হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে মো. রফিক (৪০) নামে এক প্রান্তিক বর্গাচাষির প্রায় আড়াই টন ধান পুড়ে গেছে। একই সঙ্গে আগুনে আনুমানিক ১০ হাজার টাকা মূল্যের শুকনো খড় পুড়ে ছাই হয়েছে। বুধবার ভোরে উপজেলার ধলই ইউনিয়নের কাটিরহাট দক্ষিণ উদালিয়া মোহছেনা পাড়া দক্ষিণ বিলে এ ঘটনা ঘটে।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ভুক্তভোগী কৃষক মো. রফিক সপ্তাহখানেক আগে ধান কাটা শেষে শুকানোর উদ্দেশ্যে বিলের ওই স্থানে প্রায় চারশ’ আড়ি (প্রায় চার টন) ধান ও খড় স্তূপ করে রাখেন। এর মধ্যে দুই–তিন দিনের ব্যবধানে জমির মালিকের অংশ ও পরিবারের খোরাকির জন্য প্রায় দেড় টন ধান ঘরে তোলা হয়। অবশিষ্ট ধান ও খড় ঘটনাস্থলেই রাখা ছিল।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জানান, ঘটনার দিন ভোররাত আনুমানিক তিনটার দিকে কুকুরের শোরগোল শুনে তিনি বিলের দিকে গেলেও কাউকে দেখতে না পেয়ে বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে ভোর পাঁচটার দিকে পাশের এক প্রতিবন্ধী নারীর ফোন ও চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন ধান ও খড় সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। তার ধারণা, কুকুরের চিৎকারে প্রথমে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেলেও পরে সুযোগ বুঝে আগুন দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে রফিক বলেন, “আমি কারও কোনো ক্ষতি করিনি। কে বা কারা এমন সর্বনাশ করল বুঝতে পারছি না। আমার পরিবার ও গবাদিপশুর খাবারে এভাবে আগুন দেওয়া হলো।” তিনি জানান, তার আটটি গরু রয়েছে। খড় পুড়ে যাওয়ায় নতুন করে খড় কেনার সামর্থ্য না থাকায় কয়েকটি গরু বিক্রির কথাও ভাবছেন তিনি।
খবর পেয়ে দক্ষিণ উদালিয়া মোহছেনা পাড়া কৃষি সমবায় সমিতির নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সান্ত¡না দেন এবং ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। পাশাপাশি উপজেলা কৃষি অফিসের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির সত্যতা নিশ্চিত করে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন জানান, ক্ষতিগ্রস্ত রফিক তালিকাভুক্ত কৃষক। চলতি মৌসুমে তিনি কৃষি প্রণোদনা পেয়েছেন। ঘটনার পর পুনরায় তাকে প্রণোদনা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।
এদিকে ঘটনার দিন রাতে ভুক্তভোগী কৃষক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হাটহাজারী মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে সাধ্যমতো সহযোগিতা করা হবে।”