মাদারীপুর সংবাদদাতা : মাদারীপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও হত্যাকা-ের ঘটনার পর প্রতিপক্ষের অন্তত ৪০টি বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন। এদিকে বুধবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক। ৮৬ জনকে আসামী করে আলমগীর হত্যা মামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছে নিহতের স্ত্রী।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সদর উপজেলার নতুন মাদারীপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজন আলমগীর হাওলাদারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই ঘটনার জের ধরে মঙ্গলবার রাতে উত্তেজিত লোকজন প্রতিপক্ষ হাসান মুন্সী পক্ষের বিভিন্ন বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় অন্তত ৪০টি বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ করে । এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। তবে ইট ও গাছ ফেলে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ায় ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বেগ পোহাতে হয়।

এদিকে বুধবার সকালে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, এলাকায় সহিংসতা প্রতিরোধে পুলিশ কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে হত্যাকা-ে জড়িতদের গ্রেফতারের আশ্বাস দেন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রেখে বেগম বাদী হয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানায় ৮৬ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় এখন পর্যন্ত বোরহান ও মাসুদ নামে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশসহ যৌথ বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নতুন মাদারীপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান আক্তার হাওলাদার পক্ষ ও হাসান মুন্সী পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এর আগে ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ শ্রমিক দলের পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। ওই সময় কুপিয়ে হত্যা করা হয় হাসান মুন্সীর ভাই সদর উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি শাকিল মুন্সি।