সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, সংবিধান সংস্কার নিয়ে পূর্বে যে প্রক্রিয়ায় ঐকমত্য হয়েছিল, নির্বাচনের পর সরকার সেই কাঠামো পরিবর্তন করেছে। মূল পরিকল্পনা অনুযায়ী জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, যেখানে চারটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে জনগণের মতামত নেওয়া হবে।
গণভোটে যদি অধিকাংশ মানুষ হ্যাঁ ভোট দেয়, তাহলে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে এবং সংসদ সদস্যরাই সেই পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখা ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ‘জুলাই চেতনা থেকে রাষ্ট্র সংস্কার: চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। গতকাল বুধবার দুপুরে বাকৃবি ছাত্রশিবিরের অফিস কক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
শিশির মনির বলেন, নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে সংস্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট সংসদ উচ্চকক্ষ ও নি¤œকক্ষ গঠনের পরিকল্পনা ছিল। এই সময়ের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদ বিলুপ্ত হয়ে সংসদই পরবর্তী সাড়ে চার বছর দায়িত্ব পালন করবে এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার ৯০ দিন আগে ক্ষমতা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে। তবে নির্বাচনের পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরা শপথ গ্রহণ না করায় কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি এবং পুরো প্রক্রিয়া অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে ৪৭টি সংবিধান সংশ্লিষ্ট এবং ৩৭টি সংবিধানের বাইরের বিষয়। সংবিধান সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবগুলোর মধ্যে ৩০টিতে ঐকমত্য থাকলেও ১৭টিতে মতভেদ রয়েছে। অন্যদিকে সংবিধানের বাইরের বিষয়গুলোর মধ্যে গুম প্রতিরোধ, বিচার বিভাগীয় সচিবালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য অধিকার সংশোধনসহ বিভিন্ন অধ্যাদেশ অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব অধ্যাদেশের অনেকগুলোই সংসদে উপস্থাপন না করে বাতিল করা হয়েছে, ফলে সংস্কারের উভয় ধারায় অসঙ্গতি সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই সনদের বিষয়বস্তু নিয়ে কোনো সমস্যা নেই, মূল সমস্যা হচ্ছে বাস্তবায়নে।
শিশির মনির বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে কাঠামোগত সংস্কার জরুরি। এর অংশ হিসেবে একজন ব্যক্তি দুই মেয়াদের বেশি বা মোট ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না- এমন বিধান থাকা উচিত।
পাশাপাশি পারিবারিক রাজনীতির বাইরে এসে সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে নেতৃত্ব তৈরির সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। দলের প্রধান এবং সরকারের প্রধান একই ব্যক্তি হওয়া উচিত নয়। কারণ একজনের পক্ষে একই সঙ্গে দলীয় সভাপতি, সংসদের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন।
বাকৃবি ছাত্রশিবিরের সভাপতি আবু নাছির ত্বোহার সভাপতিত্বে সেমিনারে বাকৃবির ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়েদুল ইসলাম, এগ্রিকালচারিস্ট ফোরাম অব বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব কৃষিবিদ ড. শহীদুল্লাহ শরীফ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।