কামাল উদ্দিন সুমন ও সামিউল ইসলাম সামি : গেটের বাইরে বিশাল জটলা। ১০ গজ দূরে দূরে ৬/৭ জন করে দাঁড়িয়ে আছে মানুষ। সবার গলায় বিভিন্ন প্রার্থীর ব্যাজ। সবাই ব্যস্ত ভোটারদের নিয়ে। এরই মধ্যে ছোট ছোট অটোরিকশা করে স্বজনদের ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন ভোট দিতে। কারো চোখে মুখে নেই কোন আতংক। সবাই যেনো বিশেষ দায়িত্ব নিয়ে ব্যস্ত। নিজ নিজ প্রার্থীর বিজয় দেখতে নিরন্তন চেষ্টা।

রাজধানীর ঢাকার নির্বাচনী আসন-৬ এর কোব্বাদ সরদার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। কেন্দ্রের ভেতরে গিয়ে দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র। নেই কোন জটলা। সবাই সবার মতো করে ভোট দিচ্ছে। ভোট দিয়ে হাসি মুখেই বের হচ্ছে। এ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল হালিম দৈনিক সংগ্রামকে জানান, সার্বিক পরিস্থিতি মোটামোটি ভালো । কোন প্রকার বিশৃংঙ্খলা ছাড়াই মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিচ্ছেন।

ভোট দেয়ার পর তাহমিনা খন্দকার দৈনিক সংগ্রামকে জানান, অনেক বছর পর ভোট দিয়েছি। আনন্দ লাগছে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পেরেছি।

তবে এ আসনের কয়েকটি অনিয়মের কথা তুলে ধরেন ঢাকা-৬ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নান। ভোটকেন্দ্রের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাংলাবাজার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে জামায়াতের পোলিং এজেন্টদের নিয়ম অনুযায়ী খালি ব্যালট বাক্স দেখানো হয়নি। সকালে গেন্ডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগের পর সাংবাদিকদের ড. আব্দুল মান্নান বলেন, নির্বাচন শুরুর আগে আমাদের এজেন্টরা উপস্থিত ছিলেন। তবুও রিটার্নিং বা প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা আমাদের ব্যালট বাক্স পরীক্ষা করতে দেননি। এটি স্পষ্ট কারচুপির ইঙ্গিত।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ঢাকা-৬ আসনের ৮০টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করে সেখানে ভোটগ্রহণের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে গভীর শঙ্কা রয়েছে। এর আগে সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ভোটকেন্দ্রগুলো ভোটারদের জন্য খোলা হয়। ড. মান্নান সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে তার ভোট প্রদান করেন। সকালে ভোটকেন্দ্রগুলোতে স্বতঃস্ফূর্ত ভোটার উপস্থিতি এবং দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে।

একই আসনে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ভোট দিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জি. ইশরাক হোসেন। এ সময় তার সঙ্গে ছোট ভাই ইশফাক হোসেনকেও দেখা যায়। দুপুর ১২টা ১৩ মিনিটে টিকাটুলির কামরুন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিজের ভোট দিয়েছেন তিনি। ভোটদান শেষে ইশরাক হোসেন জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদ ব্যক্ত করেন এবং নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেওয়ার কথা জানান।

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনের পরিস্থিতি ভালোই মনে হচ্ছে। ভোটার উপস্থিতি ভালোই। পুরান ঢাকার মানুষ একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠে তো। বেলা বাড়ার সাথে আরও ভোটার উপস্থিতি বাড়বে বলে আশা করছি।’

ইশরাক বলেন, ‘জনগণ ভোটের মাধ্যমে তাদের বুঝিয়ে দিবেন।’ নিজের জয়ের ব্যাপারে কতটুকু আশাবাদী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শতভাগ আশাবাদী। খুব সাড়া পাচ্ছি। এর আগে সকাল ১০টার দিকে একই কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন ইশরাক হোসেনের মা ইশমত আরা। তিনিও ছেলের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

ইশমত আরা বলেন, খুব শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছি। ভোটারদের উপস্থিতিও ভালো। মানুষের মুখে আমি আশার কথা শুনছি। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখছি, ইনশাআল্লাহ আমার ছেলে বিজয়ী হবে। তিনি বলেন, “দীর্ঘদিন পর মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছে, এটি গণতন্ত্রের জন্য একটি ইতিবাচক দিক।

ভোট কেন্দ্রে ঢোকার আগে ইশমত আরা বলেন, একজন মা হিসেবে সন্তানের জন্য দোয়া করা ছাড়া তার জন্য আর কিছুই করার নেই। তবে ইশরাক হোসেন মানুষের জন্য কাজ করতে চেয়েছেন বলেই ভোটাররা তাকে সমর্থন দিয়েছেন।

