কুষ্টিয়ার কুমারখালী-পান্টি বাজার পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক। অসংখ্য ছোট বড় খানাখন্দে ভরা। বহু জায়গায় বৃষ্টির পানি জমে হয়েছে যেন ছোটখাটো পুকুর। ভাঙা সড়কে প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। তবুও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে পথচারী। বিপাকে পড়েছে উপজেলার যদুবয়রা, পান্টি, চাঁদপুর ও বাগুলাট ইউনিয়নের কয়েক লাখ মানুষ।

কুমারখালী এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালে সড়কটি পুনঃসংস্কার করে এলজিইডি। তবে ১০ টন ধারণ ক্ষমতার এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শতশত ২৫ থেকে ৩০ টন ওজনের বালুবাহী ড্রাম ট্রাক ও ভারী যানবাহন চলাচল করে। ফলে সংস্কারের মাত্র চার বছরের মাথায় বেহালদশায় পরিনিত হয়েছে সড়কটি।

১০ টনের সড়কে চলে ৩০ টনের গাড়ি২

কুমারখালীর দক্ষিণ অঞ্চলের চারটি ইউনিয়নবাসীর উপজেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি। এই সড়ক দিয়ে দুই থেকে তিন লাখ মানুষ চলাচল করে। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার একাংশের মানুষের চলাচল এই সড়ক দিয়ে।

কিন্তু অবৈধভাবে অতিরিক্ত বালুবাহী ১০ চাকার ট্রাক ও ভারী যানবহন চলাচলের কারণে সংস্কারের পর ভেঙে গেছে সড়কটি। ভাঙা সড়কে চলতে গিয়ে ঘটছে ছোট বড় অসংখ্য সড়ক দুর্ঘটনা। ভারী যানবহন চলাচল বন্ধের পাশাপাশি সড়কটি সংস্কারের দাবি উঠেছে। গড়াই নদীর বালু উত্তোলনেও ইজারায় অনুমতি পত্রে ভারি যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধ থাকলেও সেটা মোটেও মানা হচ্ছেনা।

১০ টনের সড়কে চলে ৩০ টনের গাড়ি

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের যদুবয়রা বাজার মোড়, যদুবয়রাা পশুহাটের সামনে, জোতমোড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে বড় আকারের গর্ত। সেখানে পানি জমে পুকুরে রূপ নিয়েছে। এছাড়াও সড়ক জুড়ে ছোট বড় অসংখ্য খানাখন্দ। চলাচল করছে বালুবাহী ১০ চাকার ট্রাক ও ড্রাম ট্রাক। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে ছোট যানবাহনগুলো।

সড়কের বেহাল দশার ব্যাপারে জোতমোড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক আক্ষেপ করে বলেন, অনেকদিন হলো বিদ্যালয়ের সামনে বড় গর্ত। বৃষ্টি হলেই পানি জমে পুকুর হয়ে যায়। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের পোশাক নোংরা পানিতে ভিজে যায়। চরম ভোগান্তি হলেও সংস্কার করার কেউ নাই।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অহনা খাতুন জানায়, ট্রাক যাওয়ার সময় গর্তের কাঁদা পানি ছিটে পোশাক-বই খাতা ভিজে যায়। এসব বালুর গাড়ি বন্ধ হলে নিরাপদে চলাফেরা করা যেত।

ভ্যানচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, রাস্তার সব জায়গা ভাঙা। ২০ মিনিটের পথ যেতে ৪০ মিনিট লাগে। গর্তে চাকা পড়ে ভ্যান, টায়ার টিউব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

যদুবয়রার ভ্যানচালক মনিরুল ইসলাম বলেন, সারা রাস্তা ভাঙা, ছোট বড় অনেক গর্ত। বৃষ্টি হলেই কাঁদা-পানির পুকুর হয়ে যাচ্ছে। গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে, অতিরিক্ত বালুর গাড়ির কারণে রাস্তা আরো বেশি নষ্ট হচ্ছে বলেও সে জানায়।

জোতমোড়ার জোয়াদ আলী বলেন, বালু বোঝায় বড় বড় ট্রাক চলাচলের কারণে সড়কটি নষ্ট হয়েছে। মানুষ খুব কষ্ট ও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। বালুর গাড়ি বন্ধ করে সড়ক সংস্কারের দাবি তার।

১০ টন ধারণ ক্ষমতার সড়কে ২৫-৩০ টন ওজনের যানবাহন চলাচলের কারণে সংস্কারের মাত্র চার বছরের মাথায় আবারও সড়কটি ভেঙে পড়ছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক। তিনি বলেন, অবৈধ যানবাহন চলাচল বন্ধের জন্যে প্রশাসনকে বলা হবে। তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরে বরাদ্দ পেলে সড়কটি সংস্কার করা হবে।