যথাযোগ্য মর্যাদায় ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালনের আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি গতকাল মঙ্গলবার এক বিবৃতি প্রদান করেছেন।
প্রদত্ত বিবৃতিতে তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী জনতা দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তদানীন্তন শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রত্যাশা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার। ক্ষুধা-দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও দুঃশাসন মুক্ত একটি দেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বস্তরের জনতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। স্বাধীনতার ৫৫ বছরে আজ দেশের মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি হিসাব করলে দেখা যায় বহু প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি।
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার জুলাই গণআন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মানুষ মুক্তি লাভ করেছে। দেশে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা, এমন পরিস্থিতিতে কেউ আর নতুন করে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার দুঃসাহস দেখাবে না। দেশের মানুষ ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে চলাফেরা করতে পারবে, কথা বলতে পারবে। মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ ও বৈষম্য থাকবে না। নাগরিকরা জানমাল ও ইজ্জত-আব্রুর নিরাপত্তা ভোগ করবে। দেশ ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।
তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে এবং গণভোটে প্রায় ৭০% নাগরিক ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ম্যান্ডেট দিয়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না। অবিলম্বে সরকারকে জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ দ্রুত বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা মহান স্বাধীনতা দিবসে গভীর শ্রদ্ধা ও সম্মানের সাথে স্মরণ করছি বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ঐ সমস্ত জনতাকে যাদের ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা লাভ করেছে। আমরা আরও স্মরণ করছি ২০২৪-এর জুলাইয়ের গণআন্দোলনের সকল শহীদদের এবং আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের। আমরা সকল শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যুদ্ধ-বিগ্রহ চলমান। সারা দুনিয়া একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। মানবতা আজ হুমকির সম্মুখীন। এহেন সংকটময় মুহূর্তে আমি মহান স্বাধীনতা দিবসে দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করছি এবং মহান আল্লাহর কাছে দেশবাসীর সুখ-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করছি। একই সঙ্গে দোয়া করি, আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে হেফাজত করুন।”
স্বাধীনতা দিবসে জামায়াতের দুই দিনের কর্মসূচি : ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে ২৫ মার্চ বিকাল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাবে আলোচনা সভা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি। এছাড়াও কেন্দ্রীয় এবং মহানগরী জামায়াতের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন। ২৬ মার্চ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সংগঠনের সর্ব পর্যায়ে আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান পালন করা হবে এবং ২৬ মার্চ সকালে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাবেন এবং শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করবেন।
শিবিরের কর্মসূচি : আগামীকাল ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গতকাল মঙ্গলবার দেয়া বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করার যে মহান লক্ষ্য নিয়ে এদেশ স্বাধীন হয়েছিল, সেই চেতনাকে নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে ছাত্রশিবির প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। একটি সমৃদ্ধ ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ছাত্রশিবির দেশপ্রেমিক ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। স্বাধীনতার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে বীর শহীদদের ত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে দেশব্যাপী নিম্নোক্ত কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।
ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, স্বাধীনতা দিবসের র্যালি, আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠান, মেধাবী ছাত্র সংবর্ধনা ও শিক্ষা উপকরণ উপহার প্রদান, শাখা, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে রচনা, কুইজ, বইপাঠ, বিতর্ক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে খাবার ও শিক্ষা উপকরণ উপহার প্রদান, স্থানীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকায় এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে দেশের সার্বভৌমত্বের পক্ষে ক্যাম্পেইন।
কেন্দ্রীয় নির্দেশনার আলোকে ছাত্রশিবিরের সকল মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয়, শহর ও জেলা শাখাকে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আহ্বান জানান।