ঢাকা-৬ আসনের মতো একই চিত্র দেখা গিয়েছে ঢাকা-৭ আসনে। এআসনের মাদ্রাসাই আলিয়া কেন্দ্র গিয়ে দেখা গেছে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি। সবাই নিয়ম শৃঙ্খলা মেনেই ভোট দিচ্ছেন। এ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আব্দুল হালিম দৈনিক সংগ্রামকে জানান,আমাদের সবার সহযোগিতায় একটা সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়ার চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কেন্দ্র কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা নেই বলে জানান তিনি।

ঢাকা-৭ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোটাররা কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট প্রদানের জন্য অপেক্ষা করছেন। দীর্ঘদিন পর ভোট দিতে এসে অনেকের চোখেমুখে উচ্ছ্বাসের ছাপ লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন কেন্দ্রে সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। কোথাও কোনো ধরনের অনিয়ম বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি চোখে পড়েনি।

পুরান ঢাকার আরমানিটোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নূর বক্স লেনের বাসিন্দা মো. আমজাদ হোসেন তাঁর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে আসেন। তিনি বলেন, গত দুই সংসদ নির্বাচনে ভোট দিইনি। এবার সকাল সকাল স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে ভোট দিতে এসেছি। খুবই সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে ভোট দিতে পেরেছি। কোনো ধরনের সমস্যা নেই।

ঢাকা-৭ আসনে মোট ১১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মো. এনায়াত উল্লা (বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী), হামিদুর রহমান (বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল)। মাকসুদুর রহমান (বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট-মুক্তিজোট), মোহাম্মদ ইসহাক সরকার (স্বতন্ত্র-বিএনপি), মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন (জাতীয় পার্টি), মো. আবদুর রহমান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ), মো. শহিদুল ইসলাম (বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি), মো. হাবিবুল্লাহ (বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন), শফিকুর রহমান (বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি-বিআরপি), শাহানা সেলিম (জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি), সীমা দত্ত (বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-মার্কসবাদী) এবং এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হামিদুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. এনায়াত উল্লা এবং বিএনপির বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহাক সরকারের মধ্যে। এই এলাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪৮ হাজার ৪৮১ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৮৮৩ জন এবং হিজড়া ভোটার ১২ জন।

ঢাকা-৭ আসন ঢাকা জেলার ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ২৩, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৫, ৩৬, ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এ আসনের অন্তর্ভুক্ত থানাগুলো হলো- লালবাগ, চকবাজার, বংশাল, কামরাঙ্গীরচর (আংশিক) ও কোতোয়ালী (আংশিক)। সীমানা পূর্বে নাজিরাবাজার, পশ্চিমে হাজারীবাগ, উত্তরে পলাশী এবং দক্ষিণে কামরাঙ্গীরচর।

ঢাকা-৮ রাজধানীর যে সব আসনের দিকে বেশি নজর ছিল ভোটারদের তার মধ্যে ঢাকা -৮ আসন অন্যতম। এ আসনের মুল প্রতিদ্বন্ধিতা হয় বিএনপি কেন্দ্রিয় নেতা মির্জা আব্বাস ও এনসিপি নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারির মধ্যে। সকালে দিকে মোটামোটি শান্তিপূর্ণ থাকলেও দুপুরের পর ঘটে কয়েকটি অঘটন।

ঢাকা-৮ আসনের রেলওয়ে কলোনি উচ্চ বিদ্যালয়কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে হামলা শিকার হন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে যখন ওই কেন্দ্রে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছিলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, তখন তার ওপর হামলা চালানো হয়।

তিনি বক্তব্য দেওয়াকালে মির্জা আব্বাসের সমর্থিত কর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তাদের ধাওয়া দেন এবং এ সময় হামলার ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে সেনাবাহিনী। বিশৃঙ্খলার মাঝে পড়ে যাওয়া নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকেও নিরাপদে উদ্ধার করে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

তবে এরপর ফেসবুকে ভোট ডাকাতি ও হামলার অভিযোগে পোস্ট করেন এনসিপির এ নেতা। তিনি লেখেন, মির্জা আব্বাসের সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে ভোট ডাকাতি হচ্ছে। আমরা কেন্দ্রে প্রবেশ করার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রশাসনের উপস্থিতিতেই আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। ফেসবুক পোস্টে তিনি আরও লেখেন, অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। তবে অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে মির্জা আব্বাস বা তার পক্ষ থেকে কেউ কিছু এখনো কিছু বলেনি।

এই আসনের কয়েকটি কেন্দ্র ঘুরে জানান, সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পর বেলা যত গড়িয়েছে, ভোটার উপস্থিতি তত বেড়েছে। ভোটাররা বলছেন, বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস তাদের পাশে ছিলেন দীর্ঘদিন। তাকেই সমর্থন দেবেন।

