শাহীন সৈকত ,রাজবাড়ী সংবাদদাতা:
গত ২৫ মার্চ রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৬ জনের মধ্যে রাজবাড়ী জেলারই ১৮ জন। কালুখালী থানার ৬ জন, রাজবাড়ী পৌর এলাকার ৫ জন, রাজবাড়ী সদরের ৪ জন, গোয়ালন্দ ২ জন। এছাড়া কুষ্টিয়া জেলার ৪ জন, ঢাকা, গোপালগঞ্জ, ঝিনাইদহ এবং দিনাজপুর জেলার একজন করে নিহত হয়েছে।
এদের মধ্যে দিনাজপুরের নাসিমা (৪০) রানা প্লাজার ঘটনায় বেঁচে ফেরা নারী, যাকে ঘটনার তিনদিন পর উদ্ধার করা হয়েছিল। সেই ঘটনার পর নাসিমা তার গ্রামে ফিরে গেলেও সম্প্রতি তার স্বামীর মৃত্যুর পর সে আবার নতুন করে কাজের সন্ধানে গত ফেব্রুয়ারিতে আশুলিয়াতে আসে, কিন্তু কোন কাজ না পাওয়ায় ভাগ্নির সাথে ভাগ্নির শ্বশুর বাড়ি ফরিদপুর বেড়াতে যায়, সেখান থেকে ফিরে যাওয়ার পথে মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় নিহত হয়, তার মৃতদেহ স্বজনেরা রাজবাড়ী থেকে গ্রহণ করে দিনাজপুরে দাফন সম্পন্ন করে। স্বজনেরা জানান নিহতের লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে নেয়ার পথে আবার দুর্ঘটনায় পতিত হয় তবে এতে তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
রাজবাড়ী সদরের মিজানপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের সোবহান মন্ডলের মেয়ে জোস্না বেগম (৩৫) ঘটনার দিন নিজের আট বছরের ছেলে আলিফকে নিয়ে আশুলিয়া ফিরছিল জোসনা বেগমের মা জানান ঘটনার দিন নাতি সহ মেয়েকে রাজবাড়ী বড়পুল থেকে সৌহার্দ্য বাসে তুলে দিয়ে আসি। পরে আমি মেয়েকে ফোন দেই, মেয়ে বলে "আমরা ঘাটে এসেছি" এইটুকু বলেই একটা জোরে চিৎকার শুনি তারপর আর কোন কথা শোনা যায় নাই, আমি তাড়াতাড়ি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে চলে যাই, সেখানে আমার নাতিকে খুঁজে পাই, মেয়ে নাতিকে জানালা দিয়ে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিলেও নিজে আর বের হতে পারে নাই, নাতিকে পল্টনের লোকজন গামছা ধরিয়ে টেনে উপরে তোলে। মেয়ে আমার পাঁচ বছর ধরে স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি, সে তার ছেলেকে নিয়ে আশুলিয়া থাকতো, ছেলে সেখানে মাদরাসায় পড়ে। মেয়ে তো চলেই গেল এখন আমার এতিম নাতির কি হবে? এমন হাজারো প্রশ্ন নিহতদের পরিবার গুলোতে। ইতিমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে সহযোগিতার ২৫ হাজার টাকা হস্তান্তর করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এর পক্ষ থেকে নদী এলাকায় কোন ভাসমান লাশ পাওয়ার খবর পেলে জানাতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে আলাদা দুইটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে যাদেরকে আগামী তিন কার্য দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন উপস্থাপন করতে বলা হয়েছে।