আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণ করতে ৫০০-এর বেশি বিদেশী পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক আসবে বলে অন্তর্বর্তী সরকার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের সূত্রে জানায়। এছাড়াও ঢাকা এসে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অবস্থারত বিদেশী পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের নির্বাচনের আগে ব্রিফ করবে সরকার। আর ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির বিতর্কিত সাধারণ নির্বাচনের তুলনায় এবার দ্বিগুণেরও বেশি বিদেশী পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক আসছে। এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন এবং একই দিনে অনুষ্ঠিতব্য জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোট পর্যবেক্ষণে ভারতকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি নয়াদিলীø। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর ফোরাম ফেমবোসা শিগগিরই তাদের পর্যবেক্ষকদের নাম ঘোষণা করবে। এবারের নির্বাচনে ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার প্রার্থী ৩০০টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোট।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বিষয়ে গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য ভারতকে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আরও কয়েকটি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে ভারত এখনো জানায়নি তারা পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে কি না।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, আমরা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার ৮৩ জন পর্যবেক্ষকে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তাদের মধ্যে ৩৬ জন আমাদের নিশ্চিত করেছেন। আর পাঁচটি সংস্থা থেকে রিগ্রেট করা হয়েছে। এখনো কনফারমেশনের আরও কিছু বাকি আছে।
তিনি বলেন, আমরা স্ব-উদ্যোগে আমন্ত্রণ করেছি। আরেকটি ছিল জার্নালিস্ট ও অবজারভারদের জন্য ওপেন ইনভাইটেশন। এ পর্যন্ত ৫০ জন সাংবাদিক আমাদের কাছে তাদের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যে, তারা এখানে এসে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে চান। ৭৮ জন অবজারভার ও ৫০ জন সাংবাদিক আসতে চান। তিনি জানান, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য এয়ারপোর্টে আমাদের একটি হেল্প ডেস্ক থাকবে। তারা মূলত হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে থাকবেন। হোটেলে হেল্প ডেস্ক ও মিডিয়া সেল থাকবে। সেখানে বিভিন্ন পয়েন্টে কো-অর্ডিনেশনের ব্যবস্থা করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-সহ ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা অন্তত ৬৩ জন পর্যবেক্ষক পাঠাতে সম্মত হয়েছে। এর পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ১৬টি দেশ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ৩২ জন ব্যক্তি পর্যবেক্ষক হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন। এ নিয়ে আসন্ন নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৩০ জন, যা ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির বিতর্কিত নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। ওই নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
এর আগে ১২তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৮ জন, ১১তম জাতীয় নির্বাচনে ১২৫ জন এবং ১০ম নির্বাচনে মাত্র চারজন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ছিলেন। ওআইসির দুই সদস্যের পর্যবেক্ষক দলটির নেতৃত্ব দেবেন সংস্থাটির নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ইউনিটের প্রধান শাকির মাহমুদ বান্দার। এ ছাড়া এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল) থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে ২৫ জন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে সাতজন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) থেকে একজন পর্যবেক্ষক আসবেন। ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের মতো সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী ৩২ জন ব্যক্তি পর্যবেক্ষক হিসেবেও নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সফর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ বলেন, ‘আমরা আশা করছি, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরো বাড়বে। আমন্ত্রণ জানানো কয়েকটি দেশ এখনো তাদের প্রতিনিধিদের নাম নিশ্চিত করেনি।’ যেসব দেশ এখনো প্রতিনিধি চূড়ান্ত করেনি তাদের মধ্যে রয়েছে ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মিসর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া ও রোমানিয়া।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (জনকূটনীতি) এবং মুখপাত্র এস. এম. মাহবুবুল আলম বলেন, এবারের সংসদ নির্বাচনে ৫০০ বেশি বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক আসার সম্ভনা রয়েছে। ভারতে অবস্থানরত আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকরাও আসছে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে। ইতিমধ্যে অনেকেই আবেদনও করেছেন। নির্বাচনের আগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের ব্রিফ করবে সরকার।