গাজীপুরে মাত্র পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি পৃথক স্থানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ভোর ৫টা থেকে সকাল ১০টার মধ্যে টঙ্গীর মাঝুখান, কোনাবাড়ীর আমবাগ ও কালিয়াকৈরের বটতলা দিঘিরপাড় এলাকায় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে চারটি তুলার গুদাম, একটি ঝুট/জুটের গুদাম এবং ৭৪–৮০টি টিনশেড কক্ষ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। তবে তিনটি ঘটনাতেই হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

টঙ্গী, কোনাবাড়ি, সারাবো, চৌরাস্তা এবং কালিয়াকৈর ফায়ার স্টেশনের মোট ১১টি ইউনিট টানা চার ঘণ্টারও বেশি সময় চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

টঙ্গীর মাঝুখানে তুলার গুদামে আগুনঃ

ভোর ৫টার দিকে টঙ্গীর মাঝুখান বাজার এলাকায় একটি সেমিপাকা তুলার গুদামে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুন লেগে দ্রুত পাশের আরও তিনটি রুমে ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিসে সংবাদ পৌছায় ৭:৪৬ মিনিটে, একই সময়ে টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। ৮ টায় তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে ৮:২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ৯:০০ টায় সম্পূর্ণ নির্বাপণ সম্পন্ন করে।

এ সময় নেতৃত্ব দেন টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোঃ শাহিন আলম। তিনি জানান,প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং

উদ্ধারয় হয়েছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা।

স্থানীয়দের দাবি, গুদামগুলোতে তুলার বিশাল স্তুপ থাকায় আগুন সীমাহীন গতি পায়।

কোনাবাড়ীর আমবাগে ঝুটের গুদাম পুড়ে ছাইঃ

সোমবার ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে কোনাবাড়ীর নজরদিঘী ডাক্তার মার্কেট এলাকায় পলাশ মিয়ার ৩০০×১০০ ফুট আয়তনের বিশাল জুট/ঝুটের গুদামে আগুন লাগে।

আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয়রা প্রথমে পানি ঢেলে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে কোনাবাড়ি, সারাবো ও চৌরাস্তা স্টেশনের মোট চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এদের নেতৃত্ব দেন গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ–সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন। তিনি জানান, অগ্নিকান্ডে আনুমানিক ২০ লাখ টাকা ক্ষতি এবং প্রায় ১ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্তীর্ণ গুদামজুড়ে ঝুট থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে চারদিকে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।

কালিয়াকৈরের দিঘিরপাড়ে টিনশেড কলোনিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডঃ

সোমবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে কালিয়াকৈর পৌরসভার বটতলা দিঘিরপাড় এলাকার প্রায় ৭৪–৮০ কক্ষের একটি টিনশেড কলোনিতে আগুন লাগে। সকালবেলা ঘরের বাসিন্দারা কর্মস্থলে যাওয়ায় আগুন দ্রুত একের পর এক কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে।

আগুনের খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট ৮:২০ মিনিটে রওনা হয়ে ৮:২৯ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে। দীর্ঘ দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে ৯:১৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ১০ টায় নির্বাপণ শেষ করে।

এদের নেতৃত্ব ছিলেন কালিয়াকুর ফায়ার সার্ভিসর স্টেশন অফিসার মোঃ ইফতেখার হোসেন রায়হান চৌধুরী। তিনি জানান, ওই অগ্নিকাণ্ড প্রায় ২৫ লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং উদ্ধার হয়েছে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা।

স্থানীয়রা জানান, প্রথমে একটি রুম থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে চিৎকার করলে চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তেই পুরো কলোনি আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক মোহাম্মদ মামুন বলেন

ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত প্রায় একই সময়ে গাজীপুরের তিনটি স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আমাদের মোট ১১টি ইউনিট দ্রুত অভিযান চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তিনটি ঘটনাতেই হতাহতের খবর নেই। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে।