২৯৮ আসনে ১৯৭৬ প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ
# প্রচারণার সময় ২০ দিন # মানতে হবে আচরণবিধি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ আসনে ১৯৭৬জন প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দিয়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এর মধ্যে ৫১টি রাজনৈতিক দলকে দলীয় বরাদ্ধকৃত প্রতীক ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে চাহিত প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। বরাদ্দের পর গতকাল বুধবার রাত ১০টা থেকে প্রচারণা শুরু হয়েছে। প্রার্থীরা আচরণবিধি মেনে প্রচারণা চালাতে হবে। প্রচারণার সময় পাবেন বিশ দিন। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে রয়েছে নির্ধারিত শাস্তি। ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই বিভিন্ন স্থানে সংঘাত ও সংর্ঘষের সংবাদ পাওয়া গেছে। নির্বাচন কমিশনে আচরণবিধি লংঘণের অসংখ অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। প্রচারণায় প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও সংঘাতের আশংকা রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন বলছে, আচরণবিধি লংঘন করা হলে ও সংঘর্ষ সংঘাতে জড়ালে মাঠে আইন শৃংখলা বাহিনী ও ম্যাজিস্ট্রেগণ রয়েছেন। তারা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন ।
ইসি সূত্র মতে, গত ২৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় এতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ২৫৮৫ জন। বাছাইয়ে ২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিলের পর বৈধ প্রার্থী ছিলেন ১৮৫৮ জন। তাদের মধ্যে আপিল করেন ৬৩৯। আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পান ৪৩১ জন। মঙ্গলবার পর্যন্ত ৩০৫ জন প্রত্যাহারের করলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দাঁড়ায় ১৯৬৭ জন। তাদের প্রতীক বরাদ্দ করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তারা।
এদিকে আইনি জটিলতায় পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত হবে পরে। ফলে ৩০০ আসনে প্রার্থী আরও বাড়বে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঢাকা-১২ আসনে এবার সর্বোচ্চ ১৫ জন প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ১৩ জন প্রার্থী নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে। আর সর্বনিম্ন পিরোজপুর-১ প্রার্থী রয়েছেন দুজন। তবে এবারের ভোটে থাকছে না একক প্রার্থী।
এবারের নির্বাচনে ১১৯টি প্রতীক
ইসির নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৬১টি। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ও ফ্রিডম পার্টির নিবন্ধন স্থগিত রয়েছে। এর মধ্যে এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বাদেও ৫১টি রাজনৈতিক দল ভোটে অংশ নিচ্ছে। এবারের নির্বাচনের আগে নিবন্ধিত দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য ১১৯টি প্রতীক বরাদ্দ রেখেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ৫৬টি প্রতীক বরাদ্দ রাখা হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য। নতুন রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপি ইসির নিবন্ধন পাওয়ার পর তাদের নির্বাচনি প্রতীক নিয়ে একটা সংকট তৈরি হয়েছিল। দলটি শাপলা প্রতীক দাবি করলেও ইসি প্রথমে শাপলা তাদের তালিকায় রাখেনি। পরে অবশ্য, শাপলার বদলে শাপলা কলি প্রতীক তালিকায় যুক্ত করে ১১৯টি প্রতীকের গেজেট প্রকাশ করে। পরে এনসিপিকে দেওয়া হয় শাপলা কলি প্রতীক। এর মধ্যে বিএনপির ধানের শীষ, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা, জাতীয় পার্টির লাঙল, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকও যেমন রয়েছে, তেমনি এমন অনেক প্রতীক রয়েছে যেগুলো এখনো পর্যন্ত কোনো রাজনৈতিক দলকে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। যে সব প্রতীক কোন রাজনৈতিক দলকে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি এমন ৫৬টি নির্বাচনি প্রতীক স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে বরাদ্দ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
মধ্যরাত থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু: ইসি সচিব
বুধবার মধ্যরাত থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, বুধবার মধ্যরাত থেকে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি ভোর সাড়ে ৭টা পর্যন্ত নির্বাচনি প্রচারণা চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।
