গতকাল কুষ্টিয়ায় ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে একই পরিবারের ৩ জনসহ ৫ জন নিহত হয়েছে। এছাড়া মৌরভীবাজার, বরিশালের গৌরনদী, সাতক্ষীরার কলারোয়ায় পৃথক দুর্ঘটনায় আরও ঝরেছে প্রাণ।
কুষ্টিয়া সংবাদদাতা জানান, কুষ্টিয়ায় সিলিন্ডারবাহী ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়া বাইপাস সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- খাজানগর এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলামের দুই স্ত্রী আমেনা খাতুন (৬৫) ও কমেলা খাতুন (৬২), আমেনা খাতুনের মেয়ের জামাই সিএনজিচালক জাকারিয়া সরকার (৪০), খাজানগর এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে আশরাফুল (২৮) ও আশরাফুলের স্ত্রী শিরিনা খাতুন (২০)। নিহত আমেনা ও কমেলা তাদের মেয়ের বাড়ী রাজশাহী জেলার বাঘা থানার চকরাজাপুর এলাকার থেকে নিজ বাড়ি কুষ্টিয়ার খাজানগর এলাকায় আসছিলেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিএনজিটি শহরের ত্রিমোহনী থেকে বাইপাস হয়ে খাজানগরের দিকে যাচ্ছিল। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গ্যাস সিলিন্ডারবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজিটির সঙ্গে সরাসরি ধাক্কা খায়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত আরও দুজজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরও মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে হাইওয়ে থানা পুলিশ ও কুষ্টিয়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ পরিচালনা করেন। দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। পরে পুলিশ যান চলাচল স্বাভাবিক করে।
কুষ্টিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ বলেন, ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। দুজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। তিনি আরও বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি জব্দ করা হয়েছে। ট্রাকচালক পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে এসে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
তিনি জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের দাফনের জন্য প্রত্যেকের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা ও বিআরটিএর পক্ষ থেকে যে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয় তার সকল ব্যবস্থা করে দেবেন।
মৌলভীবাজার সংবাদদাতা জানান, মৌলভীবাজারে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান গত শুক্রবার দিবাগত রাতে রাত সাড়ে বারোটার দিকে ঢাকা সিলেট মহাসড়কের শেখবাড়ি সংলগ্ন শাহপুর এলাকায় পিকআপ ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি পিকআপের সঙ্গে সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ২ জন নিহত হন। স্থানীয়রা গুরুতর আহত আরও একজনকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন। নিহতরা হলেনÑ মৌলভীবাজার পৌরসভার খলাপাড়া এলাকার রেহান, পিকআপচালক রুবেল এবং সদর উপজেলার কালেঙ্গা এলাকার বাসিন্দা সিএনজি চালক আলী নূর। এ ব্যাপারে জানার জন্য মৌলভীবাজার সদও মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দুর্ঘটনার সত্যতা স্বীক্ষার করে বলেন নিহত তিন জনের লাশ সদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে।
গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, বরিশালের গৌরনদী মাহিলারা বাজারের উত্তর পাশে অনন্ত নারায়ণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সম্মুখে বরিশাল গামী মনু পরিবহন পিছন থেকে ধাক্কা দিলে মাহিন্দ্র চালক নিহত ও অপর দুইজন গুরুতর আহত হন।
গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা বরিশাল মহাসড়কে গৌরনদীর মাহিলারা স্ট্যান্ডের উত্তর পাশে অনন্ত নারায়ণ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সম্মুখে বরিশালগামী যাত্রীবাহী বাস মুন পরিবহন (ঢাকা মেট্রো -০১২-৩০৩৩) দ্রুত গতিতে কাভার ভ্যান ওভারটেক করে সামনে থাকা ব্যাটারি চালিত ভ্যান ও একটি মাহেন্দ্র কে পিছন থেকে ধাক্কা দেয় এতে মাহেন্দ্র ড্রাইভার মোহাম্মদ আলী (৫১) ভ্যানচালক মোহাম্মদ খোকন শিকদার (৪৫) ও যাত্রী নির্মল মন্ডল (৭০) গুরুতর আহত হন। আহতদের গৌরনদী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরে কর্তব্যরত ডাক্তার মাহেন্দ্র চালক, তৈয়ব আলীকে মৃত্যু ঘোষণা করেন, তিনি উপজেলার টিকা সার গ্রামের মৃত রহম আলী হাওলাদারের ছেলে। ভ্যানচালক খোকন সিকদার উপজেলার মহিলারা আনোয়ার শিকদারের ছেলে ও যাত্রী নির্মল ম-ল উপজেলার পূর্ব বেজহার গ্রামের রায় চরণ মন্ডলের ছেলে।