কুড়িগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় সন্ত্রাসীদের হামলায় নকলনবিশ মমিন গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়েছেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে খোঁজখবর নিয়ে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে রোববার দুপুরে অফিস চলাকালীন সময়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় মমিন নামের এক নকলনবিশকে সন্ত্রাসীরা বেধড়ক মারপিট করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে।
জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে উক্ত নকলনবিশের সাথে দলিল লেখক সমিতির দলিল লেখকদের মনোমালিন্য চলে আসছিল বলে জানিয়েছেন অনেকে। সেই মনোমালিন্যের জেরে দলিল লেখক সমিতির নেতাদের ছত্রছায়ায় কতিপয় সন্ত্রাসী পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী রোববার দুপুরে সদর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত নকলনবিশ মমিনুল ইসলামকে বেধড়ক মারপিট ও রক্তাক্ত জখম করে। উক্ত নকলনবিশ মমিনুল ইসলামের পিতার নাম আবুল কাশেম। তার বাড়ি রাজারহাট উপজেলার মানাবাড়ি এলাকায়।
ঘটনার দিন রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে গুরুতর আহত নকলনবিশ মমিনুল ইসলামকে চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুরে রেফার করেন। নকলনবিশ মমিনুল ইসলামের সহপাঠীরা এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
সন্ত্রাসী হামলার সাথে জড়িত আবুল কালাম আজাদ, হায়দার আলী, আবুল হোসেন, মিরাজ উদ্দিন, রেদওয়ানুল হক জীবনসহ ৭-৮ জনের নাম উল্লেখ করে কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জের নিকট দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আহত নকলনবিশের স্ত্রী বেবি নাজনীন বাদী হয়ে একটি এজাহার দাখিল করেছেন।
নকলনবিশ সমিতির নেতৃবৃন্দ নিজেদের চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার কথা জানিয়ে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার মো. রুহুল কুদ্দুছ জানান, নকলনবিশদের সাথে দলিল লেখকদের দ্বন্দ্বের সূত্র ধরে অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটেছে। এ ব্যাপারে পুলিশি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের কথা বলা হয়েছে।