দাউদকান্দি (কুমিল্লা) সংবাদদাতা : কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ভস্মীভূত হয়েছে। গত ২৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে গৌরীপুর-হোমনা সড়কের পূর্ব পাশে ‘মেসার্স নিহান এন্টারপ্রাইজ’ নামক দোকানে এ ঘটনা ঘটে। এতে ইলেকট্রিক সামগ্রীসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী। দোকানের মালিক রকিব উদ্দিন মিয়াজী জানান, সারাদিন রোজা রেখে ইফতার করার জন্য দোকান বন্ধ করে তিনি পাশের গ্রাম বারপাড়ায় গিয়েছিলেন। ইফতারের ঠিক আগমুহূর্তে মুঠোফোনে খবর পান তার দোকানে আগুন লেগেছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি দেখেন, চোখের সামনেই দাউ দাউ করে জ্বলছে তার তিল তিল করে গড়ে তোলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সে সময় আগুন নেভানোর কোনো উপায় ছিল না।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে সোলার প্যানেল, ব্যাটারি, বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রিক সামগ্রী এবং টিস্যুসহ বিপুল পরিমাণ পণ্যের মজুত ছিল। ভাগ্যবিড়ম্বনার বিষয় হলো, অগ্নিকাণ্ডের দিনই প্রায় ৫০ লাখ টাকার নতুন ইলেকট্রনিক পণ্য দোকানে তোলা হয়েছিল।কান্নায় ভেঙে পড়ে রকিব উদ্দিন বলেন, “ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংকসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিয়ে এবং আত্মীয়-স্বজনের সহায়তায় আমি মালামাল তুলেছিলাম। আমার সব শেষ হয়ে গেল। আমি এখন কীভাবে ঘুরে দাঁড়াব?” খবর পেয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দাউদকান্দি স্টেশনের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তাদের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ঘন ধোঁয়ার কারণে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে প্রায় দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। উদ্ধারকাজে সহায়তা করেন গৌরীপুর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা।দাউদকান্দি ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা ইরশাদ হোসাইন বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের কর্মীরা কাজ শুরু করেন। সারাদিন রোজা রেখে ইফতার না করেই তারা আগুন নেভানোর লড়াই চালিয়েছেন। প্রচণ্ড ধোঁয়ার মধ্যে কাজ করতে গিয়ে আমাদের কয়েকজন কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন।” ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব জানা যাবে বলে জানানো হয়েছে।