ভোট দিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এই আসনের ভোটাররা। এর মধ্যে তরুণ ভোটারদের মধ্যে বেশি উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। কেন্দ্রের বাইরে অনেককে দলবদ্ধভাবে সেলফি তুলতে দেখা গেছে। পরিবার-পরিজনসহ অনেকে ভোট দিতে যাওয়ায়

মধ্যবয়সীরা ও বৃদ্ধ মানুষেরাও ভোট দিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের সব শেষ ভোট দিয়েছিলেন তারা।

মোটামুটি উৎসবমুখর পরিবেশে এই আসনের ভোটগ্রহণ চলছিল দুপুর পর্যন্ত। সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা বলেন, দুপুর ১টা পর্যন্ত ৩০ শতাংশের বেশি ভোট পরেছে।

এদিকে ঢাকা-৮ আসনের মির্জা আব্বাস মহিলা ডিগ্রি কলেজ ভোটকেন্দ্রে শাপলা প্রতীকের পোলিং এজেন্টকে কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরে সেনাবাহিনীর একটি দল এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে সংশ্লিষ্ট এজেন্ট কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ পান। সকাল সোয়া ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত গোলাম মোস্তফা নামে শাপলা প্রতীকের পোলিং এজেন্ট কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারেননি।

জানা গেছে, গোলাম মোস্তফা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর শাপলা প্রতীকের পক্ষে দায়িত্বপ্রাপ্ত পোলিং এজেন্ট ছিলেন। তার কাছে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও তাকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা তাকে বাধা দেন।

কেন্দ্রের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে গোলাম মোস্তফা বলেন, ভোট শুরুর সময় সকাল সাড়ে সাতটা। আমি শাপলা প্রতীকের পোলিং এজেন্ট। কিন্তু এখনো আমাকে কেন্দ্রে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। পুলিশ থেকেও কোনো সহায়তা পাচ্ছি না। কেন আমাকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও নীরব।

পরে সেনাবাহিনীর একটি দল কেন্দ্রে এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মোমিন বলেন, বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। তার নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে কেন্দ্রের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি তিনি জানার চেষ্টা করছেন। কারণ নিশ্চিত হলে পরে বিস্তারিত জানানো যাবে।

বৃহস্পতিবার দুপুর একটা পর্যন্ত এই আসনে আলোচিত এই দুই প্রার্থীর কেউই অনিয়ম বা কারচুপির বড় কোনো অভিযোগ তোলেননি। ভোট দিতে পেরে সন্তুষ্টি জানিয়েছেন ভোটাররাও। তরুণদের অনেককেই ভোটকেন্দ্রের বাইরে সেলফি তুলতে দেখা গেছে। পরিবার-পরিজন নিয়ে আড্ডায় মেতেছেন অনেকে।

একটি ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, তাঁর সমর্থকদের রেলওয়ে কলোনি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শন করে বের হওয়ার পথে ‘আঘাত’ করা হয়।

পাটওয়ারী বলেন, ‘আমাদের ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র আছে দুইটা রেলওয়ে কলোনি উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্র ও মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ কেন্দ্র। সেখানে ভোট ডাকাতির মহোৎসব চলছে। তারা আমাদের গায়ে পড়ে মারামারি করে ঢাকা-৮ আসনের ভোট বানচাল করতে চাচ্ছে।’

এ সময় মির্জা আব্বাসকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘এখন সময় প্রতিরোধের। যদি ভোট ডাকাতি হয়, তাহলে মির্জা আব্বাসের যে রাজত্ব আছে, আল্লাহর কসম করে বলছি, সেই রাজত্ব আমরা খানখান করে দেব। তছনছ করে দেব। নির্বাচনে জয়ী হই বা না হই, বিএনপি নামক দলটিকে বাংলাদেশ থেকে আমরা নিশ্চিহ্ন করে দেব।’

দুপুরে ভোট দেয়ার পর ঢাকা-৮ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, এখন পর্যন্ত ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হচ্ছে। তবে ভোটে কোনো ধরনের কারচুপি বা ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। দুপুরে রাজধানীর ‘মির্জা আব্বাস মহিলা কলেজ ভোটকেন্দ্র’ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই সবার দায়িত্ব। নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ভোট সুষ্ঠুভাবে হচ্ছে। সুষ্ঠু না হওয়ার মতো কোনো পরিস্থিতি এখনো চোখে পড়েনি। তবে ভোটে কোনো ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং হলে তা মেনে নেওয়া হবে না।

শাপলা কলি প্রতীকের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর কেন্দ্রে এজেন্ট ঢুকতে না দেওয়ার’ অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা আব্বাস জানান, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।