রাজধানীর সদরঘাটে ট্রলার দিয়ে লঞ্চে উঠতে গিয়ে দুই লঞ্চের চাপায় অন্তত দুইজন নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় আরও ২ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) বিকেল ৫টার দিকে টার্মিনালের ১৪ নং পন্টুনের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘আসা যাওয়া-৫’ (ঢাকা ইলিশা) লঞ্চে ট্রলার দিয়ে যাত্রী তোলার সময় সেটিকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয় ‘এম ভি জাকির সম্রাট-৩’ (ঢাকা-দেউলা-ঘোষেরহাট) নামে আরেক লঞ্চ। তখন ধাক্কা দেওয়া লঞ্চের সামনের অংশের আঘাতে অপেক্ষমান লঞ্চের ওই যাত্রী দুজন পিষ্ট হন। এর মধ্যে এক নারী গুরুতর আহত অবস্থায় পানিতে পড়ে যান। আরেকজন নিহত হয়েছেন বলে জানা গেলেও পুলিশ তা নিশ্চিত করতে পারেনি।

পানিতে পড়ে যাওয়া নারীর নাম বোরা আক্তার (২০)। পুলিশ জানায়, বোরা আক্তার বরিশালের কাশিপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে লঞ্চে উঠেছিলেন। এ সময় পাশাপাশি থাকা দুটি লঞ্চের ঘষাঘষির মধ্যে হঠাৎ তিনি নদীতে পড়ে যান। ঘটনার পরপরই আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ ফয়সাল আহমেদ বলেন, দুই লঞ্চের ঘষাঘষিতে সেই নারী পানিতে পড়ে যান। তার অবস্থা গুরুতর, তবে সর্বশেষ তার শারীরিক অবস্থার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, আসা যাওয়া- ৫’ লঞ্চের সঙ্গে ট্রলারের সংঘর্ষে সম্ভবত একজন যাত্রী নিহত হয়েছেন বলে শুনেছি। আরেকজন আহত হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।

সদরঘাট ১৪ নং পণ্টুনের কাছেই এই ঘটনা ঘটেছে। আমরা আপাতত এটুকুই জানতে পেরেছি। বিস্তারিত আমরা জানলে আপনাদের জানাতে পারবো।

নৌপুলিশ সদস্য ইশতিয়াক আহমেদ বাংলানিউজকে বলেন, ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন স্পটে যাই। সেখানে গিয়ে শুধু লঞ্চের গায়ে রক্ত লেগে থাকতে দেখেছি। আরেকজনকে নদী থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসি। তবে তিনি জীবিত নাকি মৃত সেটা বলকে পারবো না। তাকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন।

সদরঘাটে যাত্রীর ঢল

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঈদের ছুটির আগে শেষ কর্মদিবস হওয়ায় আজ সদরঘাটে যাত্রীসংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। ফলে টিকিট সংগ্রহ ও লঞ্চে ওঠার ক্ষেত্রে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। প্রতিটি লঞ্চ যাত্রীতে পরিপূর্ণ হয়ে ছেড়ে যাচ্ছে, লঞ্চের ছাদেও যাত্রী নিতে দেখা গেছে। যদিও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কঠোর নজরদারিতে রেখেছে, যেন কোনো লঞ্চ অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে না ছাড়ে।

নৌ-নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের যুগ্ম-পরিচালক মুহম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, আজকে যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। দুপুরের পর থেকেই যাত্রীদের এমন চাপ। বারবার মাইকে প্রচার করা হচ্ছে যে নৌকা বা ট্রলারে করে কেউ লঞ্চে ওঠার চেষ্টা করবেন না। আমাদের নৌপুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, র‌্যাব, বিজিবিসহ সবাই প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে যাত্রীদের নিরাপদ ঈদ যাত্রা দিতে।