খুলনা ব্যুরো, রামপাল সংবাদদাতা : বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার বেলাইব্রিজ এলাকায় বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে শিশু ও নববধূসহ ১৩ জন নিহত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম-ঠিকানা জানা যায়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টার দিকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর একটি বাস ও যাত্রীবাহী একটি মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ৯জনের লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে। বাকি ৪ জনের লাশ রামপাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নববধূসহ তিনজন নারী, তিনজন শিশুও রয়েছেন।
জানা যায়, খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে মোংলায় নিজেদের বাড়ি ফিরছিলেন মাইক্রোবাসের যাত্রীরা। আর মোংলা থেকে খুলনায় যাচ্ছিল নৌবাহিনীর বাসটি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দ্রুত গতিতে চলাচলের সময় বাস ও মাইক্রোবাসের মধ্যে সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন যাত্রী নিহত হন এবং আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মিঠু বলেন, পরিবারের বড় ছেলে জনি ফোন করে বলেন ‘আমি বাদে পরিবারের সবাই একই গাড়িতে ছিল, তারা সবাই মারা গেছে। আমি রামপাল হাসপাতালে যাচ্ছি, তোমরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাও।’ আমরা এসে কাউকে জীবিত পায়নি, সবাই মারা গেছে।
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর বিষয়টি এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহতদের খুলনা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বাগেরহাটের কাটাখালি হাইওয়ে থানার ওসি জাফর আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত ব্যক্তিদের পরিচয় জানা যায়নি। তবে নিহতরা সবাই মাইক্রোবাসে ছিলেন বলে জানিয়েছেন ওসি জাফর আহমেদ। ওসির বর্ণনা, নৌবাহিনীর বাসটি মোংলা থেকে ছেড়ে এসেছিল। আর মাইক্রোবাসটি খুলনা থেকে মোংলায় যাচ্ছিল। বেলাই ব্রিজের কাছে মুখোমুখি চলে আসে দুই গাড়ি। বাসের চাপায় দুমড়েমুচড়ে যায় মাইক্রোবাসটি। মাইক্রোবাসের চারজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। স্থানীয়রা আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজে হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মেহনাজ মোশাররফ জানান, সেখানে মোট ৬ জনকে নেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে চারজন আগেই মারা গিয়েছিলেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১১ জনকে খুলনা মেডিকেলে পাঠানো হয়। তাদের মধ্যে ৯ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আর আহত দুইজনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী আর তিনপুরুষ। আরও একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার চিকিৎসা চলছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় প্রশাসন দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে। রামপাল থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন দূর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নৌবাহিনীর বাসগুলোর দ্রুতগতিতে চলাচল বন্ধের দাবি করেছেন সচেতন মহল।