মো: সামিউল ইসলাম, জবি সংবাদদাতা : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)-এর নির্বাচিত প্রতিনিধিগণ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ইনকিলাব মঞ্চের সাবেক মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর কবর জিয়ারত করেন । গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩:৩০ এ জিয়া উদ্যানে বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত এবং সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সংলগ্ন শহীদ শরিফ ওসমান হাদীর কবর জিয়ারত করেন তারা।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন-এর চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হয়েছে। উভয় সংসদে বেশিরভাগ পদে বিজয়ী হয়েছেন শিবির সমর্থিত প্যানেল “অদম্য জবিয়ান ঐক্য” এর প্রার্থীরা।

গতকাল বৃহস্পতিবার জকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক ড. মোস্তফা হাসান এবং অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ফল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার দিনব্যাপী ভোট গ্রহণ করে বুধবার সারাদিন ও সারারাত ভোট গণনা করে প্রশাসন।

শীর্ষ পদের ফলাফলে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে শিবির সমর্থিত, মোঃ রিয়াজুল ইসলাম ৫৫৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল ও ছাত্রঅধিকার পরিষদ সমর্থিত মোঃ রাকিব পেয়েছেন ৪৬৮৮ ভোট।

সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে শিবির সমর্থিত আব্দুল আলিম আরিফ ৫৪৭৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন, যেখানে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী খাদিজাতুল কুবরা পেয়েছেন ২২২৩ ভোট।

সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে ৫০২০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন শিবির সমর্থিত প্রার্থী মাসুদ রানা, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী বি এম আতিকুর রহমান তানজিল পেয়েছেন ৪০২২ ভোট।

মোট ১২ টি সম্পাদকীয় পদে নির্বাচিত হয়ে, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র সম্পাদক পদে মোঃ নুর নবী পেয়েছেন ৫৪০০ ভোট, শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক পদে ইব্রাহীম খলিল পেয়েছেন ৫৫২৪ ভোট, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক পদে মোসাঃ সুখীমন খাতুন পেয়েছেন ৪৪৮৬ ভোট, আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে হাবিব মোঃ ফারুক আযম পেয়েছেন ৪৬৫৪ ভোট, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে নওশীন নাওয়ার জয়া পেয়েছেন ৪৫০১ ভোট, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদে মোঃ তাকরিম মিয়া পেয়েছেন ৫৩৮৫ ভোট, ক্রীড়া সম্পাদক পদে মোহাম্মদ জর্জিস আনোয়ার নাঈম পেয়েছেন ৩৯৬৩ ভোট, পরিবহন সম্পাদক পদে মোঃ মাহিদ হোসেন পেয়েছেন ৪০২৩ ভোট, পাঠাগার ও সেমিনার সম্পাদক পদে মোঃ রিয়াসাল পেয়েছেন ৪৬৯৮ ভোট, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থী কল্যাণ সম্পাদক পদে মোস্তাফিজুর রহমান পেয়েছেন ৩৪৮৬ ভোট, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক পদে নূর মোহাম্মদ পেয়েছেন ৪৪৭০ ভোট।

সম্পাদকীয় পদে ৯টি পদে শিবির সমর্থিত প্রার্থীরা বিজয়ী হলেও, সাহিত্য ও সংস্কৃতি, পরিবহন, পাঠাগার ও সেমিনার এই তিনটি পদে বিজয়ী হয়েছেন ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থীরা।

কেন্দ্রীয় সংসদে নির্বাহী সদস্য পদে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মোট ৭ জন বিজয়ী হয়েছেন। এতে শিবির সমর্থিত ফাতেমা আক্তার, মোঃ আকিব হাসান, শান্তা আক্তার, মোঃ মেহেদী হাসান, মোঃ আব্দুল্লাহ আল ফারুক, ছাত্রদল সমর্থিত মো. সাদমান আমিন, এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোঃ জাহিদ হাসান জয়ী হয়েছেন।

জকসুর একমাত্র নারী শিক্ষার্থী হল সংসদে ভিপি, জিএস ও এজিএসে জয়ী ছাত্রীসংস্থার অদম্য জবিয়ান ঐক্য প্যানেল। ঘোষিত ফলাফলে সহসভাপতি (ভিপি) পদে ৫৫০ ভোটে বিজয়ী হয়েছেন ছাত্রীসংস্থা-সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের মোছা:জান্নাতুল উম্মি তারিন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের ফারজানা আক্তার রিমি ২৩৬ ভোট পেয়েছেন।

