গাজীপুর মহানগরীর বাসন এলাকার ভোগড়া সড়কে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় অটোরিকশাচালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে গেলে নিহতরা বাসের নিচে আটকা পড়েন। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের যৌথ উদ্ধার অভিযানে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত একজনের নাম সুজন (৩৮) তার বাড়ি জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ এলাকায়।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভোগড়া এলাকায় বিসমিল্লাহ জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পূর্ব পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, একটি অটোরিকশা যাত্রী নিয়ে ভোগড়া বাইপাসের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে যাত্রী ওঠানোর জন্য অটোরিকশাটি হঠাৎ ব্রেক করলে পেছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা বিনিময় পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি বাসের নিচে চাপা পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই অটোরিকশাচালক ও এক যাত্রীর মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে মডার্ন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন গাজীপুর চৌরাস্তার তিনটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। বাসের নিচে আটকে পড়া লাশ দুটি উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা হাইড্রোলিক স্প্রেডার, হাইড্রোলিক র্যাম জ্যাক ও হাইড্রোলিক কাটার ব্যবহার করেন। পুলিশের রেকার ভ্যানের সহযোগিতায় প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় নিহতদের লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন বলেন, 'দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে আমাদের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। অটোরিকশা ও নিহতরা বাসের নিচে আটকে ছিল। আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জামের সাহায্যে তাদের উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।'
তিনি আরও জানান, উদ্ধার কাজ শেষে সড়কে ছড়িয়ে থাকা রক্ত ও ভাঙা কাঁচ পরিষ্কার করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।
বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়।