ভারত চীন পাকিস্তানসহ ১৩ দেশকে আমন্ত্রণ

নতুন মন্ত্রীদের জন্য প্রস্তুত গাড়ি ও বাসভবন

বিপুল ভোটে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গঠন হচ্ছে কাল মঙ্গলবার। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ সদস্যদের শপথ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। সকালে এমপিদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। আর সন্ধ্যায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন । জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও বিএনপির সূত্র জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায়। সাধারণত মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হওয়ার রেওয়াজ। এর আগে শুক্রবার রাতে নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের (এমপি) গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এমপিদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। আর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল তাদের সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন করবেন। এর পর সংসদীয় দলের নেতা রাষ্ট্রপতির কাছে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের আস্থাভাজন হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। রাষ্ট্রপতি তখন তাকে নিয়মানুযায়ী প্রধানমন্ত্রী পদে নিয়োগ দেবেন এবং নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের আহ্বান জানাবেন।

দীর্ঘদিনের রীতি ভেঙে নতুন সরকারের শপথ বঙ্গভবনের বাইরে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। আইন মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন।

ভারত চীন পাকিস্তানসহ ১৩ দেশকে আমন্ত্রণ

বিএনপির নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ১৩ দেশের সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, এখন পর্যন্ত আমন্ত্রণ পাওয়া দেশের তালিকায় রয়েছে ভারত, চীন, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, শ্রীলংকা, নেপাল, মালদ্বীপ, ভূটান, তুরস্ক ও ব্রুনেই।

নতুন মন্ত্রীদের জন্য প্রস্তুত গাড়ি ও বাসভবন

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, নতুন সরকারের মন্ত্রীদের শপথের জন্য তারা প্রস্তুতি নিয়েছেন। নতুন মন্ত্রীদের জন্য গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মন্ত্রীদের বাসভবন প্রস্তুত রাখছে সরকারি আবাসন পরিদপ্তর।

শপথ পাঠ নিয়ে আইনে কী আছে?

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর আসে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ পড়ানোর বিষয়টি। আর বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার সংসদ সদস্যদের এই শপথ পাঠ করান।

সংবিধানে বলা হয়েছে, গেজেট প্রকাশের পর স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার অথবা রাষ্ট্রপতির মনোনীত ব্যক্তি নির্বাচিতদের শপথ পাঠ করাবেন। তবে তারা শপথ পাঠ করাতে অসমর্থ হলে গেজেট প্রকাশের তিনদিন পরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার শপথ পাঠ করাবেন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে যখন দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী কোথায় আছেন, সেটি পরিষ্কার নয়। ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে রয়েছেন।

’এক্ষেত্রে দুটি বিকল্প আছে। একটি হলো রাষ্ট্রপতির মনোনীত প্রতিনিধিকে দিয়ে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানো অথবা গেজেট প্রকাশের তিন দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে শপথ পাঠ। এক্ষেত্রে প্রথম পদ্ধতি অবলম্বন করে শপথ নিলে ভবিষ্যতে আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে বিএনপি নেতাদের মধ্যে।

সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদের দফা দুই অনুযায়ী, যেসব ক্ষেত্রে রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তি নিজে কর্তৃপক্ষ কেবল সেসব ক্ষেত্রেই তিনি প্রতিনিধি নিয়োগ করতে পারবেন। কিন্তু সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতি না, বরং স্পিকার। আর স্পিকারের প্রতিনিধি হতে হলে তার স্বাক্ষর থাকা জরুরি। ফলে এই মুহূর্তে সেই সুযোগ না থাকায় উপায় আছে দুইটি। একটিতো আগেই বলা হয়েছে, সংবিধানের ৭৪ ধারা অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি একজনকে নিয়োগ দিতে পারেন এবং “সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য তাহা পালন করিবেন”। অথবা কোনো কারণে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার না থাকলে তিন দিন পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের শপথ পড়ানো, যা ১৪৮ অনুচ্ছেদের ২(ক)-এ উল্লেখ আছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরবর্তী সময়ের জটিলতা বা বিতর্ক এড়ানোর জন্য দ্বিতীয়টিকেই ‘নিরাপদ’ মনে করছে নতুন সরকার গঠন করতে যাওয়া দল বিএনপি।

এদিকে রীতি ভেঙে নতুন সরকারের শপথ বঙ্গভবনের বাইরে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজনের যে প্রস্তুতি চলছে, তা নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপির ইচ্ছাতেই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

গতকাল রোববার তিনি বলেছেন, “দক্ষিণ প্লাজায় শপথের বিষয়ে বিএনপিই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিল। আমার ধারণা, এই সংসদটা একটু ভিন্ন। ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ এবং এই গণঅভ্যুত্থান অনেক ত্যাগ, কষ্ট ও বেদনার বিনিময়ে এই সংসদ পেয়েছি।

তিনি বলেন, এসব কারণে সংসদটি অন্য সব সংসদের চেয়ে ভিন্ন। এই সংসদ প্রাঙ্গণে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছে। এখানে জুলাই সনদ ঘিরে যে অনুষ্ঠান, সেটাও এখানে আয়োজন করা হয়েছে। সুতরাং সংসদের দক্ষিণ প্লাজাটি বিভিন্ন কারণে আমাদের কাছে স্মরণীয়। এ সংসদের পাশেই বেগম খালেদা জিয়া এবং সবার প্রিয় আমাদের ওসমান হাদির জানাজা হয়েছিল।

তিনি বলেন, এটা বিভিন্ন ধরনের তাৎপর্যপূর্ণ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যে ডকুমেন্টেশন, সেটা প্রকাশের একটি জায়গা হিসেবেও দাঁড়িয়েছে ।

আসিফ নজরুল বলেন, “মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সংসদ সদস্যদের শপথ হবে। বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শপথের পরেই তাদের সংসদীয় দলের প্রধানকে নির্বাচিত করবেন। এছাড়া বিকাল ৪টায় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রিসভার শপথ হবে।

আসিফ নজরুল জানান, ঐতিহ্যগতভাবে বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান হলেও এবার তা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় (সাউথ প্লাজা) বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপি এই অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে।

মন্ত্রিসভার শপথের জন্য দক্ষিণ প্লাজাকে বেছে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান এবং জুলাই ঘোষণা ও জুলাই সনদের মতো ঐতিহাসিক ঘটনাগুলোর সাথে সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ ও দক্ষিণ প্লাজা বিভিন্ন কারণে স্বরণীয়।