পবিত্র মাহে রমযানের রোজা পালনকারীদের জন্য যেমনি আল্লাহ অনেক সওয়াব ও সম্মানের কথা ঘোষণা করেছেন, মাহে রমযানুল মোবারকে সিয়াম বিধানের লক্ষ্য ঈমানদার ব্যক্তিদের তাকওয়া অর্জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে কুরআন মাজিদে। তাকওয়া বা আল্লাহভীতি মহত্তম মানবিক চরিত্রের অন্যতম প্রধান উপাদান। আজ পবিত্র রমযানের ৬ষ্ঠতম দিন। রহমতের দিন শেষের পথে।

পবিত্র রমযানে তাকওয়া অর্জনের জন্য আল্লাহ তাগিদ দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা তাঁর শেষ নবীকে যে কয়টি মৌলিক দায়িত্ব দিয়ে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন, তাতে রয়েছে উম্মাহর নৈতিকতার উৎকর্ষের বিষয়টি। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- (মহান আল্লাহ) সেই সত্তা, যিনি নিরক্ষরদের মধ্যে প্রেরণ করেছেন তাদেরই মধ্য থেকে একজন রাসূলকে, যিনি তাদের কাছে পাঠ করেন তাঁর আয়াতগুলো, তাদের পরিশুদ্ধ করেন এবং তাদের শিক্ষা দেন কিতাব ও প্রজ্ঞা। নিশ্চয়ই তারা ইতঃপূর্বে ছিল স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে। (সূরা জুমুয়া, আয়াত-২)

ইসলামের অন্যতম বিশেষত্ব এই যে, এতে নৈতিকতা ও শিষ্টাচারের উৎসাহ দিয়েই ক্ষান্ত করা হয়নি; বরং উন্নত নৈতিকতার উপাদানগুলো ও দূষণীয় দিকগুলো স্পষ্টভাবে ও বিস্তারিত জানিয়ে দেয়া হয়েছে। মানবচরিত্রের যেসব দূষণীয় দিক রয়েছে, সেগুলো নিয়ন্ত্রণে রমযানে সিয়াম অত্যন্ত কার্যকর ও সহায়ক।

মহানবী সাল্লাল্লাহু অলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষা অনুযায়ী পানাহারে মিতাচার উন্নত মানবচরিত্রের অন্যতম উপাদান। মাহে রমযান মু’মিনের জীবনে পানাহারে মিতাচার চর্চার সুযোগ এনে দেয়। রমযান মাসে কথায় ও কাজে মিতাচারী হওয়ার জন্য বলা হয়েছে। রমযান মাসের এটিই শিক্ষা, এটিই বিধান।

ফুকাহায়ে কেরাম খাবার গ্রহণের একটি পর্যায়ক্রমিক আবশ্যিকতা নির্দেশ করেছেন। জীবন ধারণ পরিমাণে খাদ্য গ্রহণ করা ফরজ। সুন্নত নিয়মে ইবাদতগুলো আদায়ের দৈহিক শক্তি সঞ্চারের মতো খাবার গ্রহণ করা ওয়াজিব। উদরের এক-তৃতীয়াংশ খাবার ও এক-তৃতীয়াংশ পানি দিয়ে পূর্ণ করা এবং বাকি এক-তৃতীয়াংশ শূন্য রাখা সুন্নত। উদরপূর্তি করে খাবার গ্রহণ মুবাহ। তবে বিশেষ কোনো ইবাদত বা শরিয়তের নির্দেশ পালনের উদ্দেশ্যে দৈহিক শক্তি অর্জনের জন্য কখনো কখনো উদরপূর্তি করে বা সুস্বাদু খাবার গ্রহণ করা প্রশংসনীয় ও সওয়াবের কাজ হবে; কিন্তু খাবারের লোভ থাকা দূষণীয়। এ ব্যাপারে কুরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে- হে আদম সন্তান! তোমরা প্রত্যেক সালাতের সময় সুন্দর পোশাক পরিধান করবে। তোমরা খাবে ও পান করবে। কিন্তু অপচয় করবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ অপচয়কারীদের ভালোবাসেন না’ (সূরা আ‘রাফ, আয়াত-৩১)। আরো ইরশাদ হয়েছে- হে মু’মিনরা, আমরা তোমাদের যে পবিত্র রিজিক দিয়েছি, তা থেকে আহার করো এবং কৃতজ্ঞতা আদায় করো আল্লাহর, যদি তোমরা তাঁরই ইবাদত করো। (সূরা বাকারা, আয়াত-১৭২)।