রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) দিনভর ছিলো উপচেপড়া ভিড়। নির্ধারিত সময় বিকেল ৫টা পেরিয়ে গেলেও সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের সামনে স্থাপিত কেন্দ্রীয় আপিল বুথে চলেছে আবেদন গ্রহণ। শেষ দিনে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মোট ১৩১ জন মনোনয়নপ্রার্থী ইসিতে আপিল করেছেন। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সামনে স্থাপিত অস্থয়ী কেন্দ্রীয় আপিল বুথ থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় বুথের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, শেষ দিনে সকাল থেকেই মনোনয়নপ্রার্থীদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য। বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় নির্ধারিত থাকলেও তার আগেই যারা নির্বাচন ভবনে উপস্থিত হয়েছেন, তাদের সবাইকে আপিল করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আপিল গ্রহণ কার্যক্রম চলে।
নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ শাখার পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, আজ বিকেল ৫টা পর্যন্ত যারা নির্বাচন ভবনে আপিল করতে উপস্থিত হয়েছেন, তাদের সবার আপিল গ্রহণ করা হবে। সেটা যতক্ষণই লাগুক, আমরা তা শেষ করব।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আদেশের বিরুদ্ধে গত চার দিনে নির্বাচন কমিশনে মোট ৪৬৯টি আপিল আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ ১৭৪টি আপিল দায়ের করা হয়। ওই দিন মনোনয়নপত্র বাতিলের আদেশের বিরুদ্ধে ১৬৪টি এবং মনোনয়নপত্র গ্রহণের আদেশের বিরুদ্ধে ১০টি আপিল করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরও জানা গেছে, সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময় ছিল ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। এসব আপিলের শুনানি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি। শুনানি কার্যক্রম আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়ামে (বেজমেন্ট-২) অনুষ্ঠিত হবে। কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০টি করে আপিল আবেদনের শুনানি নেওয়া হবে। তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। এরপর ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
এদিকে সীমানা জটিলতার কারণে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনে নির্বাচন স্থগিতের যে খবর প্রকাশিত হয়েছে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল শুক্রবার দুপুরে নির্বাচন কমিশন থেকে পাঠানো সংক্ষিপ্ত বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে। বার্তায় বলা হয়েছে- ‘পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন, এ মর্মে ইসিকে উদ্ধৃত করে যে সংবাদটি প্রচারিত হচ্ছে তা সঠিক নয়। এ বিষয়ে প্রচারিত সংবাদটি বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো-বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।’
পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ সম্পন্ন ইসির: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিতে বিশ্বের ১২১টি দেশে ৭ লাখ ৬৭ হাজার ২৮ জন প্রবাসী ভোটারের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি সূত্র জানায়, গত ২০ ডিসেম্বর থেকে পর্যায়ক্রমে প্রবাসী ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু হয়। প্রায় তিন সপ্তাহের ব্যবধানে নিবন্ধনকারী প্রবাসী ভোটারদের কাছে সব ব্যালট পাঠানোর কাজ শেষ হয়েছে। ডাক বিভাগের এয়ারপোর্ট সর্টিং অফিসের সহকারী পোস্টমাস্টার জেনারেল শামীম সোহানী বাসস’কে জানান, বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ইসি থেকে পাওয়া সব পোস্টাল ব্যালট বহির্বিশ্বে পাঠানোর কাজ বৃহস্পতিবার শেষ করেছে। বিমান বাংলাদেশ, এমিরেটস, মালয়েশিয়ান, সিঙ্গাপুর এবং সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে এসব ব্যালট পাঠানো হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে এগুলো সব গন্তব্যে পৌঁছে যাবে।
নির্বাচন কমিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, ডাক বিভাগ, সিভিল এভিয়েশন এবং সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং’ (ওসিভি)-এর এই বিশাল কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। এ বিষয়ে প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন বিষয়ক ‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বাসস’কে জানান, নিবন্ধিত প্রবাসীদের মধ্যে প্রায় ৩ হাজারের বেশি ভোটার সঠিক ঠিকানা দেননি। ফলে তাদের ঠিকানায় ব্যালট পাঠানো সম্ভব হয়নি। তিনি আরও জানান, দেশের অভ্যন্তরে ‘ইন-কান্ট্রি পোস্টাল ভোট’ ক্যাটাগরিতে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৪১ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে তাদের কাছে ব্যালট পাঠানো শুরু হবে। দেশের ভেতরে ব্যালট পাঠানো এবং তা ফিরে আসার পুরো প্রক্রিয়ায় প্রায় ৭ দিন সময় লাগতে পারে।