গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বিমানের এমডি সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রীর অমানুষিক নির্যাতনের শিকার ১১ বছরের শিশু গৃহকর্মী মেঘনাকে দেখতে তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। তিনি চিকিৎসারত শিশুটির স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন। শিশুটি পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। একইসাথে এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান।

তিনি বলেন, আমরা দেশের দায়িত্বশীল পর্যায়ে কর্মরত এধরনের ব্যক্তির দ্বারা এহেন অপকর্মের প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এধরনের ঘটনা ন্যক্কারজনক। মাত্র ১১ বছরের শিশুকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত ও গরম ছেকা দেয়া হয়েছে। অভাবের কারনে গৃহকর্মে নিয়োজিত এই শিশুর সাথে এহেন আচরণ খুবই অমানবিক। যা কোন ভাবেই গ্রহনযোগ্য হতে পারেনা। যদিও গত ১ ফেব্রুযারি সোমবার বিকেলে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আমরা এব্যাপারে আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতার সাধুবাদ জানাই। একই সাথে জানাতে চাই দোষীরা যেন আইনে ফাঁকফোকর দিয়ে পার না পায়। শিশু নির্যাতনকারী এসব অপরাধীদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির মাধ্যমে সমাজে এসব অপরাধ বন্ধের চেষ্টা করা প্রয়োজন।

ভবিষ্যতে শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনা যাতে না ঘটে এব্যাপারে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি মানবীয় হওয়ার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নির্বাচন করলে, দেশকে মানবিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্রে পরিণত করা হবে।

এসময় তার সাথে ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য নাজমুন নাহার নীলু, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও গাজীপুর মহানগর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি আমেনা বেগম, সহকারী সেক্রেটারি গাজীপুর মহানগর নাজমুন নাহার ও মারুফা শহীদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য যে, গত ৩১শে জানুয়ারি বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের এমডি সাফিকুর রহমান ও তার স্ত্রীর অমানুষিক নির্যাতনের শিকার ১১ বছরের শিশু গৃহর্কমী গুরুতর জখম অবস্থায় তার পিতা গোলাম মোস্তফা তাকে নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করে। পরবর্তীতে গোলাম মোস্তফার অভিযোগের ভিত্তিতে ১ জানুয়ারি রোববার দিবাগত রাত ৩টা ৩৫ মিনিটে উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের ৭/সি রোডের বাসা থেকে আসামিদের গ্রেপ্তার করে উত্তরা পশ্চিম থানা পুলিশ। সোমবার বিকেলে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।