বগুড়া-৬ সদর আসনে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ১০ হাজার নারীর শোডাউনে গনমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) সকালে ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে সমাবেশ শেষে বিশাল মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জামায়াতে ইসলামি মহিলা বিভাগের বগুড়া-৬ আসনের নেতৃবৃন্দ।

আয়োজকরা জানিয়েছেন এই মিছিলে ১০ হাজারেরও বেশি নারী অংশগ্রহন করেন। তারা আমিরে জামায়াতের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানান এবং দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করার স্লোগান দেন। বিক্ষোভ মিছিলের পূর্বে শহর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি ফজিলাতুন্নেছা হাসি’র সভাপতিত্বে ও মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি মরিয়ম বেগম মুন্নির পরিচালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের নেত্রী সাজেদা সামাদ, শহর জামায়াতের সেক্রেটারী অধ্যাপক আ স ম আব্দুল মালেক।

সমাবেশে অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, ক্ষমতায় গেলে বৈষম্যহীন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গঠন করা হবে। ইনসাফময় সমাজ প্রতিষ্ঠাই হবে নারীদের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ। সকল পর্যায়ে সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র ও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সুশাসন নিশ্চিত করা হবে।

সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী বগুড়া শহর জামায়াতের পুরুষ কর্মিদের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক নারীর ভোটের মাঠে সাহসী পদচারণায় দাঁড়িপাল্লার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করেছে। এতদিন নিরবে নিভৃতে কাজ করে গেলেও সম্প্রতি আমিরে জামায়াতের বিরুদ্ধে বিএনপির অপপ্রচারের প্রতিবাদে রাজপথে নেমে এসেছেন বগুড়ার নারীরা। পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড এবং উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে বিক্ষোভ মিছিল শেষে শনিবার শহরে বিশাল শোডাউন করেছে মহিলা জামায়াত।

বগুড়া শহর জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রটারি ফজিলাতুন্নেছা হাসি জানান, “বগুড়া শহর শাখায় (সদর উপজেলা সহ) জামায়াতের মহিলা রুকনের সংখ্যা ৭৯০ জন এবং তালিকা ভুক্ত কর্মি ৩ হাজার ৫০৬ জন।”

WhatsApp Image 2026-02-07 at 16.16.33 (1)

এর বাইরে জামায়াতের সহযোগি সদস্য ফরম পূরণ করেছেন এমন নারীর সংখ্যা অবাক করার মত। এই বিশাল সংখ্যক নারীর ভোটের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের ভোট যুক্ত হলে যে চিত্র দেখা যায় তা অবাক করার মতই। মহিলা জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তির ওপর ভর করেই আসন্ন নির্বাচনে জয়লাভের ব্য্যাপারে আশাবাদী জামায়াতে ইসলামী।

বগুড়া-৬ সদর আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। এর মধ্যে নারী ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৩১ হাজার ২৩৭ জন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারী ভোটাররাই ভোটের ফলাফলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবে এমনটাই মনে করছে সবাই। এজন্য নারীদের ভোট নিজেদের পক্ষে টানতে রাতদিন পরিশ্রম করছেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। বিশেষ করে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মিরা নারীদের ভোট নিজের বাক্সে নিতে মরিয়া হয়ে ছুটছেন।

অতীতে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি ভালোবাসার কারনে বগুড়ার নারী ভোটারদের বেশির ভাগই বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন। বিশেষ করে বগুড়া সদর আসনে বেগম খালেদা জিয়া প্রতিবার প্রার্থী হতেন বিধায় অন্য কারো পক্ষে নারীদের ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা তেমন ছিলো না। কিন্তু এবারের চিত্র সম্পুর্ন আলাদা। বেগম জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির প্রতি নারীদের সেই আগ্রহ আর নেই। পাশাপাশি বছরের পর বছর জামায়াতে ইসলামীর নারী বিভাগের সুসংগঠিত কার্যক্রম বগুড়া সদর আসনের ভোটের হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহিলা বিভাগের নেত্রী বিলকিস বেগম, আম্বিয়া বেগম, বগুড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জোবায়দা খাতুন, শিরিন আক্তার, মুঞ্জুআরা মুন্নী, নুসরাত জাহান, রুমা খাতুন, কাঞ্চন বেগম প্রমুখ।