যশোর-নড়াইল মহাসড়কের ফতেহপুর এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনার সৃষ্টি হয়, যখন চলন্ত অবস্থায় একটি যাত্রীবাহী বাসে হঠাৎ আগুন ধরে যায়। তবে সৌভাগ্যক্রমে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে বাসের সকল যাত্রী নিরাপদে নেমে আসতে সক্ষম হয়েছেন। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) দুপুরে যশোর সদর উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। ইতোমধ্যে ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায় দাউদাউ করে জ্বলছে বাসটি একটি মুহূর্ত যা প্রত্যক্ষদর্শীদের মনে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাসটি যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছিল। হঠাৎ করেই বাসটির ইঞ্জিন অংশে আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই তা পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ হয়ে উঠলে যাত্রীরা চরম আতঙ্কে পড়েন। জীবন বাঁচাতে তারা জানালা ও দরজা দিয়ে হুড়োহুড়ি করে বেরিয়ে আসেন।
পুলিশ জানায়, বাসটি যশোরের মনিহার এলাকা থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে নড়াইল হয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল। যাত্রা শুরুর প্রায় ১০ কিলোমিটার পর ফতেহপুর এলাকায় পৌঁছালে বাসটির ইঞ্জিনে আগুন ধরে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি বিকট শব্দ হয় এবং বাসটি থেমে যায়। এই অবস্থায় যাত্রীরা দ্রুত নেমে এসে নিজেদের জীবন রক্ষা করেন।
দুর্ঘটনার কারণে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। যশোর ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার মুজিবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা গ্যাস লিকেজ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
এদিকে, যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল ইসলাম জানান, বাসটি যাত্রা শুরুর আগে চালক এর ত্রুটির বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছিলেন। তবুও মালিকপক্ষের চাপের মুখে বাসটি ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। কোনো ধরনের অবহেলা বা বেআইনি কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, যানবাহনের নিরাপত্তা ও যান্ত্রিক ত্রুটি অবহেলা কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। অল্পের জন্য রক্ষা পেলেও, এমন ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই যায়।