চলতি মাসের শুরুতে নেপালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি) সংসদের নিম্নকক্ষ হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে ভূমিধস বিজয়ের পর দেশটির সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন বালেন্দ্র শাহ। কাটমান্ডু পোস্ট, রয়টার্স।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন আরএসপি প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয় পায়। ৩৫ বছরবয়সি বালেন্দ্র শাহ, যিনি ‘বালেন’ নামেই বেশি পরিচিত, একজন রাজনৈতিক বহিরাগত হিসেবে পরিচিত। গতকাল শুক্রবার (২৭ মার্চ) সংবিধানের ৭৬(১) অনুচ্ছেদের অধীনে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেল।
বালেন্দ্র শাহ কাঠমান্ডুতে জন্মগ্রহণ করেছেন, তবে তার পরিবার নেপালের ভারত সীমান্তবর্তী হিন্দুপ্রধান তরাই অঞ্চলের বাসিন্দা। নেপালের সমাজে ধর্ম ও জ্যোতিষশাস্ত্রের বড় প্রভাব রয়েছে। দেশটির ৮০ শতাংশের বেশি মানুষ হিন্দু সম্প্রদায়। তারা অনেক সময় শুভ সময় দেখে নতুন কাজ শুরু করা, বিয়ে করা বা ধর্মীয় আচার পালন করে।
প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউদেলের অংশগ্রহণে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মের রীতি অনুযায়ী শঙ্খনাদ, হিন্দু পুরোহিত ও বৌদ্ধ লামাদের ধর্মীয় মন্ত্রপাঠ অন্তর্ভুক্ত ছিল। শাহ কর্মকর্তাদের এবং কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে নবনির্বাচিত মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে শপথ নেন। বালেন্দ্র শাহ একজন স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার। তিনি কাঠমান্ডুর মেয়র হওয়ার আগে একজন র্যাপ শিল্পী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। ৩০ মিলিয়ন মানুষের দেশে সেপ্টেম্বরে সংঘটিত রক্তক্ষয়ী যুব-নেতৃত্বাধীন অভ্যুত্থানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হন। যদিও তিনি সরাসরি বিক্ষোভে অংশ নেননি, শাহ প্রকাশ্যে জেনারেশন জেড প্রজন্মের বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বরে নেপালে সংঘটিত জেন-জি আন্দোলন ছিল দুর্নীত, বেকারত্ব এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান। এই আন্দোলন পরে সহিংস রূপ নেয়, যার ফলে ৯ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।
এমন পরিস্থিতিতে বালেন্দ্র শাহ এমন একটি সরকারের নেতৃত্ব দেবেন যার কাজ হবে নেপালের প্রতিষ্ঠিত দলগুলোর প্রতি জনগণের গভীর অসন্তোষ সামাল দেওয়া। এর পাশাপাশি দুর্নীতি নির্মূল ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সমুন্নত রাখতে কাজ করে যেতে হবে।