সাধারণ সম্পাদক পদে ছাত্রীসংস্থা সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের সুমাইয়া তাবাসসুম ৫৭১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের সাদিয়া সুলতানা নেলি ২৩৬ ভোট পেয়েছেন।

সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ছাত্রীসংস্থা সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের রেদওয়ানা খাওলা-৫৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদল সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের শেখ তাসলিমা জাহান মুন ৪০৪ ভোট পেয়েছেন।

হল সংসদে সম্পাদকীয় পদসমূহে বিজয়ী হয়ে, সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে সাদিয়া আফরোজ ৪৩৩ ভোট, সংস্কৃতি সম্পাদক পদে ফাতেমা তুজ জোহরা (ইমু) ৩৪৬ ভোট, পাঠাগার সম্পাদক ফাতেমা তুজ জোহরা সামিয়া ৫৩৯ ভোট, ক্রীড়া সম্পাদক সাবিকুননাহার ৬৩৫ ভোট, সমাজসেবা ও শিক্ষার্থীকল্যাণ সম্পাদক পদে ফারজানা আক্তার ৪০৮ ভোট, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক খাদিজা খাতুন ৪৮৬ ভোট পেয়েছেন। কার্যনির্বাহী সদস্য পদে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন সাবরিনা আক্তার, নওশীন বিনতে আলম, মোছা: সায়মা খাতুন, লস্কর রুবাইয়াত জাহান।

জামায়াত আমীরের অভিনন্দন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদেরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার তার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে ‘অভিনন্দন জকসু’ লিখে পোস্ট করে শুভেচ্ছা জানান।

ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের শুভেচ্ছা বার্তা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের নিরঙ্কুশ জয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ।

গতকাল বৃহস্পতিবার তাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান, জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।

শুভেচ্ছা বার্তায় তারা বলেন, দুই যুগ পরে বহুল কাক্সিক্ষত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল শিক্ষার্থী সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। জকসুর প্রথম নির্বাচনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভিপি, জিএস ও এজিএসসহ ২১ পদের মধ্যে ১৭ পদে ইসলামী ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের প্রার্থীদের বিজয়ী করেছে। এই বিজয় ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ।

মাসুদ রানার জেলা সাতক্ষীরায় খুশির বন্যা

সাতক্ষীরা সংবাদদাতা : সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা থানার কৃতি সন্তান মাসুদ রানা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনে সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় তার নিজ জেলাতে খুশির বন্যা বইছে। মাসুদ রানার পরিবার, আত্নীস্বজনসহ সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা বিরাজ করছে সাড়া ফেলেছে। বিভিন্ন এলাকাতে মিষ্টি বিতরণ করার খবর পাওয়া গেছে।

তার এ সাফল্যে সাতক্ষীরাবাসীসহ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীদের মাঝে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি বিরাজ করছে। তার বাড়ী পাটকেলঘাটা থানার সরুলিয়া ইউনিয়নের শিয়ালডাংগা গ্রামে।

নির্বাচনে এজিএস পদে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ছাত্রদল সমর্তিত প্যানেলের প্রার্থী আতিকুর রহমান তানজিল।

মাসুদ রানা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতকোত্তর (২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষ) নিয়মিত ও মেধাবী শিক্ষার্থী। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও মানবিক কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, ইতিবাচক ছাত্ররাজনীতি চর্চা এবং সহনশীল ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় তিনি নিয়মিত ভূমিকা রেখে আসছেন।

তিনি ‘আপ বাংলাদেশ’-এর কেন্দ্রীয় সদস্য এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশেষ করে জুলাই আন্দোলনে তিনি সম্মুখ সারিতে থেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। আন্দোলন চলাকালে তার সাহসী অবস্থান, সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতৃত্বগুণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

এজিএস পদে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ায় মাসুদ রানা জকসুকে আরও গতিশীল, কার্যকর ও শিক্ষার্থীবান্ধব করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। নির্বাচনের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও সমর্থনই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। সবার সহযোগিতা নিয়ে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল ছাত্র সংসদ গড়ে তুলতে আমি কাজ করে যাব।

মাসুদ রানার এ সাফল্যে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ তাকে অভিনন্দন জানিয়ে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেছেন।