কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : হাজার হাজার নেতাকর্মীর চোখের জলে বিদায় নিলেন দ্বীনের অকুতোভয় সৈনিক বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ জামায়াতের কেন্দ্রিয় মজলিসে শূরা সদস্য কুষ্টিয়া জেলা আমীর অধ্যাপক মাওলানা আবুল হাশেম। ৩ দফা জানাযা শেষে তাকে দাফন করা হয়েছে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ওয়াপদা মাদরাসা-মসজিদ সংলগ্ন গোরস্থানে।
প্রথম জানাযা অনুষ্ঠিত হয় সোমবার রাতে মরহুমের নিজ এলাকা ভেড়ামারার গোলাপনগরে। দ্বিতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার সকাল ৯টায় কুষ্টিয়া শহরের চাঁদাগাড়া ঈদগাহ ময়দানে। তৃতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয় সকাল ১১টায় মিরপুর ফুটবল মাঠে। প্রতিটি জানাযায় হাজার হাজার নেতাকর্মীরা অংশ গ্রহণ করেন।
কুষ্টিয়া শহরের চাঁদাগাড়া ঈদগাহের মাঠ জানাযার নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কানায় কানায় ভরে যায়। জনসমুদ্রে পরিণত হয় এলাকা। সেখানে জানাযায় জামায়াতের নেতা কর্মী ছাড়াও বিএনপিসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ গ্রহণ করেন। জামায়াতের কুষ্টিয়া যশোর অঞ্চলের টিম সদস্য সাবেক কুষ্টিয়া জেলা আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার একে আলী মহসীন তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য শেষে মরহুমের নামাজে জানাযায় ইমামতি করেন।
সেখানে জানাযা পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন
কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর কুষ্টিয়া অঞ্চলের টিম সদস্য মাওলানা আব্দুল মতিন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য আব্দুল গফুর, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আলমগীর হোসাইন, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রিয় নায়েবে আমীর অধ্যাপক সিরাজুল হক, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুবউদ্দিন আহমেদ, জামায়াতের ঝিনাইদহ জেলা আমীর অধ্যাপক আলী আজম মোহাম্মদ আবুবকর, জামায়াতের কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি আমীর হামজা, ফরিদপুর জেলা আমীর বদর উদ্দিন, মাগুরা জেলা আমীর অধ্যাপক এমবি বাকের, পাবনা জেলা আমীর আবুতালেব মন্ডল, চুয়াডাঙ্গা জেলা আমীর এ্যাড. রুহুল আমিন, মেহেরপুর জেলা আমীর তাজউদ্দিন আহমেদসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন মরহুমের ভাইরা ড. আবু সালেহ ও ছেলে মুজাহিদুল ইসলাম আসিফ। কুষ্টিয়ার জানাযা শেষে মিরপুর ফুটবল মাঠে তৃতীয় জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। তৃতীয় জানাযায় ইমামতি করেন মরহুমের একমাত্র পুত্র মুজাহিদুল ইসলাম আসিফ।
সেখানে জানাযা পূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বিএনপির মিরপুর-ভেড়ামারা আসনের প্রার্থী ব্যারিষ্টার রাগিব রউফ চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কুষ্টিয়া জেলা সেক্রেটারি মাওলানা আরিফুজ্জামান, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা মোহাম্মদ আলীসহ জামায়াতের জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। তৃতীয় জানাযা শেষে মিরপুর উপজেলার ওয়াপদা মাদ্রাসা-মসজিদ সংলগ্ন গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
গত সোমবার বিকালে জামায়াতের কুষ্টিয়া সদর-৩ আসনের প্রার্থী মুফতি আমির হামজাকে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে কুষ্টিয়া শহরের সিঙ্গার মোড়ে মিছিল শেষে বক্তব্যকালে স্ট্রোক করে ঢলে পড়েন অধ্যাপক আবুল হাশেম। সে সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাকে দ্রুত স্থানীয় মান্নান হার্ট ফাউন্ডেশনে নিয়ে যান। এ সময় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অধ্যাপক আবুল হাশেমের মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল (৫৫) বছর। মৃত্যুকালে তিনি এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানসহ অসংখ্য শুভাকাক্সক্ষী রেখে গেছেন।
অধ্যাপক আবুল হাশেম কুষ্টিয়া ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় থেকে ইসলামিক স্টাডিজে অনার্স মাষ্টার্স করেন। ছাত্র জীবনে তিনি সাথী ও সদস্য হিসাবে বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করেন।
কর্মজীবনে তিনি পোড়াদহ কলেজে ইসলামিক স্টাডিজের অধ্যাপক হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
দ্বীনি একজন সংগঠক হিসাবে গ্রামের কাঁদামাটি অতিক্রম করে সংগঠনের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। মিরপুর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি, এর সেক্রেটারি তারপরে উপজেলা আমীর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও আমীর হিসাবে দায়িত্ব আসে। এ সময় তিনি অত্যন্ত বিচক্ষণ, সাংগঠনিক প্রজ্ঞা ও রাজনৈতিক দূরদর্শী হিসাবে সংগঠনকে এগিয়ে নেন। বিগত আওয়ামী সরকারের শাসনামলে তিনি জেলখাটেন। এরপরও সংগঠনের কুষ্টিয়া অঞ্চলের কোন কাজকে স্তব্ধ করতে দেননি।
তিনি সমাজসেবায়ও বহু অবদান রেখে গেছেন। মিরপুর দারুস সালাম প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন মাদ্রাসা, মসজিদ, স্কুল, কলেজসহ বিভিন্ন সমাজসেবামূলক সংগঠনের সাথে তিনি জড়িত ছিলেন।
শত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি দারুস সালাম এতিমখানা মসজিদের খতিব হিসাবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন দীর্ঘদিন। তার গৃহিনীও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মিরপুর উপজেলা মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তান রয়েছে তার। মেয়েটি বিবাহিত। আমেরিকায় থাকেন। ছেলেটি সংগঠনের সাথেই কাজ করছেন।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন দলের নেতৃবৃন্দসহ দলমত নির্বিশেষে বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। নেতৃবৃন্দ মরহুমের মাগফেরাত কামনা করে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।