সিলেট ব্যুরো: সিলেটে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাসকে পেছন থেকে ঢাকাগামী অপর একটি বাস ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই দুইজন নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার ভোরে ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর বাজারে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন- যাত্রীবাহী ‘যাতায়াত’ পরিবহনের বাসচালক সোহেল (৩০) ও হেলপার ইমন (২০)। চালক সোহেল নরসিংদী জেলার সদর উপজেলার শাহী প্রতাপ গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় যাত্রীবাহী ‘যাতায়াত’ পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-০৬০২) সড়কের পাশে সিলেটমুখী অবস্থায় দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় একই দিকে যাওয়ার পথে ‘সেন্টমার্টিন সৌহার্দ্য’ পরিবহনের দ্রুতগামী একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব-১১-০২৪১) পেছন থেকে এসে দাঁড়িয়ে থাকা বাসটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়ি দুটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই যাতায়াত বাসের চালক সোহেল ও হেলপার ইমন মারা যান। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে হাইওয়ে ও স্থানীয় থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেন শেরপুর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান।

নেত্রকোণা বাস চাপায় মা ও দুই মেয়ে নিহত আহত দুই

নেত্রকোনা সংবাদদাতা

নেত্রকোনা সদরের বাইপাস এলাকায় বাসচাপায় অটোরিকশায় থাকা মা ও দুই মেয়ে নিহত হয়েছেন। এতে আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

গতকাল রোববার সাড়ে ১১টার দিকে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ সড়কের চল্লিশা এলাকার বাইপাস মোড়ে ঘটনাটি ঘটে।

নিহত হলেন নেত্রকোনা সদর উপজেলার আমলী কেশবপুর গ্রামের নূরজাহান বেগম (৪০), বড় মেয়ে স্মৃতি আক্তার (১৬) ও ছোট মেয়ে ইতি আক্তার (১০)।

প্রত্যক্ষদর্শী জানান, নেত্রকোনা থেকে ছেড়ে যাওয়া ময়মনসিংহগামী বাস শ্যামগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন।

স্থানীয়রা বাসের নিচ থেকে পাঁচজনকে উদ্ধার করে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে আরও দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। আহত বাকি তিনজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অপর একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন সরকার বলেন, নিহত তিনজনের মরদেহ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তাদের পরিচয় পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কুষ্টিয়ায় নিহত ১ সেনাসদস্যসহ আহত ৬০

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা : কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলায় সেনাসদস্য বহনকারী বাসের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক বাসযাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সেনাসদস্যসহ অন্তত ৬০ জন আহত হয়েছেন। রোববার দুপুর ১২টার দিকে পাবনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে উপজেলার তালবাড়িয়া হাইস্কুলের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম জিয়া বলে জানা গেছে। তিনি ব্র্যাক ব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন এবং তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায়।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, একটি ভাড়া করা বাসে প্রশিক্ষণরত সেনাসদস্যরা বগুড়া থেকে খুলনার দিকে যা”িছলেন। পথিমধ্যে খুলনা থেকে আসা হিমেল পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে তালবাড়িয়া হাইস্কুলের সামনে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে দুই বাসই মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহত সেনাসদস্যরা জানান, তারা প্রশিক্ষণরত অবস্থায় ঈদুল আজহার ছুটিতে বাড়িতে ছিলেন। ছুটি শেষে খুলনার জাহানাবাদ সেনানিবাসে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন। বাসটিতে মোট ৪২ জন সেনাসদস্য ছিলেন, যাদের সবাই কমবেশি আহত হয়েছেন।

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বিনোদ নগর ইউনিয়নের চেরাগপুর এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় তানভীনা আক্তার লিজা (২৫) নামে এক যুবতীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৩১ মে) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঈদের আনন্দঘন মুহূর্তে এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

