বিজয় স্মরণী কলমিলতা মার্কেটে ভয়াবহ আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়াতে সরকার, রাজনৈতিক দল, সরকারি-বেসরকারি দাতা সংস্থাসহ সমাজের বিত্তবান মানুষকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা-১২ আসনের এমপি সাইফুল আলম খান মিলন।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টায় রাজধানীর বিজয় সরণি মোড় সংলগ্ন কলমিলতা কাঁচাবাজারে আগুনের ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও হাতিরঝিল অঞ্চল পরিচালক হেমায়েত হোসেন, অধ্যক্ষ আশরাফুল হক, তেজগাঁও থানার আমির ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার নোমান আহমেদী ও সেক্রেটারি ফরিদ আহমেদ রুবেল প্রমুখ।

ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন
আজ ভোর আনুমানিক ৫টায় ঘটনাস্থলে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের আন্তরিক প্রচেষ্টায় সকাল ১০টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ভয়াবহ এ আগুনে কাঁচা বাজার, গোশত দোকান, মাছ বাজার ও দর্জির দোকানসহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফলে ব্যবসায়ী হয়ে পড়েছেন সর্বশান্ত।
উল্লেখ্য, জামায়াত নেতৃবৃন্দ আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে একান্তে কথা বলেন এবং সান্ত্বনা প্রদান করেন। নেতৃবৃন্দ ব্যবসায়ীদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং তাদের জন্য সম্ভব কিছু করার আশ্বাস দেন। একইসাথে তারা ক্ষতিগ্রস্ত বিপদে ধৈর্যধারণ এবং আল্লাহর ওপর ভরসা রাখার পরামর্শ দেন।
সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, প্রতি বছরই রাজধানীসহ সারাদেশে প্রভূত সংখ্যক আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ঘটনার পর সরকার বা সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে বেশ তৎপর মনে হলেও এ ধরনের দুঃখজনক ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতের পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় না। আমাদের দেশে অগ্নিনির্বাপণে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও নেই। সেকেলে ও প্রচলিত পদ্ধতিতে অগ্নিনির্বাপণের কাজ হওয়ার প্রতি বছরই জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে।
তিনি ঘটনা তদন্তে একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়ে বলেন, সরকার জনগণের জানমাল নিয়ে এভাবে নির্লিপ্ত থাকতে পারে না। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষতিপূরণ ও পূনর্বাসনে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান এবং অগ্নিদূর্গতদের জামায়াতের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, সরকার সিটি করপোরেশনের নির্বাচন না দিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করে দলীয় ব্যক্তিকে প্রশাসক নিয়োগ করেছে। ফলে ডিএনসিসিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হচ্ছে না। আর কোনো অনির্বাচিত প্রশাসক দিয়ে নগরীর সমস্যা সমাধান করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তিনি অবিলম্বে সিটি নির্বাচনের দিয়ে নির্বাচিতদের হাতে নগর প্রশাসনের দায়িত্ব হস্তান্তর করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের জামায়াতের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতারও আশ্বাস প্রদান করেন।