পাটকেলঘাটা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা : পাটকেলঘাটার খলিষখালী ইউনিয়নের কাটাখালী গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি অসহায় বিধবা পরিবারের বসতবাড়ি, রান্নাঘর ও গোয়ালঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ১৫ মিনিটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাটাখালী গ্রামের মৃত গহর আলীর পরিবারের বসতবাড়িতে হঠাৎ আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে বসতঘর, রান্নাঘর ও গোয়ালঘরে। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো জানা যায়নি। তবে এলাকাবাসীর ধারণা, গোয়ালঘরে মশা তাড়ানোর জন্য জ্বালানো কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।
অগ্নিকাণ্ডে বসতবাড়ি, রান্নাঘর ও গোয়ালঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এতে ২টি গরু, ২টি ছাগল এবং বেশ কিছু হাঁস-মুরগি আগুনে পুড়ে মারা যায়। এছাড়া ঘরে ভিতরে বিধবা মহিলার গচ্ছিত গরু বিক্রির জন্য তিলে তিলে জমানো প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সবমিলিয়ে প্রায় ১০ লক্ষ্য টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মৃত গহর আলীর পরিবারে তার স্ত্রী, দুই মেয়ে, তিন ছেলে ও দুই জামাইসহ মোট আটজন সদস্য রয়েছেন। তাদের নিজস্ব কোনো জমিজমা নেই। দুই জামাই স্থানীয় ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। গহর আলীর স্ত্রী গরু, ছাগল ও হাঁস-মুরগি পালন করে কোনো রকমে সংসার চালাতেন। অগ্নিকাণ্ডে তাদের শেষ সম্বলটুকুও পুড়ে যাওয়ায় পরিবারটি এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের পরপরই তালা ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়া হলে কর্তৃপক্ষ গাড়ি পাঠানোর কথা জানায়। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে না পৌঁছালে পুনরায় যোগাযোগ করা হয়। তখন জানানো হয়, সাতক্ষীরা থেকে আসা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি পাটকেলঘাটা বাজার পর্যন্ত গিয়ে স্থানীয় কারও কাছ থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে এমন তথ্য পেয়ে তারা আবার ফিরে গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমানো সম্ভব হতো । এলাকাবাসীর দাবি রমজান মাসে বিত্তবানরা যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন, তাহলে একটা বিধবা পরিবার প্রতিষ্ঠিত হতে পারতো।