আছে কি না, তা যাচাই না করায় চালক যখন ব্রেক চাপেন, তখন যান্ত্রিকভাবে তা আর কাজ করেনি। ফলে কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে বাসটি পন্টুন থেকে গড়িয়ে গভীর পদ্মায় তলিয়ে যায়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শামসুল হক এই দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, ‘এটি একটি এয়ার ব্রেক সিস্টেমের ব্যর্থতা। বর্তমানে অনেক উন্নত প্রযুক্তির ব্রেকিং সিস্টেম পাওয়া যায়। কেন এই সেকেলে বা ত্রুটিপূর্ণ সিস্টেমের কারণে এতগুলো প্রাণ গেল, তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা দরকার।’

নিহত চালক আরমান খান রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার পশ্চিম খালখুলা গ্রামের বাসিন্দা। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

উদ্ধার অভিযানের প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টায় বাসটি পানি থেকে তোলা সম্ভব হলেও ততক্ষণে ২৬টি পরিবারের স্বপ্ন পদ্মার অতলে তলিয়ে গেছে।