আগামী রোববারের মধ্যে কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের দেওয়া ৮ দফা দাবি আদায় না হলে সোমবার থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে, শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এর দায়ভার নিতে হবে বলেও জানানো হয়। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আন্দোলনের প্রেক্ষাপট কর্তৃপক্ষের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, বর্তমান অবস্থা ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ কৃষি ডিপ্লোমা ছাত্র পরিষদ এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
বাংলাদেশ কৃষি ডিপ্লোমা ছাত্র পরিষদের সভাপতি মুসা প্রধান হামজা বলেন, কৃষি এ দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। সেই কৃষিখাতের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে নিয়োজিত কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীরা আজ রাজপথে। কারণ তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। তিনি বলেন, আমাদের উত্থাপিত ৮ দফা দাবি কোনো নতুন, হঠাৎ বা আবেগতাড়িত দাবি নয়। এগুলো দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও প্রশাসনের কাছে উপস্থাপিত, নিয়মতান্ত্রিক ও শান্তিপূর্ণভাবে আলোচিত এবং কৃষি উপদেষ্টা কর্তৃক একাধিকবার যৌক্তিক বলে স্বীকৃত। এই দাবিগুলোর মূল উদ্দেশ্য হলো—কৃষি ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা। রাষ্ট্রের জন্য দক্ষ, আধুনিক ও আত্মনির্ভরশীল কৃষি জনশক্তি গড়ে তোলা।
প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতা ও প্রতারণার বাস্তব চিত্র উল্লেখ করে মুসা প্রধান হামজা বলেন, আমরা বরাবরই আলোচনায় বিশ্বাস করেছি। সে কারণেই বিদায়ী বছরের ২১ এপ্রিল এগ্রি ব্লকেড কর্মসূচির সময় কৃষি উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের সরাসরি আশ্বাসে আমরা আন্দোলন স্থগিত করি। পরে ৯ ডিসেম্বর সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সামনে দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রজ্ঞাপন ও বাস্তবায়ন কমিটি প্রকাশের আশ্বাস দেওয়া হয়। কিন্তু আজ অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, একটিও দাবির বাস্তবায়ন হয়নি। কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি, দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই। বরং নথিপত্র চালাচালি, সভা আর সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎকে অনিশ্চয়তার মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, গতকাল (১ জানুয়ারি) শিক্ষার্থীরা আন্দোলন প্রত্যাহার ও দাবি বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হয়।