প্রবাসীদের সঠিক ঠিকানা খুঁজে না পাওয়ায় ৫ হাজার ৬০০ পোস্টাল ব্যালট ফেরত এসেছে। মালয়েশিয়া থেকে ৪ হাজার পোস্টাল ব্যালট এবং ইতালি থেকে ফেরত এসেছে ১ হাজার ৬০০ পোস্টাল ব্যালট ফেরত এসেছে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশনে (ইসি) নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রবাসীদের সঠিক ঠিকানা না পাওয়ায় এসব ব্যালট সংশ্লিষ্ট দেশে ভোটারদের কাছে পৌঁছায়নি। ফেস ডিটেকশন প্রযুক্তির কারণে পোস্টাল ব্যালটে একজনের ভোট অন্য কেউ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, সেগুলো দেখে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো কারণ নেই। পোস্টাল ব্যালটে ৩৯টি মার্কা যা ভাঁজের মধ্যে পড়েছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ভোটার নিবন্ধন করেছেন।
এদিকে গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেছেন, ইসি আনোয়ারুল বলেন, ‘সবাই ইসিতে এসে নিজেদের অভিযোগ, পরামর্শ জানাচ্ছেন। এতে কমিশন সমৃদ্ধ হচ্ছে। ছোট সমস্যার সমাধান করে যাচ্ছে কমিশন। আমরা একদমই কোনো চাপে নেই।’
তিনি বলেন, এখনও ইসি বড় কোন সমস্যার সম্মুখীন হয়নি। আমরা রাজনৈতিক দলের বক্তব্য খতিয়ে দেখছি ও ব্যবস্থা নিচ্ছি। আপিল শুনানিতে মনে হয়েছে, একটি ভালো প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক নির্বাচন হবে।
ইসি আনোয়ারুল বলেন, প্রার্থীরা যেভাবে শুনানিতে নিজেদের বক্তব্য রেখেছেন, ভোটের মাঠেও তারা তাদের সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন বলে মনে করে কমিশন।
তিনি আরও বলেন, একটি কমিশনের একটি জাতীয় নির্বাচন করারই সুযোগ থাকে। দুইবার কোনো কমিশনই সুযোগ পায় না। কোনো কমিশন আগের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা নিয়ে আসতে পারে না। কমিশন একদমই কোনো চাপে নেই। সবাই চায় ভাল নির্বাচন, কমিশনও তাই চায়।
উল্লেখ, ইসির ভবনের সামনে পোস্টাল ব্যালটে ইসির পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত, বিভিন্ন বিষয়ে সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতাসহ ৩ দফা দাবি আদায়ে কর্মসূচি করছে ছাত্রদল।
তাছাড়া দেশের বড় দুই দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর দফায় দফায় সিইসি’র সঙ্গে বৈঠক করে নানা রকম দাবি ও সুপারিশ করে যাচ্ছে।
সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন।
নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।