বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য ঢাকায় পৌঁছেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এবং তার স্ত্রী মিসেস ডিয়ান ডাও। বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন গত ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে মার্কিন সিনেট তাকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে অনুমোদন দেন। গতকাল সোমবার ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেইসবুক পেইজে এই তথ্য জানায়। এছাড়াও গত শনিবার ঢাকায় অবতরণের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস। দূতাবাসের এক্স (সাবেক টুইটার) ও ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে তাকে স্বাগত জানানো হয়।

মার্কিন দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন সর্বশেষ জানুয়ারি থেকে অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত আর্মস কন্ট্রোল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেটের দায়িত্ব পালনকারী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন। এ দায়িত্বে তিনি নিরাপত্তা সহযোগিতা, নিরাপত্তা সহায়তা, সন্ত্রাসবাদ দমন, মাদকবিরোধী কার্যক্রম এবং অস্ত্র বিস্তার রোধে ডিপার্টমেন্ট অফ স্টেটের বৈশ্বিক কার্যক্রম তদারকি করেন। সিনিয়র ফরেন সার্ভিসের একজন পেশাদার সদস্য হিসেবে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন পূর্বে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের কমান্ডারের পররাষ্ট্রনীতি উপদেষ্টা হিসেবে এবং বাংলাদেশের যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে কাউন্সেলর ফর পলিটিকাল অ্যান্ড ইকোনোমিক অ্যাফেয়ার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

দূতাবাস আরও জানায়, রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন ফিলিপাইন, এল সালভাদর ও ভিয়েতনামে যুক্তরাষ্ট্রের মিশনগুলোতেও বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রে তার অন্যান্য দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে পলিটিকাল মিলিটারি অ্যাফেয়ার্স ব্যুরোর অফিস অফ রিজিওনাল সিকিউরিটি অ্যান্ড আর্মস ট্রান্সফারস-এর ডেপুটি ডিরেক্টর, উত্তর কোরিয়া নীতি বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধির বিশেষ সহকারী, যুক্তরাষ্ট্রের হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে ফেলো এবং সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোতে বাংলাদেশ কান্ট্রি অফিসার। এছাড়া তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল লেবার রিলেশনস অথরিটির অধীন ফরেন সার্ভিস ইমপাসেস ডিসপিউটস প্যানেলে কর্মরত দুইজন পেশাদার কূতনৈতিক সদস্যের একজন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ন্যাশনাল ওয়ার কলেজের ডিস্টিংগুইসড গ্র্যাজুয়েট রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল বিষয়ে মাস্টার অব সায়েন্স ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এছাড়া তিনি টেক্সাস এ অ্যান্ড এম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যান বিষয়ে মাস্টার অব সায়েন্স এবং রাইস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি ও ম্যানেজেরিয়াল স্টাডিজ বিষয়ে ব্যাচেলর অব আর্টস ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিনি স্প্যানিশ, জার্মান ও ভিয়েতনামি ভাষায় দক্ষ এবং ফরাসি, জাপানি ও পর্তুগিজ ভাষা অধ্যয়ন করেছেন। ২০০২ সালে ফরেন সার্ভিসে যোগদানের আগে তিনি হিউস্টন ও নিউইয়র্ক সিটিতে একজন ব্যবস্থাপনা পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন।

এর আগে এক পোস্টে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ যার সঙ্গে তিনি আগে থেকেই ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত। আবারও ঢাকায় ফিরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। ঢাকায় কর্মরত মার্কিন ও স্থানীয় কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি শক্তিশালী দলের নেতৃত্ব দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর ও কার্যকর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিগত লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করার অঙ্গীকারও জানান ক্রিস্টেনসেন। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পেশাদার কূটনীতিক ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনয়ন দেন। পরবর্তীতে ডিসেম্বরে মার্কিন সিনেট তার নিয়োগ অনুমোদন করে।