গতকাল বুধবার আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর আয়োজিত গণভোট সামনে রেখে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের সভায় বক্তব্যকালে তিনি এ কথা জানান।
আচরণবিধিতে যা আছে
কোনো রাজনৈতিক দল কিংবা প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচন-পূর্ব সময়ে (তফসিল ঘোষণার দিন থেকে নির্বাচনের ফল গেজেটে প্রকাশ পর্যন্ত) নির্বাচনি এলাকায় বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা অন্যত্র অবস্থিত কোনো প্রতিষ্ঠানে কোনো প্রকার চাঁদা, অনুদান বা উপহার প্রদান করতে বা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিতে পারবেন না। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন থেকে সংবর্ধনা গ্রহণ করতে পারবেন না। এছাড়া, কোনো প্রার্থী নির্বাচন-পূর্ব সময়ে কোনো সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে রাজস্ব বা উন্নয়ন তহবিলভুক্ত কোনো প্রকল্পের অনুমোদন, ঘোষণা, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কিংবা ফলক উন্মোচন করতে পারবেন না।
সরকারি ডাক-বাংলো, রেস্ট হাউজ, সার্কিট হাউজ বা কোনো সরকারি কার্যালয় নির্বাচনি প্রচারের জন্য ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচনি প্রচারণায় সকল প্রার্থী সমান সুযোগ পাবেন। তবে কেউ প্রতিপক্ষের জনসভা, শোভাযাত্রা বা প্রচারণায় বাধা দিতে বা ভীতি সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারবেন না। নির্বাচনি প্রচারণা শুরুর আগে রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রচারণার কর্মসূচি জমা দিতে হবে। একই স্থানে ও একই সময়ে একাধিক দল বা প্রার্থীর নির্বাচনি প্রচারণা কর্মসূচির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তা সমন্বয় করবে। কোনো প্রার্থী জনসভা করতে চাইলে প্রস্তাবিত সভার কমপক্ষে ২৪ ঘণ্টা পূর্বে জনসভার স্থান ও সময় সম্পর্কে স্থানীয় পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ কর্তৃপক্ষ উক্ত স্থানে চলাচল ও আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করবে। জনগণের চলাচলে বিঘœ সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো স্থান, সড়ক, মহাসড়ক ও জনপথে জনসভা, পথসভা কিংবা কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ করা যাবে না। এছাড়া, কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদেশে কোনো প্রকার জনসভা, পথসভা, সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠান বা কোনো প্রকার প্রচার-প্রচারণা করতে পারবেন না।
নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো প্রকার পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারণায় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর অপচনশীল দ্রব্য যেমন : রেক্সিন, পলিথিন, প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি কোনো প্রচারপত্র, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন ও ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না। একই সঙ্গে ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনে পলিথিনের আবরণ ব্যবহার করা যাবে না। কোনো প্রার্থী কিংবা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় অবস্থিত কোনো দালান, দেওয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, সরকারি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্থাপনাসমূহ এবং বাস, ট্রাক, ট্রেন, স্টিমার, লঞ্চ, রিকশা, অটোরিকশা, লেগুনা, ট্যাক্সি, বেবিটেক্সি বা অন্য কোনো যানবাহনে কোনো প্রকার লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন সাঁটাইতে পারবেন না। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ডের উপর অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ড টাঙানো যাবে না। এছাড়া, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ফেস্টুন, ব্যানার ও বিলবোর্ডের কোনো প্রকার ক্ষতিসাধন তথা বিকৃতি বা বিনষ্ট করা যাবে না। ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যতীত নির্বাচনি প্রচারণায় ব্যবহার্য ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুন সাদা-কালো রঙের হতে হবে। ব্যানারের দৈর্ঘ্য ১০ ফুট এবং প্রস্থ ৪ ফুটের বেশি হওয়া যাবে না। লিফলেট বা হ্যান্ডবিল এ৪ সাইজের (৮.২৭ ইঞ্চি দ্ধ ১১.৬৯ ইঞ্চি) চেয়ে বড় করা যাবে না। ফেস্টুনের দৈর্ঘ্য হবে সর্বোচ্চ ২৪ ইঞ্চি এবং প্রস্থ হবে সর্বোচ্চ ১৮ ইঞ্চি। ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ও ফেস্টুনে প্রতীক, নিজের ছবি এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে দলীয় প্রধানের ছবি ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তির ছবি বা প্রতীক ছাপানো যাবে না। কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান ভোটার স্লিপ বিতরণ করতে পারবেন, তবে তাতে প্রার্থীর নাম, ছবি, পদের নাম, প্রতীক কিংবা ভোট প্রার্থনা-সংক্রান্ত কোনো কিছু উল্লেখ করা যাবে না। নির্বাচনি প্রচারণায় কোনো বাস, ট্রাক, নৌযান, মোটরসাইকেল কিংবা অন্য কোনো যান্ত্রিক বাহন সহকারে কোনো মিছিল, জনসভা কিংবা কোনোরূপ শোডাউন করা যাবে না। একই সঙ্গে নির্বাচনি প্রচারে যানবাহন সহকারে কিংবা যানবাহন ব্যতীত কোনো ধরনের মশাল মিছিল করা যাবে না। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময়ও কোনো প্রকার মিছিল কিংবা শোডাউন করা যাবে না। এছাড়া, নির্বাচনি প্রচারণা এবং ভোটগ্রহণের সময় কোনো প্রকার ড্রোন, কোয়াডকপ্টার বা এরূপ যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না।
সংঘাতের আশঙ্কা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রচারণার আগেই কয়েক জায়গায় সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রচারণা শুরুর পর এসব ঘটনা আরো বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগ আল মোবারক মসজিদের সামনে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৬ জন আহত হন। এর আগে সোমবার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতেও প্রায় ১৫জনের মতো আহত হয়।
সূত্র বলছে, এর আগে অনুষ্ঠিত হওয়া দেশের প্রতিটি নির্বাচনে প্রচারণা শুরুর আগে ও পরে সহিংসতা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। সেই অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এবারের নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুতি নিয়েছে। নির্বাচনটি যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা যায়, সেজন্য পুলিশসহ সব বাহিনী ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।
জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে পুলিশসহ প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে পুলিশের প্রায় দেড় লাখ সদস্য এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এ ছাড়া বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় এক লাখ, র্যাবের প্রায় ৮ হাজার, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫০০ এবং ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার সদস্য নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া নজরদারিতে থাকছে ড্রোন, যার ব্যবহার ইতোমধ্যে পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী শুরু করেছে।
ঢাকা-৬ আসনের নির্বাচন ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আসনটির জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবদুল মান্নান।
গতকাল বুধবার সকালে প্রতীক পাওয়ার পর ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এই উদ্বেগের কথা বলেন।
আবদুল মান্নান বলেন, যেভাবে নির্বাচন অফিসগুলো পরিচালিত হচ্ছে, তাতে ব্যালটসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নির্বাচনী উপকরণের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা আছে।
নির্বাচনী পরিবেশের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে জামায়াতের এই প্রার্থী বলেন, পেশিশক্তি ও অস্ত্রের ব্যবহারসংক্রান্ত ঘটনাগুলোর কোনো সুরাহা হয়নি। একই সঙ্গে নির্বাচনে কালোটাকার ব্যবহার একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে আছে।
আবদুল মান্নান আরও বলেন, ঢাকা–৬ আসনের সব থানাপর্যায়ের নির্বাচন অফিস বর্তমানে একটি ভাড়া ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। ওই ভবনের মালিকানা প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন ব্যক্তির বলে অভিযোগ আছে। একই ভবনে ব্যালট পেপার, অমোচনীয় কালি ও অন্যান্য গোপন ও সংরক্ষিত নির্বাচনী উপকরণ রাখলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অভিযোগ করেও সুরাহা মেলেনি উল্লেখ করে আবদুল মান্নান বলেন, এ বিষয়ে ১৪ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে তিনি লিখিত আবেদন জমা দিয়েছেন। তবে এখনো সেই আবেদন কমিশনে পাঠানো হয়নি। এমনকি রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়েও অভিযোগপত্রের গ্রহণ কপি খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেন্ডারিয়া ও কোতোয়ালি (আংশিক) থানা নিয়ে গঠিত ঢাকাÑ৬ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে লড়তে যাচ্ছেন আবদুল মান্নান। এই আসনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন।