আজ ৮ ডিসেম্বর সোমবার। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের খবর আসে সারাদেশ থেকে। আর্ন্তজাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশ নিয়ে গুরুত্বের সাথে আলোচনা হয়। ৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সমর সেন বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন বাস্তব সত্য। পাকিস্তানের উচিত বাংলাদেশের অস্তিত্বকে স্বীকার করে নেওয়া। জাতিসংঘের কোনো উদ্যোগেই কাজ হবে না, যদি না পাকিস্তান সংঘাতের পথ পরিহার করে। ৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘের মহাসচিব উ থান্ট ঢাকায় নিযুক্ত ২৪০ জন জাতিসংঘের কর্মকর্তা ও বিদেশী নাগরিককে নিরাপদে স্থানান্তরের জন্য ভারত ও পাকিস্তানের একটি সুরক্ষিত নিরপেক্ষ অঞ্চল চেয়ে অনুরোধ জানান। এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি জাতিসংঘে নিযুক্ত ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি সমর সেন এবং পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি আগা শাহীকে পৃথকভাবে ডেকে অনুরোধ করেন।

এদিন দেশের বিভিন্ন জেলার শত্রুমুক্ত হয়। ৮ ডিসেম্বর ভারতীয় মিত্রবাহিনীর শিখ জাট ব্যাটালিয়ন ও মুক্তিবাহিনীর লেফটেন্যান্ট আইনউদ্দিন, লেফটেন্যান্ট দিদারুল আলমসহ মুক্তিযোদ্ধাদের ৩টি দল দুপুরের দিকে কুমিল্লা শহরে প্রবেশ করে। এতে পাকিস্তানী সেনারা শহর ছেড়ে পালিয়ে গেলে কুমিল্লা শত্রুমুক্ত হয়। মুক্তিযোদ্ধারা স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।

৮ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পার্শ্ববর্তী আশুগঞ্জের পাশে আজমপুর ও দুর্গাপুরে ১১ নম্বর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের বড় এক দল সেনা সমাবেশ করে। এ সময় সরাইল ও শাহবাজপুরের মধ্যে ২য় ইস্ট বেঙ্গল এবং সেক্টরভুক্ত ১ ব্যাটালিয়ন সেনা পেছন দিক থেকে অগ্রসর হতে থাকে। ভারতীয় ৩১১তম মাউন্টেন ব্রিগেডের দশম বিহার রেজিমেন্ট দুর্গাপুরের দক্ষিণে সমবেত হয়। ৮ ডিসেম্বর লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার নেতৃত্বে ভারতীয় মিত্র বাহিনীর ৩টি কলাম ঢাকার দিকে এগিয়ে যায়। এদিন ভারতীয় বাহিনীর একটি ব্রিগেড হালুয়াঘাট থেকে ময়মনসিংহের দিকে এগিয়ে যায়।

৮ ডিসেম্বর জামালপুরে অবস্থানরত ভারতীয় মিত্র বাহিনীর অনুরোধে কাদেরিয়া বাহিনীর কমান্ডার কাদের সিদ্দিকির নেতৃত্বে কাদেরিয়া বাহিনীর বড় একটি দল টাঙ্গাইলে চূড়ান্ত হানাদারমুক্ত অভিযান না চালিয়েই জামালপুরের দিকে যাত্রা করে। ৮ ডিসেম্বর বরিশাল শত্রুমুক্ত হয়। এবং নৌযানে করে বরিশাল ছেড়ে পালিয়ে যায় শত্রুবাহিনী।

৮ ডিসেম্বর পিরোজপুর শত্রুমুক্ত হয়। আগের দিন সুন্দরবন সাব সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়াউদ্দিনের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা সুন্দরবনের বিশাল এলাকা দখল করে রাত ১০টার দিকে পিরোজপুরের দক্ষিণ প্রান্তের পাড়েরহাট বন্দর দিয়ে পিরোজপুরে প্রবেশ করেন। খবর পেয়ে শত্রু বাহিনী মধ্যরাতের দিকে কচা নদী দিয়ে বরিশালের দিকে পালিয়ে যায়। ৮ ডিসেম্বর চাঁদপুর নদী বন্দরের কাছে বিমান থেকে বোমা হামলা চালায় ভারতীয় বাহিনী। বোমা হামলায় পাকিস্তানী বাহিনীর বহু নৌযান ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।