দৈনিক সংগ্রামে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগীদের হামলার ৭ম বছর আজ। ২০১৯ সালের ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের দোসর ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ নামে একটি ভূঁইফোড় সংগঠনের নেতা-কর্মী পরিচয়ে কতিপয় দুর্বৃত্ত জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে অতর্কিতে রাজধানীর মগবাজারে দৈনিক সংগ্রামের প্রধান কার্যালয়ে ঢুকে নির্বিচারে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। তারা প্রবীণ সম্পাদক ও প্রকাশক, লেখক, কলামিস্ট আবুল আসাদকে লাঞ্চিত করে অন্যায়ভাবে ধরে নিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এসময় পত্রিকার কম্পিউটারসহ প্রকাশনার সমস্ত যন্ত্রাংশ অচল করে দেয়া হয়।

হামলাকারীরা প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা ধরে পত্রিকাটির অফিসের বার্তাকক্ষসহ বিভিন্ন কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর করে। তাণ্ডব চলাকালে সংবাদকর্মীরা কার্যালয়ের ভেতরে অসহায়ের মতো অবস্থান করেন। তারা পত্রিকাটির সম্পাদকের কক্ষ, বার্তাকক্ষ, চিফ রিপোর্টারের কক্ষ, সম্পাদনা সহকারী, সহ-সম্পাদকের কক্ষসহ প্রতিটি কক্ষে তাণ্ডব চালায়। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে এই হামলা চলাকালে দৈনিক সংগ্রাম কার্যালয়ের সামনে বিপুল সংখ্যক পুলিশ উপস্থিত থাকলেও তারা সেদিন সাংবাদিকদের রক্ষায় এগিয়ে আসেনি। পুলিশ সদস্যরা বাইরে থেকে হামলাকারীদের রক্ষার দায়িত্বে ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। সম্পাদক ও প্রবীণ সাংবাদিক আবুল আসাদকে জোরপূর্বক অফিস থেকে ধরে বাইরে নিয়ে পুলিশে দেয়ার পর তাকে হাতিরঝিল থানা হেফাজতে নেয়া হয়। বয়োজ্যেষ্ঠ এই সম্পাদককে থানা হেফাজতে রেখে পরদিন আদালতে পাঠানো হয়।

সেদিন বিকেল সোয়া ৫টা থেকে ‘মুক্তিযুদ্ধের মঞ্চ’ নামের ওই ভূঁইফোড় সংগঠনের নেতাকর্মীরা জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে দৈনিক সংগ্রাম মগবাজারে কার্যালয়ে প্রবেশ করে। এর আগে বিকাল থেকে ৫০-৬০ জন যুবক মগবাজার ওয়ারলেস রেল গেট সংলগ্ন সংগ্রাম অফিস অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ঘেরাও করে হুমকিমূলক স্লোগান দেয়। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কেন্দ্রীয় কমিটির নামে সংগঠনটির সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল ও সাধারণ সম্পাদক আল-মামুনের নেতৃত্বে এ ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় পত্রিকার সাংবাদিকরা যখন প্রতিদিনের মতো সংবাদপত্র প্রকাশের জন্য নিজ নিজ ডেস্কে কাজ করছিলেন ঠিক তখনই ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে গেট ভেঙে অতর্কিতে তারা অফিসে ঢুকে পড়ে। এসময় সংবাদ কর্মীরা ভয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেয়। একপর্যায়ে তারা দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে। তাদের হাতে রড-লাঠি ছিল। অফিসে ঢুকে প্রথমেই তারা সম্পাদককে খুঁজতে থাকে। এরপর তারা রড-লাঠি দিয়ে একে একে সব কয়টি কক্ষে ভাংচুর চালায়। হামলাকারীরা ৫৮টি কম্পিউটার, ৩টি টেলিভিশন, এয়ার কন্ডিশনার, পত্রিকার সার্ভার, প্রিন্টার, দরজা-জানালা আসবাবপত্র ভাংচুর করে। পত্রিকা অফিসের ভেতরে তারা প্রায় একঘণ্টা ধরে এ তা-ব চালায়। এছাড়া কক্ষগুলোতে থাকা চেয়ার-টেবিল, টেলিভিশন, এ্যালুমেনিয়ামের দরজা-জানালায় ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এরপর হামলাকারীরা সম্পাদক আবুল আসাদের কক্ষে যায়। তারা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে প্রবীণ এই সম্পাদককে। এ সময় কয়েকজন হামলাকারী সম্পাদক আবুল আসাদকে টেনে হেঁচড়ে দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত তার কক্ষ থেকে অফিসের বাইরে নিয়ে যায়। তার সাথে থাকা সহকারী মো. কামরুজ্জামানকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। হামলাকারীরা প্রবাীণ এই সম্পাদককে বিভিন্ন মিডিয়ার সামনেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। তাকে জোরপূর্বক নানা ধরনের বক্তব্য দিতে বাধ্য করে দুর্বৃত্তরা। পাশাপাশি বাতিল করা হয় দৈনিক সংগ্রামের মডিয়িা তালিকাভুক্তি।