নিহত তানভীনা আক্তার লিজা পার্বতীপুর উপজেলার পাটিকাঘাট গ্রামের গোলজার হোসেনের মেয়ে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে নানার বাড়ির দাওয়াতে অংশ নিতে বাবার সঙ্গে মোটরসাইকেলযোগে বিরামপুর উপজেলার বেপারীটলা গ্রামে যাচ্ছিলেন তানভীনা। পথে নবাবগঞ্জ উপজেলার চেরাগপুর এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেল থেকে নেমে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। এ সময় নবাবগঞ্জ থেকে আফতাবগঞ্জগামী একটি যাত্রীবাহী বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

দুর্ঘটনার পর তিনি সড়কে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নিলেও পথেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। দুর্ঘটনার পর থেকেই এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঈদের আনন্দের আগমুহূর্তে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু স্বজনদের শোককে আরও ভারী করে তুলেছে।

নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবতীর মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনাসহ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু

চট্টগ্রাম ব্যুরো: পবিত্র ঈদুল আযহার টানা পাঁচ দিনের ছুটিতে (২৬ থেকে ৩০ মে) চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনা, বজ্রপাত, নৌকাডুবি, গণপিটুনি, পারিবারিক সংঘর্ষ, পানিতে ডুবে মৃত্যু এবং আত্মহত্যার ঘটনায় অন্তত ১৫ জনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ। ঈদের আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যেই এসব মর্মান্তিক ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে আসে বিভিন্ন এলাকায়।

১৫ জনের প্রাণহানির মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন, বজ্রপাতে ২ জন, গাছ চাপায় ১ জন, গণপিটুনিতে ১ জন, পারিবারিক সংঘর্ষে ১ জন, পানিতে ডুবে ২ জন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ জন এবং আত্মহত্যার ঘটনায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি নৌকাডুবির ঘটনায় এক নববধূ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

বজ্রপাতে দুই প্রাণহানি : ২৬ মে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় দুইজনের মৃত্যু হয়। বাঁশখালীর উত্তর সরল গ্রামে বজ্রপাতে মারা যান মাওলানা আব্দুল্লাহ (৪২)। তিনি মাঠে থাকা অবস্থায় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হলে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, নোয়াজিষপুর এলাকায় গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে নিহত হন বেলাল সিকদার (৪০)। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে বিক্রির জন্য গরু প্রস্তুত করছিলেন তিনি।

কর্ণফুলী নদীতে নৌকাডুবি, নববধূ নিখোঁজ : ২৭ মে রাঙ্গুনিয়ার চন্দ্রঘোনা ও কোদালা ঘাট সংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে একটি নৌকা ডুবে যায়। এতে কণিকা দাস (২০) নামে এক নববধূ নিখোঁজ হন। পারিবারিক সদস্যদের নিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়ি যাওয়ার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

রাউজানে গাছ চাপায় অটোরিকশা চালকের মৃত্যু : একই দিনে রাউজানের পশ্চিম গুজরা এলাকায় কালবৈশাখী ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছ সরাতে গিয়ে আরেকটি গাছের চাপায় প্রাণ হারান সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক বনমালি দাশ শংকর (৪০)। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাস্তার ওপর পড়ে থাকা গাছ সরানোর সময় হঠাৎ পাশের একটি গাছ ভেঙে তার ওপর পড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কর্ণফুলীতে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে নিহত ৪ : ঈদের ছুটিতে সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে ২৮ মে রাতে কর্ণফুলীর শিকলবাহা ক্রসিং বাজারের টাওয়ারের গোড়ায় এলাকায়। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে ঈগল পরিবহনের একটি বাস ও যাত্রীবাহী লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত এবং প্রায় ৩০ জন আহত হন। নিহতরা হলেন মো. ইউসুফ (৫৩), রুবেল (২৬), হারুনুর রশিদ (৫১) এবং সজিব হোসেন (২৬)। আহতদের মধ্যে সজিব হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

সাতকানিয়ায় গণপিটুনিতে যুবক নিহত : ২৮ মে রাতে সাতকানিয়ার চরতী ইউনিয়নে গণপিটুনিতে মো. সেলিম (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনায় আরও দুজন আহত হন। পুলিশ জানায়, ঈদের দিন সকালে সংঘটিত একটি মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সন্ধ্যার দিকে কয়েকশ মানুষ একটি বাড়ি ঘেরাও করে সেলিম ও তার সহযোগীদের মারধর করে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেলিমের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ছোট ভাই নিহত : ৩০ মে ফটিকছড়ির বাগানবাজার ইউনিয়নে ফেসবুক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ছোট ভাই মুহাম্মদ জয়নাল (৩৮) নিহত হন।

পুলিশ জানায়, বড় ভাই জাফর ও প্রতিবেশীর মধ্যে বাকবিত-া ও ধস্তাধস্তির সময় জয়নাল পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে জাফরের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর অভিযুক্ত জাফরকে আটক করা হয়েছে।

ফটিকছড়িতে একদিনে চার মৃত্যু : ৩০ মে ফটিকছড়িতে পৃথক দুটি ঘটনায় চারজনের মৃত্যু হয়। হাজারীখীল বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে বেড়াতে গিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা লেগে নিহত হন জয় মল্লিক (১৮) ও সীমান্ত দাশ (২২)। একইদিন পাইন্দং এলাকার একটি মাছের খামারে পানিতে পড়ে যায় তিন শিশু। খামার মালিক মফিজ দুই শিশুকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও আড়াই বছরের শিশু মুনতাহিনা নিখোঁজ হয়। পরে শিশুটিকে উদ্ধারে আবার পানিতে নামলে মফিজ নিজেও ডুবে মারা যান। দীর্ঘ তিন ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয় শিশু মুনতাহিনার মরদেহ।

বোয়ালখালীতে যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার : ঈদের ছুটির শেষ দিনে বোয়ালখালী পৌরসভার আসকর পাড়ায় ইমরান হোসেন (২৮) নামে এক যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঘরের দরজা বন্ধ দেখে সন্দেহ হলে জানালার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

উদ্বেগ বাড়াচ্ছে অস্বাভাবিক মৃত্যুর সংখ্যা : ঈদের পাঁচ দিনের ছুটিতে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সংঘটিত এসব ঘটনায় অন্তত ১৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন, বজ্রপাতে ২ জন, গাছ চাপায় ১ জন, গণপিটুনিতে ১ জন, পারিবারিক সংঘর্ষে ১ জন, পানিতে ডুবে ২ জন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২ জন এবং আত্মহত্যার ঘটনায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি নৌকাডুবির ঘটনায় এক নববধূ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, প্রতিটি ঘটনার বিষয়ে পৃথকভাবে তদন্ত ও আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব মর্মান্তিক ঘটনায় নিহতদের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

চুয়াডাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্র নিহত

চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা:

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা-দর্শনা মহাসড়কের জয়রামপুর কাঠালতলা নামক স্থানে ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও পাখি ভ্যানের ত্রিমুখী সংঘর্ষে মেরাজ হোসেন (১৩) নামে এক স্কুল ছাত্র নিহত হয়েছে। এ সময় রাকিব হোসেন (১৪) গুরুতর আহত হয়। গতকাল রোববার (৩১) দুপুর আড়াইটার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত মেরাজ হোসেন উপজেলার বড় দুধ পাতিলা গ্রামের আবু মুসার ছেলে এবং দর্শনা দক্ষিণ চাঁদপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।

পুলিশও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার দুপুরে মেরাজ হোসেন ও তার বন্ধু রাকিব হোসেন বাড়ি থেকে বের হয়ে মোটর সাইকেলযোগে দামুড়হুদায় যাওয়ার পথে জয়রামপুর কাঠালতলা নামক স্থানে পৌঁছায়। এ সময় ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও পাখি ভ্যানের সাথে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হলে মেরাজ হোসেন ও রাকিব হোসেন গুরুতর আহত হয়। তাদেরকে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। এরপর মেরাজ হোসেন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।

নিহতর বাবা আবু মুসা জানান, তার ষষ্ঠ শ্রেণীতে স্কুল পড়ুয়া ছেলে মিরাজ হোসেন ও তার বন্ধু রাকিব হোসেন মোটরসাইকেল যোগে দামুড়হুদা উপজেলা শহরে যাওয়ার পথে জয়রামপুর কাঠালতলা নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।